Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫২ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫৪
'মডেলিং আমাকে শেষ করে দিয়েছে'
অনলাইন ডেস্ক
'মডেলিং আমাকে শেষ করে দিয়েছে'
ছবি: বিবিসি থেকে

মডেলিংয়ের কল্যানে কিশোরী বয়সেই সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়িয়েছেন ভিক্টোরি ডক্সেরি। থাকতেন পাঁচ তারকা হোটেলে।

‘দিওর’ ব্র্যান্ডের পোশাক ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু এই মডেলিংই তাকে ঠেলে দেয় আত্মহত্যার দিকে। চেষ্টাও করেছিলেন। তবে বেঁচে গেছেন। মডেলিংয়ের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফিগার পেতে গিয়ে ‘অ্যানেরক্সিয়া’ রোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপরই সিদ্ধান্ত নেন আত্মহত্যার।

বিবিসি রেডিও ফোর-এর একটি অনুষ্ঠানে তিনি তার মডেলিং জগতের অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, একবার এ জগতে পা রাখলে কারও পক্ষে এখান থেকে বের হওয়া কঠিন। চাইলেও এই জগত থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।

মডেলিংয়ে যখন পা রাখেন তখন ভিক্টোরি ডক্সেরি ১৮ বছরের কিশোরী। প্যারিসের রাস্তায় তাকে খুঁজে বের করেন মডেলিং প্রতিষ্ঠানের এক কর্তা।
ডক্সেরি বলেন, মডেল হবার কোন ধরণের ইচ্ছাই আমার ছিল না। ওই লোকটি আমাকে বললো, তুমি কিন্তু পরবর্তী ক্লদিয়া স্কিফার হতে যাচ্ছ, সে যোগ্যতা তোমার আছে। সদা হাস্যোজ্জ্বল ও নিষ্পাপ মুখে আপনি সহজেই অন্যদের দিয়ে কাজ করাতে পারবেন এবং আপনার চারপাশে থাকবে বহু পুরুষ যাদের অনেক ক্ষমতা রয়েছে। একটা পর্যায়ে তাই ওই লোকটির কথায় রাজি হই। আমার উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং ৫৬ কেজি ওজন ছিল। মডেল হবার জন্য ওজন কমিয়ে ৪৭ কেজিতে আনতে হয়েছিল। এই কারণে আমার ক্ষুধামন্দা রোগ তৈরি হয়। আপেল থেকে শুরু করে অদ্ভূত সব খাওয়া-দাওয়া করতে হতো আমাকে। তাদের নির্দেশনার বাইরে কোন ধরণের খাবার ও ওষুধ গ্রহণ করতে পারতাম না আমি। অন্য মডেলদেরও আমার মতো অবস্থা। এক্ষেত্রে আপনি মডেলিং ছেড়ে দিতে চাইলেও তারা সেটি আপনাকে করতে দেবে না। কারণ আপনি তো তাদের জন্যই অনেক টাকা উপার্জন করেন।

সাবেক এ মডেল বলেন, আমাকে তিন মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। এক পর্যায়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং মরে যাবার চেষ্টাও করলাম। এই পৃথিবীতে থাকতে পারছিলাম না ঠিকভাবে এবং এই অবস্থা থেকে বেরও হতে পারছিলাম না। মডেলিং আপনাকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলবে এবং শারীরিকভাবেও তিলে তিলে আপনাকে শেষ করে দেবে।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow