Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:২৯
বড় বাজেট বড় প্রত্যাশা
রুহুল আমিন রাসেল
বড় বাজেট বড় প্রত্যাশা
ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন

২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বড় বাজেটকে বড় প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন। তিনি মনে করেন, অর্থনৈতিক মুক্তির দারপ্রান্তে এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে, তা মুক্তির পথে অনেক শক্তি জোগাবে। বাজেট যতক্ষণ পর্যন্ত সামষ্টিক আয়ের এক-পঞ্চমাংশ না হবে, ততক্ষণ বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় ছোট বলেই ধরে নিতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে, এই মূল্যায়ন করেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন। এবারের বাজেটকে সামষ্টিক অর্থনীতির ১৭ দশমিক ২ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূল্যস্ফীতি সব সময়ই অনিশ্চিত থাকে। সে অর্থে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলন নাও হতে পারে। প্র্রস্তাবিত বাজেটে ৩টি বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার উল্লেখ্য করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, সরকার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় নতুন ‘মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ককর—এসডি আইন’ করা গেল না বলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রশ্নবিদ্ধ। তবে প্যাকেজ ভ্যাটে যে প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে, সেগুলো ঠিক রাখতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাপনা আরও সহজ-সরল ও আইন কার্যকর করা জরুরি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে নতুন করদাতার সংখ্যা ৫ থেকে ৬ লাখ বাড়ানো হয়।

তৈরি পোশাকশিল্প প্রসঙ্গে প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ বলেন, পোশাক খাতে কর্পোরেট করহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু অগ্রিম আয়কর চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরেই শতকরা ১ শতাংশ করার দরকার ছিল। বাজেটে প্রস্তাবিত ১ দশমিক ৫ শতাংশ উেস করহার বাস্তবায়ন করা না গেলেও, কোনো অবস্থাতেই যেন, এটা ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা না হয়। বরাদ্দের ক্ষেত্রে মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য বড় কল্যাণ বয়ে আনবে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে আরও বরাদ্দ বাড়ানো গেলে জাতিসংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের আরও শক্তি সঞ্চয় হতো। আগামী ২০১৮ সালে জাতিসংঘ স্বল্পউন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উঠে আসার পর্যালোচনার জন্য এটা খুব জরুরি।

ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন আরও বলেন, সাম্প্রতিককালে বাজেটের বাস্তবায়নেই বড় সমস্যা দেখা দেয়। প্রকল্পের জন্য আলাদা বাজেট যথাশক্তি মনোযোগ দিলে সুফল আসতে পারে। তবে ১৯৭২ সালের আদলে একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা কমিশন সৃষ্টি করে সমন্বিত পরিকল্পনা, কর্মসম্পাদন, পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি— এডিপিকে কাটছাঁট করা গেলে, বাস্তবায়নে গতি আসতে পারে। কারণ— মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি পূর্বশর্ত হিসেবে বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না, একটি সমন্বিত পরিকল্পনায় ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি কার্যকর করে সুফল লাভ জরুরি।

তিনি মনে করেন, অর্থবছরের পরিবর্তন এনে জানুয়ারি টু ডিসেম্বর করা হলে, মে থেকে জুন মাসে পানির নিচে সম্পদ অপচয় রোধ করা সম্ভব। অতীতের ন্যায় প্রতি ৩ মাসে ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কিং পার্টি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতায়িত পরিকল্পনা কমিশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মিলে প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা চিহ্নিত করে সুরাহা করা যেতে পারে। ঘাটতি বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘাটতি বাজেটের পরিপ্রেক্ষিতে ও বাজেটের প্রস্তাব মতে, পাইপলাইনে পড়ে থাকা বৈদেশিক ঋণ সাহায্য ব্যবহার করার সমম্বিত ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সুফল আনতে পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow