Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ১৩:৩৭
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ১৪:৪৮
ফের দর্শকের ভিড় বাড়ছে যশোরের মণিহারে
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
ফের দর্শকের ভিড় বাড়ছে যশোরের মণিহারে

একসময়ের দেশসেরা প্রেক্ষাগৃহ যশোরের মণিহার আবারও দর্শকে গমগম করছে। ঈদের ছবি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন তারা। প্রায় এক যুগ আগে এই হলটিতে সিনেমা দেখতে হলে অগ্রিম টিকিট কাটতে হতো। ব্লাকেও টিকিট মিলতো না। কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্রের ভয়াবহ দুর্দিন শুরু হলে দর্শক খরায় ক্রমাগত লোকসান গুনতে গুনতে সেই মণিহারের অবয়ম ক্রমেই ছোট হতে থাকে। হারিয়ে যেতে থাকে সৌন্দর্য।

এক যুগ আগের সেই স্মৃতি যেন ফিরে এসেছে এবারের ঈদে। প্রতিটি শো’তেই দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে। টিকিট বিক্রি হচ্ছে ব্লাকেও। অনেকেই টিকিট না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এবারের ঈদে মনিহারে দেখানো হচ্ছে ‘বাদশা দ্য ডন’। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ সিনেমাটি বেশ ভালোভাবেই গ্রহণ করেছেন দর্শকরা।  

অনেক দিন পর সিনেমা হলে দর্শকদের এমন ভিড়ের কারণ জানতে চাইলে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান বলেন, সুস্থ ছবি ও ভালো পরিবেশ হওয়ার কারণে হয়তো মানুষ আবার সিনেমা হলমুখি হচ্ছে। বিনোদন থেকে মানুষ সরে যায়নি। দীর্ঘদিন ভালো মানের সিনেমা তৈরি না হওয়ায় মধ্যত্তিরা সিনেমা হলে যেত না। তাদের কাছে একমাত্র টেলিভিশনই হয়ে ওঠে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এবার রুচিসম্মত সিনেমা তৈরি হওয়ার কারণে মানুষ তা দেখতে হলে যাচ্ছে।  

মণিহার সিনেমা হলের কর্মকর্তা প্রদীপ দাস বলেন, এবার ঈদে মণিহার ভালো ব্যবসা করেছে। প্রতিদিন প্রচুর দর্শক আসছে সিনেমা দেখতে। তার ধারণা, এ বছর ঈদে সবাই দীর্ঘ ছুটি পেয়েছে। এ কারণে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে সিনেমা উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে সবাই। কালোবাজারে টিকিট বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুপুরের শো-তে প্রচুর দর্শক হচ্ছে। এ কারণে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি ঠেকানো যাচ্ছে না।  

মণিহার সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী মাসুদ পারভেজ বলেন, অনেক দিন পর এবার ঈদে মণিহারে সিনেমা দেখতে এসেছি। ৫০ টাকার টিকিট ব্লাকে ৬০ টাকায় কিনতে হয়েছে। তারপরও সিনেমাটি দেখে টাকা উসুল হয়েছে। সিনেমাটি ভালো লেগেছে। তিনি বলেন, এরকম সিনেমা নির্মাণ হলে মানুষ আবারও হলমুখি হবে। যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষার্থী সজীব জানান, রবিবার রাতের শো দেখতে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। কারণে সিনেমা হলে গিয়ে তিনি টিটিক পাননি। তার সঙ্গে থাকা বন্ধু তৌহিদুল ও মাহবুবও ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক দিন পর বাংলাদেশের সিনেমা যেন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কয়েকদিন পর ভিড় কিছুটা কমলে বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা দেখতে আবারও মণিহারে যাবেন বলে তিনি জানান।  

তবে অনেকেই বলেছেন, প্রতি ঈদের পর শহরের পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কিন্তু গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হানার ঘটনার কারণে এ বছর যশোরে সেরকম কোনো অনুষ্ঠান হয়নি। পাড়া-মহল্লার এ ধরণের অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত মানুষ বিনোদনের জন্য এবার সিনেমা হলে ভিড় জমাচ্ছেন।

দেড় যুগ আগেও যশোরে সিনেমা ব্যবসা ছিল জমজমাট। কিন্তু বর্তমানে জেলায় মাত্র পাঁচটি সিনেমা হল চালু রয়েছে। এরমধ্যে মণিরামপুরে দুটি, শার্শার বাগআঁচড়ায় একটি, অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় একটি ও যশোর শহরের মণিহার সিনেমা হলটি। শহরে তসবির মহল নামে আরও একটি সিনেমা হল চালু ছিল। কিন্তু গত রমজান মাসে অশ্লীল সিনেমা চালানোয় ভ্রাম্যমাণ আদালত সিনেমা হলটি সিলগালা করে দেয়।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১৩ জুলাই, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow