Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:০৮
মেগা প্রকল্পের মেগা বাজেট আজ
আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা
মানিক মুনতাসির
মেগা প্রকল্পের মেগা বাজেট আজ

‘প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা’র স্লোগান নিয়ে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে আজ। বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এমন উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ। উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী বছর মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতির চাপকে ৫ দশমিক ৮ শতাংশে ধরে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চলতি বছরের বাজেটের মূল আকার ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা।

আজ বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এই বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরবেন। বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে গতকাল। এটি আবুল মাল আবদুল মুহিতের ১০তম বাজেট। আর মহাজোট সরকারের টানা অষ্টম বাজেট। বাজেটের বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংসদের মিডিয়া সেন্টার থেকে সরবরাহ করা হবে। সেই সঙ্গে অর্থবিভাগের ওয়েবসাইট থেকেও ডাউনলোড করা যাবে। আগের বছরের মতো এবারও ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাজেট উপস্থাপন করা হবে। বিশাল অঙ্কের এই ব্যয়ের সংস্থান করতে সরকারকে বেগ পেতে হবে। এ জন্য ভ্যাট ও করের আওতা বাড়িয়ে দেশব্যাপী কর জাল বিস্তৃত করতে চান অর্থমন্ত্রী। শুল্ক স্তরেও আনা হচ্ছে ব্যাপক পরিবর্তন। ভ্যাটের আওতা বাড়াতে ও ভ্যাট ফাঁকি রোধে নতুন ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকেই বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে থাকছে নানা সুযোগ-সুবিধা। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি পণ্যকে টিকিয়ে রাখতে থাকছে বিশেষ উদ্যোগ। অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানির দ্রুত উন্নয়নে সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এ জন্য ফাস্টট্র্যাকভুক্ত আটটি প্রকল্পের সঙ্গে আরও কয়েকটি মেগা প্রকল্পকে যুক্ত করে ক্যাপিটাল বাজেট নামে পৃথক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে আজকের বাজেটে। ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বিশাল ব্যয়ের এই বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল এডিপির আকার ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। মোট অনুন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। ঘাটতি ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা।

বাজেটের আয় : বিশাল অঙ্কের এই বাজেটের অর্থায়ন করতে সরকার দেশীয় ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর ব্যবস্থা থেকে আদায় করা হবে দুই লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরের বাজেট চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ৪৫ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বেশি। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর দুই লাখ আট হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এনবিআর থেকে আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল এক লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে এবার এনবিআরবহির্ভূত কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সেবা ফি বা করবহির্ভূত উৎস থেকে আয় হবে ৩২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে ৫ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার আশা করছে সরকার। বাজেটের অর্থায়নে সরকার আগামী বছর ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে বৈদেশিক ঋণ নেওয়া হবে ৩০ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১৯ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। ব্যয়ের খাত : বিশাল অঙ্কের বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল এডিপি ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এডিপিবহির্ভূত উন্নয়ন ব্যয় ৪ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। এডিপির মেগা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ থাকতে পারে ১৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মোট অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনুন্নয়নমূলক রাজস্ব ব্যয় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ৩৮ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ করা হবে ১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা। খাদ্য ক্রয়, ঋণ পরিশোধ ও অগ্রিমসহ অন্যান্য ব্যয় ৩৫ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা। কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) খাতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট : বিশাল বাজেটে বৈদেশিক অনুদান না পেলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৯ লাখ ৬১ হাজার ১৭ কোটি টাকার ৫ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বৈদেশিক অনুদান পাওয়া গেলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৯২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ৩৮ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। এর মধ্য থেকে আগে নেওয়া বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ৮ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। ফলে বিদেশি উৎস থেকে নতুন অর্থবছরে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া দেশের ভিতর থেকে নতুন অর্থবছরে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ঋণ নেবে সরকার। সূত্র জানায়, বাজেটে করমুক্ত ব্যক্তিগত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহাল থাকছে। যা চলতি বাজেটেও রয়েছে। সরকারের আয় বাড়াতে শুল্ক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে আমদানি পর্যায়ে ১, ৫, ১০ ও ২৫ চার স্তরের আমদানি শুল্ক আছে। আগামী অর্থবছরে ১৫ শতাংশের আরেকটি নতুন স্তর তৈরি করা হচ্ছে। এনবিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন শুল্ক স্তর হবে ১, ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক হার ৪ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হতে পারে। আর আমদানি পর্যায়ে শতাধিক পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশের স্তরে থাকা কিছু পণ্য ১৫ শতাংশ শুল্ক স্তরে নেওয়া হবে। এর ফলে কিছু পণ্যের আমদানি খরচ বাড়তে পারে, আবার কিছু পণ্যের আমদানি খরচ কমতে পারে বলে জানা গেছে।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow