Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৭ জুন, ২০১৬ ২২:৫০
আবারও পুরোহিত খুন
মোটরসাইকেলে তিন জনের কিলিং মিশন
শেখ রুহুল আমিন, ঝিনাইদহ
আবারও পুরোহিত খুন
আনন্দ গোপাল

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহিষাডাঙ্গায় মহিষা ভাগাড় বিলের মধ্যে আনন্দ গোপাল ঠাকুর (৭৫) নামে এক বর্ষীয়ান পুরোহিতকে প্রকাশ্যে দিবালোকে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকাল ৯টার দিকে তাকে হত্যা করা হয়। তার বাবা মৃত সত্য গোপাল গাঙ্গুলি। সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের ধরনের সঙ্গে মিল থাকায় এ ঘটনার পেছনেও জঙ্গিদের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন জেলার পুলিশ কর্মকর্তারা। এদিকে গতকাল দুপুরে এ হত্যার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তাদের সংবাদ সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্সের ওয়েবসাইটে হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেওয়া হয়। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজবাহার আলী শেখ জানান, গতকাল সকালে পুরোহিত আনন্দ গোপাল তার নিজ বাড়ি করাতিপাড়া থেকে বাইসাইকেলযোগে সিদ্বেশ্বরী কালী মন্দিরের উদ্দেশে বের হন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরবর্তী সোনাইখালী গ্রামের মহিষের ভাগাড় নির্জন বিলের মাঠে পৌঁছানো মাত্রই একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। তাকে সাইকেল থেকে নামিয়ে মাঠের মধ্যেই প্রথমে মাথায় ও হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর স্থান ত্যাগ করে। এ সময় মাঠে কাজ করা কৃষক টের পেয়ে চিৎকার দিলে দূরবর্তী গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়। ১০টার দিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশের এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, অজ্ঞাতনামা তিন দুর্বৃত্ত পুরোহিত আনন্দকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে খুনিদের ধরতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোয় চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। সকালে বৃষ্টি ও কাদাপানি উপেক্ষা করে শত শত মানুষ পুরোহিতের লাশ দেখতে ঘটনাস্থল মাঠের মধ্যে ভিড় করে। পুরোহিত আনন্দ গোপাল নির্দিষ্ট কোনো মন্দিরের পুরোহিত নন। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্দিরে ও বাড়িতে পূজারির কাজ করতেন। আনন্দ গাঙ্গুলির ছেলে সিন্ধু গাঙ্গুলি বলেন, ‘বাবা প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলে পূজা করতে যান। সকালেও বেরিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পরই তার হত্যার খবর পাই।’ খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায় এবং ঝিনাইদহে পরপর দুই হোমিও চিকিৎসককে যারা খুন করেছে, তারাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।’ কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির সহ-সভাপতি ও ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক কনককান্তি দাস জানান, ‘সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন, প্রশ্নবিদ্ধ ও দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য পরিকল্পিতভাবে একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।’ চলতি বছর জানুয়ারিতে ঝিনাইদহ সদরেই বালেখাল বাজারে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক সমির আলীকে হত্যা করা হয়। তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টধর্ম প্রচারে কাজ করছিলেন দাবি করে স্থানীয় চার্চের কয়েকজন সে সময় বলছিলেন, ওই কারণেই জঙ্গিরা তাকে হত্যা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট সমির হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও সে সময় খবর আসে।

গত দুই বছরে এভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এসেছে, খুন হয়েছেন সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে ঝিনাইদহে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে হরিনাকুণ্ডে সাবেক ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা ও একজন ক্লিনিক মালিকসহ তিনজন হত্যার শিকার হলেন। এ ছাড়া সম্প্রতি জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র পূবালী ব্যাংকের সিঁড়ির মধ্য থেকে ১০ লাখ টাকা ছিনতাই করা হয়।




up-arrow