Bangladesh Pratidin

ফোকাস

  • চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার, আরও থাকতে পারে: আইজিপি
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:৫১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:৫১
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত রামরায় দিঘি
আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও
অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত রামরায় দিঘি

রং-বেরঙের অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ঐতিহাসিক রামরায় দিঘি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমনে দৃষ্টি নন্দন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে ।স্থানীয় বাসিন্দারা এই পাখিদের প্রতি সদয় দৃষ্টি রাখছে অতিথির ন্যায়।

প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও হাজারো পাখি এসে আশ্রয় নিয়েছে রামরায় দিঘিতে। বিশাল এ পুকুরের পানি জুড়ে অতিথি পাখির বিচরণ আর কলকাকলীতে মুখরিত হয়ে উঠেছে রামরায় দিঘির শান্ত পরিবেশ। দেখলে মনে হবে কোনো সৌখিন ব্যক্তির হাঁস বা পাখির ফার্ম। এ দৃশ্য দেখতেই মন জুড়িয়ে যায়। হাজার হাজার পাখির আগমনে পুরো দিঘির এলাকা পাখির রাজ্যে পরিণত হয়েছে। আর এসব পাখি দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে শত শত নারী পুরুষ ও শিশু। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও নারীদের সংখ্যাই বেশি। দর্শনার্থীরা এসেই মোবাইল ফোনে ছবি তোলা আর সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

সারাদিন দিঘির পানিতে সাতার কাটলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই দিঘির পাড়ে লিচু গাছে আশ্রয় নেয় অতিথি পাখিগুলো। আবারো ভোর হলে পুনরায় খাবারের সন্ধানে দিঘির পানিতে নেমে পড়ে ঝাঁক বেঁধে। এ যেন অতিথি পাখির মিলনমেলা। এসব দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে রামরাই দিঘিতে ছুটে আসছেন পাখিপ্রেমীরা।

পাখি দেখতে আসা ভুমি রায় জানান, শুনেছিলাম এই দিঘিতে নাকি অনেক পাখি আসে। কিন্তু এর আগে তা দেখিনি। তাই সচোখে দেখতে আসা। এত পাখি একসঙ্গে কোনদিন দেখিনি। একবার দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। 

স্থানীয় বাসিন্দা আলী আহসান হাবীব বলেন, সারাদিন অনেক মানুষ আসে এসব অতিথি পাখি দেখার জন্য। পাখিদের কল-কাকলিতে মুখরিত হয়ে আছে দিঘি এলাকা। এলাকাবাসী সজাগ থাকেন কেউ যেন এদের শিকার করতে না পারে। 

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সইদুল হক বলেন, পাখির আগমনে ঐ এলাকার যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি প্রকৃতির ভারসাম্যও রক্ষা হচ্ছে। এই পাখিগুলো যাতে কেউ শিকার করতে না পারে সেজন্য আমরা এলাকাবাসী সকলে আন্তরিক।

রানীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী আফরিদা জানান,এই পাখিগুলো আমাদের এই রানীশংকৈলের রামরাই দিঘির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। পাখিগুলো প্রতি শীতকালেই আসে। এদেরকে শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই সকলকে অতিথি পাখি শিকার না করার আহ্বান জানান তিনি। 

রামরায় দিঘি বরেন্দ্র ভূমিতে প্রাচীন জলাশয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম দিঘি। ৯০০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৫৫০ মিটার আয়তনের এ প্রাচীন দীঘির গভীরতা ৮.৯ মিটার। ৫২ দশমিক ২০ একর জমি জুড়ে এই রামরায় দিঘি। পুকুরের জলভাগের আয়তন ৩৩ দশমিক ৮৬ একর এবং পাড় ১৮ দশমিক ৩৪ একর।

বিডি-প্রতিদিন/২১ জানুয়ারি, ২০১৯/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow