Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:২৫
নেতাদের একাধিক পদ ছাড়তে খালেদার কঠোর বার্তা
মাহমুদ আজহার
নেতাদের একাধিক পদ ছাড়তে খালেদার কঠোর বার্তা

এক নেতার ‘একাধিক পদ’ ছাড়তে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শিগগিরই লিখিতভাবে এক পদ রেখে অন্যগুলো ছাড়তে নেতাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ঘোষিত ৪২ সদস্যের আংশিক কমিটির সাংগঠনিক বৈঠকে গতকাল এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কাউন্সিলের আড়াই মাসে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করতে পারলেও নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি তার প্রথম বৈঠক করল। জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,  যেসব  নেতা একাধিক পদে রয়েছেন, তাদেরকে নিজের পছন্দসই পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হবে। এটা চেয়ারপারসনের নির্দেশ। ঘোষিত কমিটির মধ্যে শুধু মির্জা ফখরুলই লিখিতভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের   কাছে আবেদন করে মহাসচিব বাদে অন্য পদগুলো ছেড়ে দিয়েছেন।  

ঘোষিত যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক বিষয়াদি ছাড়াও সাংগঠনিক বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হারুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, ডা. শাহাদাত হোসেন, আনোয়ারুল আজিম, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান, মাহবুবুল হক নান্নু, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আবদুল আউয়াল খান, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, মাহবুবুর রহমান শামীম, শরীফুল আলম, শাহীন শওকত, শামসুজ্জামান, সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোস্তাক মিয়া, ওয়ারেস আলী মামুন, আবুল হাশেম বক্কর, আবদুল মোমেন তালুকদার খোকা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই বৈঠকটি ছিল মূলত আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে তারা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সাংগঠনিক কার্যক্রম কীভাবে আরও বেগবান করা যায় সে বিষয়েও কথা হয়েছে। বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার যে আন্দোলন চলছে তাকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ’ একাধিক পদে থাকা বিএনপির কয়েকজন নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হাইকমান্ড বললেও কমিটি না করেই জেলা পর্যায়ের পদ ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি করে দিয়েই পদ ছাড়তে হবে। নইলে সেখানে সাংগঠনিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এতে দলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে অঙ্গ সংগঠনগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কয়েকজন নেতা অবহিত করেছেন। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তিনি যুগ্ম মহাসচিব পদ রেখে বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক ও যুবদল সভাপতির পদ ছাড়তে চেয়ারপারসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এখন তিনি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। আরেক যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা কমিটি করেই তিনি জেলার দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। এ বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে। তবে একাধিক নেতা একাধিক পদ ছাড়তে গড়িমসি করছেন বলেও জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ বিবেচনায় একাধিক পদে থাকা যায় কিনা, সেই অপেক্ষায় ওইসব নেতা। ৪২ নেতার সবারই একাধিক পদ রয়েছে। কেউ জেলায়, কেউ কেন্দ্রে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। অবশ্য মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে বিগত আন্দোলনে ভূমিকা পালন করা কিছু নেতা কেন্দ্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলার নেতৃত্বেও থাকতে পারেন বলে দলীয় নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিএনপি প্রধানেরই নির্দেশনা রয়েছে বলেও ওই সূত্রটি জানায়। জানা যায়, বৈঠকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সবাই একমত হন। সাংগঠনিক জেলাগুলোর কোথায় কি ‘দুর্বলতা’ রয়েছে তা সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের লিখিতভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের একসঙ্গে কাজ করার কথাও বলা হয়। কেন্দ্র থেকে সব চিঠি সাংগঠনিক সম্পাদকের পাশাপাশি সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদেরও দেওয়া হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় নেতাদের কার কী ভূমিকা তাও প্রতিবেদন আকারে কেন্দ্রে জমা দিতে সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, আগামীতে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এ রিপোর্ট ধরেই কাজ করবে বিএনপি। এ ছাড়া ভবিষ্যতে নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow