Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:২৩
উৎসে করে অনেক গার্মেন্ট বন্ধ হবে
---------------বিজিএমইএ
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের বাজেটে পোশাক খাতের জন্য উৎসে কর বৃদ্ধি না করার দাবি জানিয়েছেন পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দ। উৎসে কর বৃদ্ধি হলে ছোট-মাঝারি অনেক গার্মেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তারা বলেন, সব ধরনের রপ্তানিতে উৎসে কর্তিত হার ০.৬০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যক্ষ কর ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যা এ শিল্পের বিকাশের জন্য সাংঘর্ষিক। বিজিএমইএর নেতারা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পোশাক খাতের জন্য বরাদ্দ সাড়ে চার হাজার কোটি থেকে বৃদ্ধি করে পাঁচ হাজার কোটি টাকা করার আহ্বান জানান। এ খাতের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবিও জানান তারা। প্রয়োজনে এই খাতের উন্নয়নে বিজিএমইএর নেতারা প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে বাজেট-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিল্প মালিকরা এসব জানান। বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশের পোশাক শিল্প এখন সংকটের মধ্যে আছে। উত্পাদন খরচ ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মানও কমছে। তিনি বলেন, উৎসে কর বিক্রির ওপর কাটা হয়, লাভের ওপর না। মালিকদের শ্রমিক মজুরি এবং কারখানার কাঁচামালসহ বিভিন্ন খরচ দিতে হয়। কিন্তু চলতি বাজেটে পোশাক খাতের ওপর ১.৫% কর আরোপ করা হলে এই শিল্পের ওপর মাত্রাতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে। সাধারণত গড়ে পোশাক কারখানাগুলো ৩ শতাংশ করে লাভ করে। কিন্তু ১.৫% করে যদি কর আরোপ করা হয় তবে মালিকদের ৫০% হারে কর দিতে হবে। তার মতে, এই কর দশমিক ছয় শূন্য শতাংশ হারে নিয়ে আসা উচিত। তিন বছরে দেশের ৬১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও ৩১৯টি। বিশেষ করে পোশাক খাতের সংস্কারের কাজ করা দুই প্রতিষ্ঠান অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনের ফলে অনেক মালিকই কারখানা বন্ধের কথা ভাবছেন। তিন বছর পর যখন এই খাত সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে তখন সরকার কর বৃদ্ধি করতে চায় তা করতে পারে। আর তা না হলে পোশাক খাতের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয় তবে এ শিল্প রক্ষা করা যাবে না, বন্ধ হয়ে পড়বে ছোট-বড় কারখানা। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে এখন বিনিয়োগ নেই, শিল্প স্থাপনে ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে এই খাতের উদ্যোক্তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

প্যাকেজ ভ্যাট দ্বিগুণ করায় ব্যবসায়ীরা চাপে পড়বেন —বিসিআই : শিল্পপতিদের সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) নেতারা বলেছেন, আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্যাকেজ মূসক দ্বিগুণ করার ফলে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ পড়বে এবং  অনেক ব্যবসায়ী মূসক প্রদানে ব্যর্থ হবেন। ফলে সরকার অধিক পরিমাণ রাজস্ব হারাবে। তাই প্যাকেজ মূসক যৌক্তিক হারে কমানো প্রয়োজন। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে বিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেট আলোচনায় সংগঠনের নেতারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্যাকেজ মূসক বা মূল্য সংযোজন কর চালু রাখার সরকারি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিসিআইর প্রথম সহসভাপতি মোস্তাফা আজাদ চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাব্বত উল্যাহ্, পরিচালক শহিদুল ইসলাম নিরু, প্রীতি চক্রবর্তী, ফারুক আহমেদ প্রমুখ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow