Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:০৫
সুসম উন্নয়ন টার্গেটে কাল বাজেট
মানিক মুনতাসির
সুসম উন্নয়ন টার্গেটে কাল বাজেট

মধ্য আয়ের দেশ গড়ার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও আয়বৈষম্য নিরসন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদের উন্নয়ন ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে সুসম উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গ্রামীণ রাস্তাঘাট আর অবকাঠামোর উন্নয়ন করে প্রান্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চান তিনি। সেজন্য নতুন বাজেটে গ্রামীণ জনজীবনের মান উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সুসম উন্নয়ন আর সম্পদের সমবণ্টনের স্বপ্ন দেখাবেন তিনি এবারের বাজেট বক্তৃতায়। বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে দিতে যাচ্ছেন একটি পথনকশা। আর এর মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে স্বপ্ন দেখছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। অর্থমন্ত্রী আগামীকাল তার ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন  বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। বাজেটের খুঁটিনাটি বিষয় ঠিক করতে গত সোমবার সন্ধ্যায় অর্থ বিভাগের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ ছাড়া গতকালও অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর সামনে সাত মিনিটের একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেনটেশন দেওয়া হয়েছে বাজেটের বরাদ্দ, গ্রাফ, আয়-ব্যয়, ঘাটতিসহ সামগ্রিক বিষয়ে। সূত্র জানায়, রাজধানী, বিভাগীয় শহরের চেয়ে এ বছর জেলা-উপজেলার শহর ও গ্রামাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করতে নেওয়া হবে বিভিন্ন উদ্যোগ। এমনকি গ্রামীণ অর্থনীতি, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ অবকাঠামোর জন্য পৃথকভাবে বরাদ্দ রাখা হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকাই ব্যয় করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে। পাশাপাশি ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত ৮-এর সঙ্গে আরও কয়েকটি প্রকল্পকে যুক্ত করে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হতে পারে ১৮ হাজার কোটি টাকা। দারিদ্র্য বিমোচন আর সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো হবে ১৫ শতাংশ হারে। এজন্য এ খাতের উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এবারের বাজেটে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত বাংলাদেশ কীভাবে গড়া যায় সে বিষয়েও একটি পথনকশা বা ধারণাপত্র দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। সূত্র জানায়, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হবে। কমিয়ে আনা হতে পারে করপোরেট কর। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ বাড়বে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে ব্যবসা-বাণিজ্য চালুর নিবন্ধন ফি বাড়ানো হতে পারে। বিশাল অঙ্কের বাজেটের অর্থায়ন ঠিক রাখতে শুল্ক কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। এজন্য এনবিআরের করজাল গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পরিকল্পনা থাকছে বাজেটে। নতুন ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিলেও অর্থ বিভাগ বলছে, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। ফলে দু-একটি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের ছাড় দিয়ে হলেও ১ জুলাই থেকে এ আইন বাস্তবায়ন করতে চান অর্থমন্ত্রী। জানা গেছে, প্রথমবারের মতো তিন বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনার আলোকে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। আগামী বছর ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের আগেই দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জনকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারের শেষ বছরে অর্থাত্ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যেতে চান। তার বিশ্বাস, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে সফল আত্মপ্রকাশ করবে। এ সময়ের মধ্যে দেশে দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশের নিচে নেমে আসবে এবং মানুষের গড় আয় দাঁড়াবে ২ হাজার ডলারের কাছাকাছি। অবশ্য সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্য আয়ে দেশের তালিকায় নাম লেখাবে বাংলাদেশ।

বাজেটের অঙ্ক : আসছে বাজেটে মোট ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে অনুন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ২৯ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা। এ অর্থ ব্যয় হবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা, বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, সেবা ও সরবরাহ খাতে। এ ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মূল আকার ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৭০ হাজার ৭০০ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা হচ্ছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এবারে বাজেটে ঘাটতি ধরা হতে পারে ৯৭ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআরের করের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এটি নন-এনবিআর করের লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, কর ছাড়া প্রাপ্তি আয় হচ্ছে ৩২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৯৭ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা; যা জিডিপির ৫ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উত্স থেকে ৬০ হাজার ৭৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে শুধু ব্যাংক থেকে নেওয়া হবে ৩৭ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র খাত থেকে নেওয়া হতে পারে ২২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow