Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুন, ২০১৬ ২৩:৪৬
খরচ বাড়ছে ফোন কলে
মানুষ থাকবে করের চাপে
রুহুল আমিন রাসেল

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে মাসে ১৬ হাজার টাকা বেতন পাওয়া ব্যক্তিদের আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। তবে বাড়েনি করমুক্ত আয়ের সীমা। পরিবর্তন হয়নি ন্যূনতম কর হারেও। টার্গেট আছে— আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নতুন তিন লাখ করদাতা তৈরির। এভাবেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড— এনবিআরের কাঁধে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন নামে এই কর জনগণের কাছ থেকে নেবে সরকার। ফলে চাপ সামলাতে হবে সাধারণ মানুষকেই। আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আদায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে দিয়ে ২০১৭ সালের ১ জুলাই এবং নতুন প্রত্যক্ষ কর আইন আগামী ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। গতকাল জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়— বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যা লজ্জাকর। তাই আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে— নতুন অর্থবছরেই করদাতার সংখ্যা বর্তমানের ১২ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখে উন্নীত করা। তার দাবি—সারা বিশ্বের মধ্যে কর-জিডিপির অনুপাত বাংলাদেশে অন্যতম নিম্নস্তরে রয়েছে। বাংলাদেশে কর-জিডিপির অনুপাত ১০ দশমিক ৩ শতাংশ হলেও, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এই হার ২০ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত। নতুন বাজেটে কর পরিপালন বৃদ্ধি ও কর ফাঁকি বন্ধে ১৬ হাজার টাকা বা তার অধিক বেতন স্কেলভুক্ত সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারীর জন্য আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

করমুক্ত আয়সীমা বাড়েনি : নতুন অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ও ন্যূনতম করহারে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে চলতি অর্থবছরের মতোই আগামী অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকাই থাকছে। ন্যূনতম করহারেও চলতি অর্থবছরের মতোই অঞ্চল ভিত্তিক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যমান কোম্পানি করহার বহাল রেখে বিড়ি, জর্দা ও গুলসহ সব তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানির করহার ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। কোম্পানির ক্ষেত্রে অন্যান্য করহারে চলতি বছরে যা ছিল, তাই থাকছে নতুন অর্থবছরে। উেস করফাঁকি বন্ধে রিটার্ন অডিট ও মনিটরিং জোরদার করা হবে। ব্যক্তি করদাতাদের নিট সম্পদের ওপর আরোপিত সারচার্জ হার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এতে নিট সম্পদের মূল্যমান ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা অতিক্রম করলে ন্যূনতম সারচার্জের পরিমাণ ৩ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা—এসএমইতে কর অব্যাহতির সীমা ৩০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে মার্জিনঋণ ও সুদের ওপর ১০ লাখ টাকা কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্পে কর কমেছে : দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাকশিল্পের অবদান বিবেচনায় নিয়ে করপোরেট করহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

আবাসনশিল্পে কর সুবিধা : নগরের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে আনতে জেলা শহরগুলোতে পরিকল্পিত আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন করতে চায় সরকার। তাই সিটি করপোরেশনের বাইরে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন এবং দেশের যে কোনো স্থানে ছোট আবাসন নির্মাণে হ্রাসকৃত হারে উেস কর সুবিধা দেওয়া হবে।

কর দিবস ৩০ অক্টোবর : বর্তমানে প্রতিবছর ৩০ সেপ্টেম্বর আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্ধারিত থাকলেও প্রতিবছরই একাধিক বার সময় বাড়ানো হয়। এতে রাজস্ব আদায় পিছিয়ে যায়। কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশে রিটার্ন দাখিলে ডেটলাইনের বিধান আছে। আগামীতে বাংলাদেশেও রিটার্ন দাখিলের জন্য একটি অপরিবর্তনীয় ডেটলাইন থাকবে। যা কর দিবস নামে অভিহিত হবে। সাধারণভাবে ৩০ অক্টোবর হবে এই কর দিবস, তবে এ দিন সরকারি ছুটি থাকলে, পরবর্তী কর্ম দিবসেই হবে কর দিবস।

ভ্যাট আইনে পিছুটান : নতুন অর্থবছরে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরে আপাতত পিছু হটেছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ আইনটি কার্যকরে এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি যথাযথ নয়। এ কারণে নতুন ভ্যাট আইন ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। তবে, এটি ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে। আমাদের লক্ষ্য কিন্তু বদলে যায়নি। আমরা আইনটি পুরোপুরি কার্যকর করব এক বছর পরে। এ আইনটি কার্যকরে বেশ কিছু বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে।

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনে ভ্যাট : যে কোনো সংবাদপত্রে  শ্রেণিভুক্ত (ক্লাসিফাইড) বিজ্ঞাপন দিলে সরকারকে ভ্যাট দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংবাদপত্রে প্রকাশিত ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপনের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ফলে মৃত্যু সংবাদজনিত বিজ্ঞাপন ছাড়া পত্রিকায় প্রকাশিত অন্যান্য সব ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপনের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করে ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপনকে ভ্যাটের আওতায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্লাসিফাইড বিজ্ঞাপন বলতে— জন্মদিন, বাড়ি ভাড়া, পাত্র-পাত্রী, হারিয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিজ্ঞাপনকে  বোঝায়।

মোবাইল ফোনে কথা বলায় খরচ বাড়ছে : মোবাইলে কথা বলার ওপর খরচ বাড়ছে। ঘোষিত বাজেটে সিম বা রিম কার্ডের মাধ্যমে সেবার ওপর বিদ্যমান ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ফলে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের ব্যয় বাড়বে। গতকাল বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, মোবাইল সিম বা রিম কার্ডের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার ওপর বিদ্যমান ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। গত বাজেটে নতুন মোবাইল সিমের শুল্কহার ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছিল।

up-arrow