Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২ জুন, ২০১৬ ২৩:৫২
অবৈধ ও লুটপাটের বাজেট : বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক

গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপিত ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘অবৈধ ও লুটপাটের’ বাজেট আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। গতকাল সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক এই প্রতিক্রিয়া জানান সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

রিজভী আহমেদ বলেন, এ সরকার যে বাজেট দিয়েছে তার কোনো বৈধতা নেই। কারণ এ সরকারই অবৈধ। যে পার্লামেন্টে বসে তারা বাজেট  দিচ্ছে, সে পার্লামেন্টে থাকা সবাই অবৈধ। এই অবৈধ সরকারের অবৈধ বাজেট আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চরিত্র লুটেরা টাইপের। তারা এবার যে বাজেট দিয়েছে, তা গণবিরোধী। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নেই। এই বাজেট জনগণের কোনো কল্যাণেই আসবে না। এ বাজেটে বিনিয়োগ বাড়ানোর এবং বেকারত্ব দূরীকরণের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। দেশে কোটি কোটি শিক্ষিত বেকার, এ নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যত বাজেট হয়েছে সবগুলোর চরিত্র একই ধরনের বলেও উল্লেখ করেন রিজভী আহমেদ। বর্তমান সরকারকে ‘লুটেরা’ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতার পঙিক্ত এরকম— ‘এক হাটে লও বোঝা শূন্য করে দাও অন্য হাটে।’ আওয়ামী লীগের নীতি হচ্ছে— এক হাটে লও বোঝা আর ভরে ফেলো নিজেদের হাটে, অর্থাৎ নিজেদের গৃহে। এটাই হচ্ছে তাদের নীতি, তাদের উন্নয়নের নীতি। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) তার ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে ভালো কোনো নির্দেশনা নেই। এককথায় এটা একটা ঢাউশ ও উচ্চাভিলাষী বাজেট। এত বিশাল বাজেটের অর্থের উৎস কোথায়। এবারও ধার ও ঋণ করে চালাতে হবে। বাজেটে আকাশচুম্বী ঘাটতি দেখানো হয়েছে। বাজেটে অন্তর্ভুক্ত মেগা প্রকল্পে মেগা লুণ্ঠন হবে এবং লুট করে বিদেশে টাকা পাচার করা হবে। তাছাড়া এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকদের জন্য কোনো সুখবর নেই। শিল্প বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মতো কোনো নির্দেশনাও নেই বাজেটে। এতে গরিব মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। দুর্নীতি আরও বাড়বে।

এর আগে গতকাল বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে মিথ্যা ও লুটপাটের বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন রিজভী আহমেদ।

 অবৈধ সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা যাতে বেশি বেশি লুটপাট করে পকেট ভরতে পারে সেই বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই বাজেট তো মিথ্যা বাজেট, এটা চুরির বাজেট এবং চোরদের বাজেট। এ বাজেটে সাধারণ মানুষের কোনো রকম অধিকার থাকবে না। এতে জনকল্যাণ কিছুই হবে না। বরং এই বাজেট হবে দুর্নীতি প্রটেকশন বাজেট।




up-arrow