Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৩৮
অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং 'অবিশ্বাস্য' কিছু গল্প
অনলাইন ডেস্ক
অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং 'অবিশ্বাস্য' কিছু গল্প

চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী সমাধান ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন বা অঙ্গ প্রতিস্থাপন। মৃত্যুর পর অঙ্গ দান করার জন্য প্রচার চলছে সর্বত্র।

ফলও মিলতে শুরু করেছে, প্রাণ বাঁচছে অসংখ্য মানুষের। এই অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে অদ্ভুত সব গল্প। এর মধ্যে বেশ কিছু মজাদার, আবার বেশ কিছু দুঃখের। আবার বেশ কয়েকটি গল্প বিশ্বাস করাই কষ্টকর। দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু অদ্ভুত গল্প।

- ৫৭ বছরের জিমি সু জন্মেছিলেন একটিমাত্র কিডনি নিয়ে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই কিডনিটি কাজ করা বন্ধ করলে শুরু হয় ডায়ালিসিস। স্বামী এবং তিন সন্তানের কারও সঙ্গে কিডনি ম্যাচ না করায় জিমির স্বামী ৭৮ বছরের ল্যারি সুইলিং একটি বিলবোর্ডে কিডনির আবেদন জানিয়ে আমেরিকার পথে পথে ঘুরতে থাকেন। অবশেষে ২০১৩ সালে পাওয়া যায় কিডনি। প্রতিস্থানের পর এখন সুস্থ জিমি।

- অঙ্গ প্রতিস্থানের পর ডেমি লি’র সঙ্গে যা ঘটেছিল, তেমনটা আর কখনও ঘটেনি। ১৫ বছরের লি’র লিভার ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট করা হয়েছিল। দিব্যি ছিল কিশোরী। ন’মাস পর হঠাৎ-ই শরীর খারাপ হতে শুরু করে। পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা দেখেন, রাতারাতি বদলে গেছে লি’র ব্লাড গ্রুপ! ছিলেন 'ও' পজিটিভ, হয়ে গেছেন 'ও' নেগেটিভ। এর ফলে পুরনো ওষুধ উল্টো কাজ করছে তার শরীরে। কোনও ক্রমে প্রাণ বাঁচলেও আজীবন ওষুধই ভরসা লির।

- অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অন্যতম করুণ কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে নিউইয়র্কের ডেবি স্টিভেন্সের সঙ্গে। ৪৭ বছরের স্টিভেন্স কিডনি দান করেন নিজের মরণাপন্ন বসকে। পরিবর্তে চাকরিতে যোগ দিয়ে পরের দিনই স্টিভেন্সকে বরখাস্ত করেন তার বস। মর্মাহত স্টিভেন্স বলেছিলেন, “আমি বসকে আমার কিডনি দিলাম, পরিবর্তে বস আমার জীবনটাই নিয়ে নিলেন। ”

- ডায়ালিসিস চলছিল ভাইয়ের। দরকার ছিল কিডনির। কিডনি দিতে রাজি ছিল তার বড় ভাই। কিন্তু শর্তসাপেক্ষে। কী সেই শর্ত? ম্যান ইউ সমর্থক বড় ভাই কিডনির পরিবর্তে ম্যান সিটি সমর্থক ভাইকে দিয়ে হলফনামা লিখিয়ে নেন আজীবন ম্যান ইউকে সমর্থনের।

- প্রতিস্থাপনের জন্য তখন সব কিছু তৈরি। পাওয়া গিয়েছে ভাইয়ের কিডনিও। কিন্তু অপারেশনের ঠিক আগের দিন এক নার্স ভুল করে কিডনিটি ফেলে দেন। নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্য কিডনির ব্যবস্থা করে রোগীকে বাঁচিয়ে তোলে। কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধেই চিকিৎসায় গাফিলতির মামলা করেন রোগী।

- লসট্রিডিয়াম ডিফিসিল নামক পেটের মারাত্মক রোগে ভুগছিলেন এক ব্যক্তি। অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, তাকে সব সময়ে হুইলচেয়ারে বসে ডায়াপার পরে থাকতে হত। কোনও চিকিৎসা কাজ না করায় আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে ঢলে পড়ছিলেন। নিরূপায় হয়ে এক অদ্ভুত প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। না, কোনো অঙ্গ প্রতিস্থাপন নয়, রোগিনীর কোলনে প্রতিস্থাপিত হয় তার স্বামীর মল। এবং সবাইকে আশ্চর্য করে মাস খানেকের মধ্যেই একেবারে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

- হৃদপিণ্ড একেবারেই কাজ করছিল না সনি গ্রাহামের। সেই সময়ে ৩৩ বছরের আত্মঘাতী টেরি কটলের হার্ট প্রতিস্থাপিত হয় সনির বুকে। ১৯৯৫ সালের সেই ঘটনার পর টেরির স্ত্রীকে বিয়ে করেন সনি। ২০০৭ সালে টেরির মতো একইভাবে আত্মঘাতী হন সনি।

- ২৫ বছরের তরুণী অ্যাশলে ম্যাকিনটায়ার রেডিওয় এক মরণাপন্ন রোগীর কিডনির আবেদন শুনে সাহায্য করতে যান। সম্পূর্ণ অচেনা ওই ব্যক্তিকে নিজের একটি কিডনি দিয়ে বাঁচিয়ে তোলেন। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় অ্যাশলের। এখন তাদের এক বছরের মেয়েকে নিয়ে সুখে রয়েছেন দম্পতি।

- তুরস্কের মেলিহা আকভির কিডনি হঠাৎ-ই কাজ করা বন্ধ করে দেয়। চলতে থাকে চিকিৎসা। সেই সময়ে মেলিহার স্বামী অন্য এক নারীর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন। কিডনি প্রতিস্থাপন যখন আবশ্যক হয়ে পড়ে, তখন সেই নারী, আইসে ইমদাত নিজের একটি কিডনি দিয়ে মেলিহাকে বাঁচিয়ে তোলেন। এর পর মেলিহার স্বামীর সঙ্গে বিয়ে হয় আইসের। কিডনির সঙ্গে স্বামীকেও ভাগ করে নিয়েছেন তারা।

- স্ত্রীর কিডনি কাজ করা বন্ধ করায় নিজের কিডনি দিয়ে তাকে বাঁচান মার্কিন চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। মাস কয়েক পরেই স্ত্রীর কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ পান রিচার্ড। নোটিশের উত্তরে স্ত্রীর কাছ থেকে কিডনি অথবা ১৫ লক্ষ ডলার ফেরত চান তিনি। কিডনি অবশ্য ফেরত পাননি রিচার্ড।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow