Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ১৩:২৯
আপডেট : ১৬ জুলাই, ২০১৬ ১৩:৩৬
তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান এবং ...
আলী রিয়াজ
তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান এবং ...
ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের (চলমান) সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে ইস্তানবুলে সরকারের পক্ষে যে লক্ষ মানুষ পথে নেমে এসেছে সেটা প্রধানত সম্ভব হয়েছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের দেয়া এক সাক্ষাৎকারের কারণে; সিএনএন’র তুর্কি ভাষার টেলিভিশন স্টেশনকে তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন যখন প্রায় ধরেই নেয়া হচ্ছিলো যে অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। সেখানেই তিনি সাধারণ মানুষকে পথে নামতে ডাক দেন, অনুরোধ করেন বিমান বন্দরে যেতে। তাঁর সমর্থকরা বিমান বন্দরে যাবার কারণেই এরদোয়ান ইস্তানবুলে ফিরতে পেরেছেন। তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন আই ফোনের ফেইস টাইমের মাধ্যমে। আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে চাইলেই তথ্যের প্রবাহের ওপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না এটা আরেকবার প্রমাণিত হল। কিন্ত এই ঘটনার আরেকদিক হচ্ছে এই যে, একজন কর্তৃত্ববাদী শাসক হিসবে গত বছরগুলোতে এরদোয়ান গণমাধ্যমের ওপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন, সাংবাদিকদের ওপরে চালিয়েছেন নির্যাতন।  

মে মাসের গোড়াতে প্রকাশিত এক খবরে দেখা যায় দেশের শীর্ষ স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি সপ্তাহেই দুই একবার আদালতে হাজির হতে হয়, একাধিক সাংবাদিক হত্যার ঘটনাও ঘটেছে, দেশের অস্থিতিশীল দক্ষিন-পুর্বে কুর্দী সাংবাদিকদের পেটানোর বা আটকের ঘটনা ঘটছে অহরহ, বিদেশী সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনার শিকার হন অথবা তাঁদের জোর করে বের করে দেয়া হয়। বিরোধীদের মালিকানাধীন গণমাধ্যম জোর করে বা কৌশলে সরকারের সমর্থকদের দখলে তুলে দেয়া হয়েছে। এরদোয়ানের ভরসা ছিলো সরকারী গণমাধ্যমের ওপরে যারা কেবল তাঁর গুনগানেই ব্যস্ত। কিন্ত নিয়তির পরিহাস এই যে, তাঁর সবচেয়ে বিপদের দিনে তাঁর সাক্ষাৎকার প্রচার করেছে দেশে চালু থাকা একটি বিদেশি গণমাধ্যম। আর সে কারণে এখন সেনারা ‘সিএনএন টার্ক’ চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। [সংযোজন: সিএনএন তার্ক আবার চালু হয়েছে]

 

(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

 

লেখক: অধ্যাপক, ইলিনয় স্টেট ইউনভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১৬ জুলাই, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow