Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:১০
ব্যস্ততা ও হতাশা দুই দলে
জমকালো কাউন্সিল প্রস্তুতি
রফিকুল ইসলাম রনি
ব্যস্ততা ও হতাশা দুই দলে

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে ১৪টি গণতান্ত্রিক দেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলের নেতারা যোগ দেবেন। এদের মধ্যে থাকবেন ভারতের শাসক দল বিজেপি ও কংগ্রেস নেতারাও।

ইতিমধ্যে এসব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ তার ২০তম সম্মেলনকে স্মরণীয় ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তুলতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ শুরু করে। ইতিমধ্যে দুই ধরনের পোস্টার ছাপা হয়েছে। কাউন্সিলে এবারের স্লোগান ‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার/এখন সময় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’। সম্মেলনের ডাক শিরোনামে পোস্টার আজকালের মধ্যে সারা দেশে পাঠানো হবে। দলের গঠনতন্ত্রেও আসছে যুগোপযোগী পরিবর্তন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল আগামী ১০ ও ১১ জুলাই। ওই সম্মেলনে বিদেশি অতিথি ছাড়াও দেশের ৩০ হাজার ডেলিগেট ও কাউন্সিলর এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ‘অতিথি’ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। দলের সভাপতির উদ্বোধনী ভাষণ এবং সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশ করার পর বিদেশি অতিথিরা বক্তৃতা করতে পারেন। সে ধরনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় অধিবেশনে জেলা নেতাদের বক্তব্য শুনবেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪টি দেশের ৪৫ জন নেতাকে ইএমএসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সই করা আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী ১৫ জুনের মধ্যে সম্মেলনে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। দলীয় প্রধানদের উদ্দেশে লেখা এ চিঠিতে নিজে উপস্থিত থাকতে না পারলে দলের পক্ষে একজন প্রতিনিধি পাঠাতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে ওই তিন নেতার মোবাইল ফোন নম্বর ও ই-মেইল আইডি দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ বর্তমান প্রেক্ষাপটে আগামী সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে তাদের সম্প্রতি গড়ে ওঠা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী। তাই সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিজেপির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায়। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল আগামী সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্রভাবশালী ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন এবং প্রধান বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায়। এসব দেশের সঙ্গে নানা কারণে সৃষ্ট আওয়ামী লীগ এবং বর্তমান সরকারের টানাপড়েন সম্মেলনে তাদের দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কমে আসবে বলে তারা মনে করছেন।  

জানা যায়, আমন্ত্রণ জানানো নেতাদের মধ্যে আছেন ভারতের ২০ জন। দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি, বিরোধী দল কংগ্রেস, সিপিআইএমসহ বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা দলের সভাপতিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সিপিআইএম নেতা প্রকাশ কারাত ও সীতারাম ইয়েচুরি, পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম নেতা বিমান বসু, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লকের প্রধান দেবব্রত বিশ্বাস, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআইএম প্রধান মানিক সরকার, ত্রিপুরা কংগ্রেসের সভাপতি আশীষ কুমার সাহা, আসাম ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল, আসাম গণপরিষদের প্রফুল্ল কুমার মহন্ত, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়ারাম, দিল্লির আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দাওয়াত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মণিপুর পিপলস পার্টি, নাগাল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট, মেঘালয়ের ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টি ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি, অরুণাচল কংগ্রেস, মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট, বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দল ও উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির সভাপতিকে।

জানা গেছে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি, যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টি, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি, অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টি ও রিপাবলিক পার্টি, কানাডার কনজারভেটিভ পার্টি ও নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি, রাশিয়ার ইউনাইটেড রাশিয়া ও রিপাবলিকান পার্টি অব রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, জাপানের ডেমোক্রেটিক পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জার্মানি ও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি ও নেপালি কংগ্রেস, শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি ও আইটিএকে এবং মালয়েশিয়ার ইউএমএনও, পিপলস জাস্টিস পার্টির প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অভ্যর্থনা উপ-কমিটি সূত্রে জানা যায়, অতিথিদের পাঠানো অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে রয়েছে সম্মেলনের আগের দিন ৯ জুলাই সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ, ১০ জুলাই সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে মধ্যাহ্নভোজ, পরে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন, ১১ জুলাই জাতীয় জাদুঘর এবং কয়েকটি গার্মেন্ট ও ওষুধ কারখানা পরিদর্শন, সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নৈশভোজ। ১২ জুলাই অতিথিদের বিদায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো অতিথি আরও বেশি সময় অবস্থান করতে চাইলে ব্যবস্থা করবে ক্ষমতাসীন দল। অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলটির গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র যুগোপযোগী করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে গঠিত উপ-পরিষদ। ঘোষণাপত্রে দেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হবে। আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে তাতে। সে অনুযায়ী সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি গৃহীত হবে।

গঠনতন্ত্র আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য বিশ্বের প্রাচীন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ভারতের কংগ্রেস, ব্রিটেনের লেবার পার্টি ও কনজারভেটিভ পার্টি, কানাডা-অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর গঠনতন্ত্রকে রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশোধনী রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে। গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদ আগামী ১৫ জুনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট চূড়ান্ত করবে। জানতে চাইলে গঠনতন্ত্র উপ-পরিষদের সদস্যসচিব আফজাল হোসেন বলেন, গঠনতন্ত্র পরিষদের বৈঠক করে আমরা আমাদের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি। এরই মধ্যে গঠনতন্ত্র সংশোধন নিয়ে তৃণমূলের মতামত চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মতামত নিয়েই আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

দলের সূত্রে জানা গেছে, এবার সম্মেলনের মঞ্চ ও সাজসজ্জায় নতুনত্ব আনা হবে। মঞ্চ বরাবরের মতোই নৌকা আকৃতির হবে। ইতিমধ্যে দলীয় সভাপতিকে মূল মঞ্চ ও প্রধান গেটের ফলকের ডিজাইন দেখানো হয়েছে। রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখে তৈরি করা হবে রঙবেরঙের তোরণ। রাজধানীজুড়ে টানানো হবে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, যেখানে তুলে ধরা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্জনসহ বর্তমান সরকারের সফলতা ও নানা কর্মকাণ্ড। আর সম্মেলনের ১৫ দিন আগে থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশ দুই ধরনের পোস্টারসহ আওয়ামী লীগের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাফল্যগাথা নিয়ে তৈরি করা ডিজিটাল ব্যানার দিয়ে সাজানো হবে।

জানতে চাইলে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির আহ্বায়ক এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাকে উৎসবের নগরীতে পরিণত করা হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী, সরকার ও দলের অর্জনও দেশবাসীকে জানানো হবে। সারা দেশ থেকে আসা কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা, নিরাপত্তার জন্য নেওয়া হচ্ছে সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা। মেডিকেল টিম তৈরি করা হচ্ছে। থাকবে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক।

প্রচার উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজকালের মধ্যে সম্মেলনের ডাক ‘উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার/এখন সময় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’ শিরোনামের পোস্টার বিলি করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow