Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৪
রিজার্ভ কেলেঙ্কারি তদন্তে এবার মার্কিন কংগ্রেস
ফিলিপাইনে তিন কোম্পানির সনদ বাতিল
নিজস্ব প্রতিবেদক
রিজার্ভ কেলেঙ্কারি তদন্তে এবার মার্কিন কংগ্রেস

ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট বা হিসাব থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার চুরি হওয়ার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটি। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত তিন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল সিএনবিসির খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব সায়েন্স কমিটির চেয়ারম্যান লামার স্মিথ গত মঙ্গলবার নিউইয়র্ক ফেড-এর প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডাডলির কাছে এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ চুরির ঘটনা সংক্রান্ত ‘সব কাগজপত্র এবং যোগাযোগ তথ্য’ চেয়ে পাঠান। কমিটি নিউইয়র্ক ফেড-এর কাছে এও বলেছে, সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ড ইন্টার ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল  টেলিকমিউনিকেশন) সিস্টেমে কোনো ত্রুটি ছিল কিনা- ১৪ জুনের মধ্যে এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র দিতে হবে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সাইবারের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির ঘটনা     ঘটে। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায় আর বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার গেছে ফিলিপাইনে। তবে শ্রীলঙ্কা থেকে দুই কোটি ডলার ফেরত পাওয়া গেছে। এদিকে নিউইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি করে ফিলিপাইনে পাঠানোর পর যে তিন প্রতিষ্ঠান তা হংকংয়ে পাচার করে দেয়, সে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিল করেছে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— রেমিট্যান্স লেনদেন কোম্পানি ফিলরিম, পেসো রেমিট্যান্স এক্সপ্রেস ও ওয়ারকুইক। গতকাল ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠান তিনটির লাইসেন্স বাতিল করে। একই সঙ্গে ফিলরিমের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, চুরি করা অর্থের মধ্যে ফিলরিমই মূলত হংকংয়ে ৪৬ মিলিয়ন ডলার পাচার করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৭ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছে বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, ফিলিপাইনের রেমিট্যান্স লেনদেন কোম্পানি ফিলরিমের মাধ্যমেই পুরো অর্থ পাচার হয় হংকংয়ে। প্রতিষ্ঠানটি কোনো প্রশ্ন ও তথ্য-প্রমাণ না রেখেই এই বিশাল পরিমাণ অর্থ পাচার করে। ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করায় ফিলরিমের প্রেসিডেন্ট স্লুইড বাতিস্তাকে দেশটির সিনেট কমিটি জিজ্ঞাসাবাদ করে। ঘটনার পরপরই প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সিনেট। সে সময় বাতিস্তা বাংলাদেশকে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ তা নিতে অস্বীকার করেছিল। বাতিস্তা এখনো পুলিশি নজরদারিতে রয়েছেন। দেশত্যাগের ওপর তার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অর্থ পাচারে ফিলরিমের সঙ্গে সহযোগিতা করে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান দুটির লাইসেন্সও বাতিল করা হলো। লাইসেন্স বাতিল করে ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো রেমিট্যান্স লেনদেন নীতিমালা ভঙ্গ করে হংকংয়ে অর্থ পাচার করে। কোনো প্রশ্ন না করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের কাছে এসব অর্থ পাঠানো হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির সঙ্গে ফিলিপাইনের একাধিক প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার প্রমাণ পায় কর্তৃপক্ষ। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করে বাংলাদেশকে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করছে তারা। দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) ও দুটি ক্যাসিনোর বিরুদ্ধেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow