Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৫ জুন, ২০১৬ ০২:৪০
বিচারপতিদের নিরপেক্ষ থাকার আশা রাষ্ট্রপতির
গতি আনতে সমস্যা কাটাতে হবে : প্রধান বিচারপতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রের স্তম্ভ আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে স্বাধীন হলেও একে অপরের পরিপূরক হিসেবে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আইন কমিশনের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল বিকালে রাজধানীর বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বিচারকরা  গণতন্ত্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকশা করেন। একই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা অপর্যাপ্ত বাজেট ও ও অবকাঠামোসহ বিচার বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের কর্মকাণ্ডে গতি আনতে এসব সমস্যা দূর করতে হবে। অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বর্তমান সরকার মনে করে সুশাসন ও উন্নয়নের জন্য আইনের শাসন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। এ কারণে ৪৪ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হচ্ছে। সরকার সব আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে এ বিচার করছে। দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি খায়রুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ছাড়াও বাংলাদেশ জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক, জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিচারপতি খন্দকার মুসা খালেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, গণতন্ত্র বিকাশ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে শুধু ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বিচার বিভাগের ওপর জনগণ আস্থা হারাবে এবং আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। আবদুল হামিদ বলেন, নির্বাহী বিভাগ, সংসদ ও বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্তম্ভ। জনগণের মৌলিক অধিকার, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ তিনটি স্তম্ভের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে আমি মনে করি, জনগণ ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে এসবের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ তিনটি স্তম্ভ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।’

সময়মতো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে বিনা বিচারে অথবা ভুল রায় অথবা কারাভোগের মেয়াদ শেষের পরও কারাগারে আটক থাকা সম্পর্কে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অথবা তার পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, আইনের শাসনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আন্তরিক হতে হবে।

রাষ্ট্রপতি জনগণের কল্যাণে পুরনো আইনের সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘আইন কমিশন ১৮৭২ সালের সাক্ষী আইনের সংস্কারে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এ আইনের খসড়া বাংলায় করা হয়েছে। আমি মনে করি, এ কাজ সম্পন্ন হলে এবং বাস্তবায়িত হলে বিচারকাজ দ্রুত ও যথাযথভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে একটি বিশাল অর্জন হবে।’ তিনি বলেন, অধিকাংশ আইন সেকেলে। এ আইন দিয়ে বিচারকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে বাধাগ্রস্ত হতে হয়। ফলে এসব আইন এখন সংস্কার করা সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, জনগণ ও তাদের কল্যাণের জন্য আইন। আইন সংস্কারের প্রস্তাবে এবং পরামর্শে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে, এ বিষয়ে কমিশনকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। সূত্র : বাসস।




up-arrow