Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:২২
রাজাকার মহিবুরের ফাঁসি, দুই ভাইয়ের আমৃত্যু জেল
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার রাজাকার মহিবুর রহমান ওরফে বড়মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই মামলায় তার ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়া এবং চাচাতো ভাই আবদুর রাজ্জাককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী। ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়েছে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে বড়মিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে সরকার। আসামিদের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে হত্যার দায়ে বড়মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড ও তার দুই ভাইকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি তিন অভিযোগে তিন আসামিকেই মোট ৩৭ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। ২৪০ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারপতি পর্যায়ক্রমে পড়ে শোনান। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ২৪তম মামলার রায়। উল্লেখ্য, বিচার প্রক্রিয়া শেষে গত ১১ মে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। গত মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। সেই অনুযায়ী গতকাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় তিন আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত করা হয়। এই আসামিরা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় গঠিত রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ কর্ম করেন।

আপিল করবে আসামি পক্ষ : এ রায়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে আসামি পক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন। নিয়ম অনুযায়ী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের আবেদন করা যাবে। তবে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেছেন, এই রায়ে আমরা আনন্দিত। আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় জাতি সন্তুষ্ট।

অপরাধনামা : অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ হলো, এরা ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর বানিয়াচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আকল আলী ও রজব আলীকে হত্যা করে লাশ গুম করেন। দ্বিতীয় অভিযোগ, আসামিরা পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মেজর জেনারেল এম এ রবের বাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ করেন। তৃতীয় অভিযোগ, একাত্তরে তারা খাগাউড়া এলাকার উত্তরপাড়ায় আসামিদের সহযোগিতায় পাকিস্তানি বাহিনী মঞ্জব আলীর স্ত্রী ও আওলাদ ওরফে আল্লাত মিয়ার ছোট বোনকে ধর্ষণ করেন। পরে আল্লাত মিয়ার বোন বিষপানে আত্মহত্যা করেন। চতুর্থ অভিযোগ, একাত্তর সালের ভাদ্র মাসের যে কোনো একদিন আনছার আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন চালান আসামিরা। ওই নির্যাতনে পঙ্গু হন আনছার আলী। আদালত, দ্বিতীয় অভিযোগে আসামিকে ১০ বছর করে, তৃতীয় অভিযোগে ২০ বছর করে এবং চতুর্থ অভিযোগে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর চারটি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই তিন ভাইয়ের বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয় ২১ অক্টোবর। ২০০৯ সালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার স্ত্রী ভিংরাজ বিবি হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ তিনজনসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন। পরে মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow