Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:২৭
শেষ ধাপের ইউপি ভোটেও উৎকণ্ঠা
গোলাম রাব্বানী
শেষ ধাপের ইউপি ভোটেও উৎকণ্ঠা

সংঘাত-সহিংসতার শঙ্কা নিয়ে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে ৬৯৮ ইউপিতে। তৃণমূলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এ ভোট উৎসবে অংশ নিচ্ছেন দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। গ্রামগঞ্জের এ নির্বাচনে লড়াই হবে মূলত প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যেই। ভোটপ্রিয় জনগণ একে উৎসব হিসেবে নিচ্ছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সাংঘর্ষিক অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। কয়েক দিন থেকে দফায় দফায় বিভিন্ন ইউপিতে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটছে।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শতাধিক লোকের প্রাণহানির পর শেষ ধাপে ‘সর্বোচ্চ সতর্ক ব্যবস্থা’ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাত শতাধিক ইউপিতে ভোটের আগের দিন এ নির্দেশ দিল ইসি। সেই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে এএসপি ও ওসি পর্যায়ের দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি। প্রভাব খাটানোর অভিযোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ইউপি ভোট বন্ধ ও এমপির বিরুদ্ধে মামলাও করেছে ইসি। অনিয়ম-সহিংসতা     নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরকে দোষারোপ করে এলেও নির্বাচনের পাঁচটি ধাপে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখে রয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী এই সংস্থা। সেই সঙ্গে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের মতো ষষ্ঠ ও শেষ ধাপে আজকের ভোট নিয়েও নানা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রার্থী ও ভোটাররা। ভোট-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। ভোট এলাকায় বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ ভোটারা। এ ছাড়া সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রার্থীরাও। যদিও ইসি ভোটারদের অভয় দিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে নির্বাচনী এলাকায়। অন্যদিকে এ ধাপে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিরাপত্তায় কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল পাঠিয়েছে ইসি। গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ উৎসব। আজ শেষ হচ্ছে তৃণমূলের এ ভোট। নির্বাচনী এলাকায় আজ ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। ভোটগ্রহণের আগে প্রার্থীর এজেন্টেদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খুলবে সংশ্লিষ্ট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ষষ্ঠ ধাপে ৪৬ জেলার ৯২ উপজেলার ভোট হবে। এতে ভোটার রয়েছে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২২৩ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫ হাজারের এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ২৭ জন ইতিমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এক লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় লাখের মতো সদস্য নিয়োজিত থাকছেন ভোটের দায়িত্বে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। তারা থাকবেন ভোটের পরের দিন কাল পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। গতকাল ভোটগ্রহণের জন্য বিশেষ নিরাপত্তায় জেলা থেকে কেন্দ্র কেন্দ্রে ব্যালট বক্স, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী মালামাল পাঠানো হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায়। তাই এ দিন ভোর থেকেই গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটেছেন চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীরা। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে এবারই প্রথম চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, ভোটকে সামনে রেখে সব ধরনের অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিসি-এসপি-রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে : গোলযোগ-সহিংসতার মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় এ নির্বাচনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২০ জন করে নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত রাখা হচ্ছে এবার। ভোটের আগের দুই দিন থেকে ভোটের পরদিন কাল পর্যন্ত চারদিন থাকছেন তারা। দলভিত্তিক এ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সমালোচনার মুখে রয়েছে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, ইউপি ভোটের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় উপজেলাভিত্তিক মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে তিন প্লাটুন করে বিজিবি রাখা হয়েছে। সঙ্গে থাকবে র‌্যাবের তিনটি টিমও। প্রতি ইউনিয়নে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সমন্বয়ে একটি করে মোবাইল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। অবশ্য ভোটের পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

যান চলাচল বন্ধ : শেষ ধাপের ইউপি ভোট উপলক্ষে গত বুধবার থেকে নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চালনোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে আজ রাত ১২টা পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী তিন দিন আগে থেকে ভোটের দিন মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রাখতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ মধ্য রাত ১২টা পর্যন্ত বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্যাক্সি ক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো প্রভৃতি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের (পরিচয়পত্র থাকতে হবে) ক্ষেত্রে শিথিল থাকবে।

সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ ইসির, ২ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার : চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের শেষ ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল ইসির উপ-সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন। এদিকে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে টাঙ্গাইলের গোপালপুর সার্কেলের এএসপি জমিরউদ্দিন সরকারকে প্রত্যাহার করে সেখানে একজন উপযুক্ত কর্মকর্তা পদায়নের নির্দেশও দিয়েছে ইসি। সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি স্বরাষ্ট্র সচিবকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে উপযুক্ত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য আইজিপিকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।




up-arrow