Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ জুন, ২০১৬ ২৩:৩১
খ্রিস্টান দোকানি হত্যা নাটোরে
নাটোর প্রতিনিধি
খ্রিস্টান দোকানি হত্যা নাটোরে

এবার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক খ্রিস্টান ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার বনপাড়া মা মারিয়া গির্জার পশ্চিম পাশে সুনীল দানিয়েল গমেজ (৬০) নামে ওই মুদি ব্যবসায়ীকে গতকাল দুপুর ১২টার    দিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সুনীল বনপাড়ার মৃত যোসেফ গমেজের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ নিহতের বাড়ির ভাড়াটিয়া ট্রাকচালক আবদুল্লাহ আল মামুন সবুজকে আটক করেছে। সবুজ জেলার লালপুর উপজেলার কদিমচিলান গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় রাতে নিহতের মেয়ে স্বপ্না গোমেজ বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে বিকালে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন করেছে খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ। কিছুদিন আগে টাঙ্গাইলে এক হিন্দু দর্জি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গতকাল বড়াইগ্রামের ঘটনার পর র‌্যাব-৫-এর সিও মাহবুব আলম, নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জি, ইউএনও মো. রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুন্সী শাহাবুদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, বনপাড়া খ্রিস্টান পল্লীতে নিজ বাড়ির একটি কক্ষে সুনীল গমেজ মুদির ব্যবসা করতেন। গতকাল সকাল ৮টার দিকে ধর্মপল্লী থেকে প্রার্থনা শেষে তিনি দোকানে এসে বসেন। দুপুর ১২টার দিকে কে বা কারা দোকানের মধ্যেই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পথচারীরা দোকানের দরজার ওপর তার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিহতের লাশ দোকানের দরজার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে। এ সময় তার হাতের মুঠিতে কিছু টাকা ধরা থাকতে দেখা যায়। তার ঘাড়ে একই জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কয়েকটি কোপের গভীর ক্ষত রয়েছে। নিহতের একমাত্র সন্তান স্বপ্না গমেজ জানান, তার মা কমলা গমেজ সাত দিন আগে চাটমোহরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আর স্বপ্না স্বামীর বাড়িতে থাকায় ঘটনার সময় বাড়িতে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। বনপাড়া মা মারিয়া গির্জার পাল পুরোহিত ফাদার মি বিকাশ হিউবার্ট রিবেরু বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা স্তব্ধ, নির্বাক। নিহত সুনীল নিরীহ প্রকৃতির লোক ছিলেন। কারও সঙ্গে তার কোনো বাদানুবাদের কথা কখনো শুনিনি। কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে বুঝতে পারছি না।’ নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা আছে বলে মনে হচ্ছে না।

up-arrow