Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুন, ২০১৬ ২২:৫৯
চলে গেলেন মোহাম্মদ আলী
ক্রীড়া প্রতিবেদক
চলে গেলেন মোহাম্মদ আলী

‘আই অ্যাম দ্য গ্রেট’-বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত উক্তিটি ‘কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা’ মোহাম্মদ আলীর। ১৯৬৪ সালে সনি লিস্টনকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব জেতার পর রিংয়ে দাঁড়িয়ে উক্তিটি করেছিলেন। প্রজাপতির ছন্দে নেচে পাঞ্চ, হুক, আপার কাট, জ্যাবে প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করার ‘মহানায়ক’ মোহাম্মদ আলি গতকাল সকালে শ্বাসকষ্টে ভুগে অ্যারিজোনার ফিনিক্সের একটি হাসপাতালে ক্রীড়াপ্রেমীদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে পাড়ি জমিয়েছেন অজানার দেশে। ৭৪ বছরের আলি স্থায়ী আবাস গেড়েছেন চির শান্তির দেশে। সর্বকালের সেরা মুষ্টিযোদ্ধার শেষকৃত্য অনুষ্ঠান জন্মস্থান কেনটাকির লুয়াভিলে। ‘শতাব্দী সেরা’ মুষ্টিযোদ্ধা আলির জন্ম ১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি কেনটাকির লুয়াভিলে। জন্মের পর মা-বাবা আদর করে নাম রাখেন ‘ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে’। জন্মের পর থেকে বড় হতে থাকেন এলাকায় মারামারি, কাটাকাটি দেখে। এরই মধ্যে ১৯৫৪ সালে বাইসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। কষ্টে নীল হয়ে যাওয়া আলি প্রতিশোধ নিতে বক্সিংয়ের প্রতি অনুরাগী হয়ে উঠেন। ১৯৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রোম অলিম্পিকে অংশ নিয়ে সোনা জিতেন লাইট ওয়েট ক্যাটাগরিতে। অবশ্য সোনার পদকটি রাগে-দুঃখে পরবর্তীতে ছুড়ে ফেলেছিলেন হাডসন নদীতে। অলিম্পিক পদক জিতে দেশে ফেরার পর নাম লেখান পেশাদারী বক্সিংয়ে। নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করে ১৯৬৪ সালে মুখোমুখি হন সনি লিস্টনের এবং নক আউট করে মাত্র ২২ বছর বয়সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। বিশ্বচ্যাম্পিনে হওয়ার বছর খানেকের মধ্যেই ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন আলি। তবে ধর্ম পরিবর্তন করার আগে থেকেই ‘নেশন অব ইসলাম’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। মুসলমান হওয়ার পর নাম পরিবর্তন করে মার্সেলাস কেসিয়াস ক্লের স্থলে রাখেন মোহাম্মদ আলি। বক্সার আলি ছিলেন প্রতিবাদীও। ১৯৬৭ সালে ভিয়েতনামে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করে সমালোচিত হন দেশে। শুধু সমালোচনাই করেননি, মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেও অস্বীকার করেন। ফলে কেড়ে নেওয়া হয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব ও বক্সিং লাইসেন্স। পাঁচ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু আপিলে তা বাতিল হয়ে যায়। বক্সিং লাইসেন্স না থাকায় প্রতিযোগিতামূলক বক্সিংয়ে লড়তে পারেননি। অবশেষে ১৯৭১ সালে উঠিয়ে নেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১৯৭১ সালে নিউইয়র্কে লড়াইয়ে নামেন জো ফ্রেজিয়ারে বিপক্ষে। দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ে না থাকায় হেরে যান ফ্রেজিয়ারের কাছে। অবশ্য খেতাব পুনরুদ্ধার করেন ১৯৭৪ সালে জায়ারে জর্জ ফোরম্যানকে হারিয়ে। ফ্রেজিয়ারের বিপক্ষে হারের প্রতিশোধ নেন ১৯৭৫ সালে ম্যানিলায়। ১৪ রাউন্ডে টেকনিক্যাল নক আউটে জয়ী হওয়ার পর আলি বলেছিলেন, মৃত্যুর কাছ থেকে তিনি ফিরেছেন। একমাত্র বক্সার হিসেবে তিন তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেতাব জেতা আলিকে ‘গত শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ’ অ্যাখ্যা দেয় স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড। একই অ্যাখ্যা দেয় বিবিসিও। ভীষণ জনপ্রিয় আলি বাংলাদেশের আসেন ১৯৭৮ সালে পাঁচদিনের সফরে। সে সময় তাকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সম্মাননামূলক নাগরিকত্ব দেন। সফরকালে বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ আলি বলেন, ‘যদি সুন্দর দেশ দেখতে চাও, তাহলে বাংলাদেশে আস।’ শুধু নাগরিকত্ব দিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি বাংলাদেশ, তার নামে একটি বক্সিং স্টেডিয়ামের নামকরণ করে। যা এখন মোহাম্মদ আলি বক্সিং স্টেডিয়াম নামে পরিচিত। আলি বাংলাদেশে একজন জনপ্রিয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। সর্বকালের সেরা বক্সারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ।

up-arrow