Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:১০
লক্ষ্য অর্জন কষ্টসাধ্য, অসম্ভব নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্য অর্জন কষ্টসাধ্য, অসম্ভব নয়

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থায়নে এনবিআরের যে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে সেটা আসলেই উচ্চাভিলাষী। আগামী বছর অতিরিক্ত যে কর আদায় করতে হবে, তা বেশ কষ্টসাধ্যই হবে। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনযোগ্য। কেননা গত তিন-চার বছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সক্ষমতা বেড়েছে। আর অতিরিক্ত কর আদায় প্রক্রিয়া শুরু হবে জুন মাস থেকেই। তিনি আরও বলেন, সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতায় অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। সর্বশেষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯৬ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে। সত্যিই এটা অভাবনীয় সাফল্য। গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  তিনি আরও বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখা হয়েছে বা এ ব্যাপারে আমি চুপ থেকেছি এমনটা বলা যাবে না। এমন অভিযোগও আনা যাবে না। কারণ আয়কর অধ্যাদেশ নামে আমাদের একটা আইন আছে। সে আইনে অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ প্রদর্শিত করার প্রভিশন (বিধান) আছে। আর এ সরকার যতদিন থাকবে ততদিন এই আইনটিও বলবৎ থাকবে। ফলে যতদিন এ সরকার ক্ষমতায় থাকবে ততদনি কালো টাকাও সাদা করা হবে। এটা পরিবর্তন হবে না।

বাজেট ঘোষণার পরদিন রীতি অনুযায়ী গতকাল বিকাল ৪টার কিছু পরে তিনি বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে তাকে সহায়তা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। পাশে বসা ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। মঞ্চে পেছনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, পরিকল্পনা সচিব তারিক উল ইসলাম, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান। দর্শক সারিতে অন্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের উচ্চ পদস্থরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত বছর রাজস্ব আদায় ‘নিম্নমানের’ হলেও আগের বছর পুরো সময় তা দুই অংকের উপরে ছিল। আমি সাত বছর ধরে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। গত সাত বছরে রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নতুন অফিস হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় অফিস হবে। ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর আদায়ের প্রস্তাব করা হয়েছে এবং এটা আদায়যোগ্য। তবে সবাইকে করদানে এগিয়ে আসতে হবে। মোবাইল ফোনের সিম কর অপরিবর্তিত রাখা এবং মোবাইলে কথা বলার ওপর কর বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সাড়ে ১৫ কোটি মানুষের হাতে এখন ১৩ কোটি মোবাইল ফোন। এ থেকে আয় বাড়ানোর সুযোগ কম। কথা বলার উপরে ১ শতাংশ বেশি কর নেওয়া হবে। যারা কথা বলেন, তাদের জন্য তেমন কিছু গ্রাহ্য করার বিষয় নয়। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের এটি একটি উত্তম উপায়। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের সব দেশের চেয়ে আমরা সব থেকে কম কর আদায় করি। আমাদের অভ্যাসটা বদলানো দরকার। রাজস্বের দিকে নজর দিতে হবে। কারণ আমরা সব সময় সরকার কী সেবা দিল না দিল তা নিয়ে হৈচৈ করি, দাবি করি। কিন্তু সরকার সেবা দিতে গেলে যে রাজস্ব প্রয়োজন সেটা নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাই না। তাই একটু রাজস্ব বেশি দিলে মন্দ হয় না। বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আমার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছি। এখানে যারা যেখানে চাকরি করেন সে প্রতিষ্ঠান একটা অংশ দেবে। আর চাকরিজীবীদের বেতন থেকে একটা অংশ জমা হবে। তেলের দাম কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জ্বালানি মন্ত্রীর বিষয়। তবে বিশ্ববাজারে ইতিমধ্যেই তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ফলে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে অনেক ভেবেচিন্তে নিতে হবে। বাজেটে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এখন একটা সময় এসেছে। গত দু-এক বছরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগে একটা ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে। এটাকে আরও বাড়াতে হবে। বাজেটে বিভিন্ন জিনিসের ওপর কর বা শুল্ক হ্রাসের সঙ্গে দাম কমানোর ঘোষণা করা হয় কিন্তু এর প্রভাব বাজারে পড়ে না। যেগুলোর বাড়ার কথা সেগুলোর দাম বাড়ে। কিন্তু যেগুলোর দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয় সেগুলোর দাম বাস্তবে কমে না। এর জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, জেলা বাজেটের ধারণাটা ছিল স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে। সেটা হয়নি। জেলা বাজেট ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমাদের প্রতিটি জেলাকে এক একটি দেশের সঙ্গে তুলনা করে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হবে বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দেশের দুটির পত্রিকার নাম ধরে বিষোদগার করেন অর্থমন্ত্রী। পত্রিকা দুটিতে ৩ জুন প্রকাশিত বাজেট ও মধ্য আয়ের দেশ গড়া সংক্রান্ত দুটি নেতিবাচক প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় তিনি বলেন, এ বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। বাজেটের সঙ্গে অনেকে দেশকে মধ্য আয়ের দেশ বিবেচনা করছেন, কিন্তু বাজেট দিয়ে মধ্য আয়ের দেশ হয় না, বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি দিয়ে মধ্য আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব। বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ এটি নির্ধারণ করবে। ২০১৮ সালে তারা এ নিয়ে সভা করবে। সেখানে আমাদের বিষয়ে আলোচনা করবে। এ ছাড়া জাতিসংঘ কমিটিও এটি জানাবে। সব মিলিয়ে ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্য আয়ের দেশের স্বীকৃতি আসবে বলে তিনি মনে করেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow