Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৬ জুন, ২০১৬ ২৩:১৭
সেই মোটরসাইকেল উদ্ধার সন্দেহে জামায়াত-শিবিরও
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
সেই মোটরসাইকেল উদ্ধার সন্দেহে জামায়াত-শিবিরও
চট্টগ্রামে এসপির স্ত্রীকে হত্যায় এই মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ —বাংলাদেশ প্রতিদিন

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যার পেছনে জঙ্গির পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। মিতু হত্যায় ব্যবহূত মোটরসাইকেল শিবির-অধ্যুষিত এলাকা থেকে উদ্ধার এবং বিগত সময়ে নাশকতা প্রতিরোধে বাবুল আক্তারের ভূমিকার কারণে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিবিরের একটি অংশ জেএমবির সঙ্গে যোগ দিয়ে টার্গেট কিলিং করছে বলে পুলিশের ধারণা। তাই মিতু হত্যায় জঙ্গিদের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়টি মাথায় রেখে মামলা তদন্ত করছে পুলিশ। আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহূত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আলোচিত এ মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানা যায়, হত্যাকারীদের ব্যবহূত চট্ট মেট্রো-ল-১২-৯৮০৭ নম্বরের মোটরসাইকেলটি নগরীর জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত শুলকবহরের বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে জব্দ করে পুলিশ। জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি জব্দ করার পরই তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে। কারণ নগরীর শুলকবহর, বাদুরতলা, চকবাজার ও কাপাসগোলা এলাকাগুলো জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। এ এলাকাগুলোতে জামায়াত-শিবিরের অসংখ্য মেস রয়েছে। পুলিশের দাবি, ২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত নগরীতে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের অধিকাংশের অবস্থানই ছিল এখানে। এ ছাড়া দুর্বৃত্তরা মিতুকে খুনের পর গোলপাহাড় মোড় দিয়ে কাতালগঞ্জ হয়ে শুলকবহর দিয়ে ঢুকে বাদুরতলা দিয়ে বেরিয়ে যায়। বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এ এলাকাগুলো জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত। এসব কারণে এ হত্যাকাণ্ডে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততার বিষয়টি চিন্তা করছে পুলিশ। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘জেএমবির একটি অংশ জামায়াত-শিবিরের সাবেক নেতা-কর্মী। সেই দিক থেকে বিবেচনা করে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে জঙ্গিদের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় কাউকে আটক করেছি এটা বলা যাবে না। তবে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে। এ মুহূর্তে তাদের নাম বলা সম্ভব নয়।’

এসপির মামলা দায়ের, তদন্তে ডিবি : স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছেন এসপি বাবুল আক্তার। মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল বাবুল আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ‘মিতু হত্যা মামলা তদন্তের জন্য ডিবিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য সব সংস্থার সদস্যরা ডিবিকে সহযোগিতা করবে।’ পাঁচলাইশ থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে পাঁচলাইশ থানার উপ-পরিদর্শক ত্রিরতন বড়ুয়া বাদী হয়ে মামলা দায়েরের জন্য একটি এজাহার তৈরি করা হয়। সব প্রস্তুতি শেষ হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলাটি করা হয়। পরে বাবুল আক্তার নিজে বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

হত্যায় ব্যবহূত মোটরসাইকেল জব্দ : মিতু হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহার করা মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলা বড় গ্যারেজের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ডিবি পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অভিযান চলাকালে পরিত্যক্ত অবস্থায় মোটরসাইকেলটি পড়ে থাকতে দেখে তা জব্দ করা হয়। জব্দ করা মোটরসাইকেলের নম্বর চট্ট মেট্রো-ল-১২-৯৮০৭। পরে ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে মিতু হত্যায় ব্যবহূত মোটরসাইকেলের সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়। জব্দ মোটরসাইকেলের প্রকৃত মালিকানা কার তা যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে মোটরসাইকেলটি ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। পুলিশের ধারণা, বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী তত্পরতার কারণে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন তার স্ত্রী মিতু।




up-arrow