Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:২৫
চট্টগ্রামের সেই ইসহাক মিয়া
রিয়াজ হায়দার, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের সেই ইসহাক মিয়া

প্রবীণ রাজনীতিক ইসহাক মিয়া বয়সের ভারে কাবু হলেও তেজস্বিতায় যেন তরতাজা তরুণ। তরুণদের ওপর তার বিশ্বাসও অগাধ। তিনি বলেন, সততায় পুষ্ট নতুন প্রজন্মই তাদের কাঁধে নেবে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ভার। ৮৭ বছর বয়সী ইসহাক মিয়া ‘বঙ্গবন্ধুর সহচর’ হিসেবে সুপরিচিত। তাকে বলা হয় চট্টগ্রামের সবচেয়ে বয়স্ক রাজনৈতিক নেতা। বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন দীর্ঘদিন। কিছুদিন আগে তার অসুস্থতা বেশ বেড়ে যায়। শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল আকাশপথে তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকায় রওনা দেওয়ার আগে তার সঙ্গে কথা হয়। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে ইসহাক মিয়া বলেন, ‘সততার রয়েছে হীরার মতো উজ্জ্বল দ্যুতি, সেই উজ্জ্বলতা অন্ধকার দূর করে। তোমরা সৎ চিন্তায় পুষ্ট হয়ে দেশপ্রেমের শক্তিতে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে দেশ গঠনে জীবন উৎসর্গ করে দাও। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তোমরাই পারবে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে।’ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার কাটানো দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইসহাক মিয়া। জীবনসায়াহ্নে এসে সেসব স্মৃতিই এখন তার কাছে বিরাট সম্বল। ইসহাক মিয়া ১৯৭০-এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে গণপরিষদের সদস্য হয়েছিলেন। ’৫৪ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগে যুক্ত। ছিলেন চট্টগ্রামের নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর, এমএনএ এবং এমপি। নিযুক্ত হয়েছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসকও। বর্তমানে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। ত্যাগী ও পরীক্ষিত এই নেতা নিজ দলের নবীন-প্রবীণ সবার শ্রদ্ধেয়। ইসহাক মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের অত্যধিক স্নেহ ও বিশ্বাস করতেন বলেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সরকারি প্রটোকল না মেনে আমাদের তার কাছে কাছে রাখতেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার যেখানেই বঙ্গবন্ধুর কাছে গেছি, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা অফিসারদের বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘এরা আমার কবুতর, এরা আমার পাশেই থাকে।’ ইসহাক মিয়ার সংসদীয় আসনকে (চট্টগ্রাম-৮ : বন্দর-পতেঙ্গা) ‘ভিয়েতনাম’ বলে উল্লেখ করতেন। কারণ ভিয়েতনামের মতো নানা সমস্যায় এলাকাটি জর্জরিত ছিল। তাই এ আসনের সংসদ সদস্যকে দেখলেই বঙ্গবন্ধু ঠাট্টা করে বলতেন, ‘ইসহাক! তোর ভিয়েতনামের খবর কী?’ বরেণ্য রাজনীতিক মরহুম এম এ আজিজ, এনজিও মো. কামাল, তারেক আহমদসহ ১৯৫৩ সালেই বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নিজের প্রথম সাক্ষাতের সুযোগ হয়। মহান ভাষা আন্দোলনের এই কর্মী ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮-এর সামরিক সরকারবিরোধী আন্দোলন, ’৬২-এর সম্মিলিত বিরোধী দলের আন্দোলন, ’৬৮-৬৯-এর গণআন্দোলন, ’৭০-এর নির্বাচন, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ হয়ে ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদ, ’৭৯ ও ’৮৬-এর নির্বাচন, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ’৯৬ ও ২০০১-এর নির্বাচন, ২০০৭-এ ওয়ান-ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনার পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে জনমত সৃষ্টি ও কারামুক্তি আন্দোলনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন এই প্রবীণ নেতা। কারাভোগও করেছেন বার বার। ইসহাক মিয়ার জন্ম ১৯৩০ সালের ১ মে, উত্তর আগ্রাবাদের হাজীপাড়ায়। তার পিতার নাম জোনাব আলী, মাতার নাম তমিজা খাতুন। তিন ছেলে, সাত মেয়ে এবং নাতি-নাতনি নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তার। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এ অবস্থায়ও স্মৃতিশক্তি চমৎকার। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরে বঙ্গবন্ধুর সফর মানেই ছিল আমাদের খুশির দিন। আজিজদা (এম এ আজিজ), জহুর দা (জহুর আহমদ চৌধুরী)সহ আমার সহকর্মী অন্যরা গোটা দিনটাই উজাড় করে দিতাম বঙ্গবন্ধুকে।’ ইসহাক মিয়া আরও জানান, ‘৭০-এর নির্বাচনে আমার মনোনয়ন লাভ করাটাই বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় ঘটনা।

সেবার চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন অনেকেই। বঙ্গবন্ধু আমাকে বাছাই করে পার্লামেন্টারি বোর্ডে বলেছিলেন, এই সিটে আমি ইসহাককে দিলাম, বাকিগুলোতে তোমরা প্রার্থী দিয়ে দিও।’ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার পরে বঙ্গবন্ধুর চট্টগ্রাম আগমন, ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার শরীফ ‘মাইজ্জ্যা মিয়া’র বাড়িতে যাওয়া, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে অনেকটা আত্মগোপনের কথা তুলে ধরে আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে যান ইসহাক মিয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখের বেটি পারবেন। পারবেন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। আন্তর্জাতিক শক্তির চাপ উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ইতিমধ্যেই কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের স্বকীয়তা ও সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।’




এই পাতার আরো খবর
up-arrow