Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:০০
মৃত্যু পরোয়ানা শোনানো হলো মীর কাসেমকে
গাজীপুর প্রতিনিধি
মৃত্যু পরোয়ানা শোনানো হলো মীর কাসেমকে

মানবতাবিরোধী  অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে ট্রাইব্যুনালের জারি করা মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়েছে। গতকাল সকালে কারা কর্তৃপক্ষ গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে এ পরোয়ানা পড়ে শুনিয়েছেন। তিনি ওই রায়ের রিভিউ আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক জানান, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী এ কারাগারের ৪০ নম্বর কনডেম সেলে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যু পরোয়ানার আদেশ সোমবার রাতেই প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে সে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি বিশেষ ব্যবস্থায় সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এ পৌঁছে। রাতে মীর কাসেম আলী ফাঁসির সেলে লকআপে চলে যাওয়ায় তাকে আর ওই পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়নি। গতকাল সকাল ৭টার দিকে তা পড়ে শোনানো হয়। এ সময় তিনি অনেকটাই স্বাভাবিক ছিলেন বলে জানায় কারা কর্তৃপক্ষ। রায় পড়ে শোনানোর সময় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর জেল সুপার জেলার নাশির আহমেদসহ কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মীর কাসেম আলী বলেন, আইনজীবী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার মো. জাহাঙ্গীর কবির জানান, সোমবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ট্রাইব্যুনাল থেকে মৃত্যুদণ্ডের ২৪৪ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি এবং মৃত্যু পরোয়ানা ওই কারাগারে পৌঁছে। পরে রাত ৮টার দিকে তা কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে পাঠানো হয়। মীর কাসেম আলীর আইনজীবী মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, রায়ের সার্টিফায়েড কপির জন্য সোমবার আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আগামী শুক্র কিংবা শনিবার কারাগারে যাবেন এবং মীর কাসেম আলীর সঙ্গে কথা বলে রিভিউর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে মীর কাসেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম সাংবাদিকদের জানান, ‘গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির কপি হাতে পাইনি। তবে হাতে পেলে বাবার সঙ্গে আলোচনা করে ওই রায়ের রিভিউ করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দু-এক দিনের মধ্যে কাশিমপুর কারাগারে যাব।’

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে দৈনিক নয়া দিগন্ত কার্যালয় থেকে মীর কাসেম আলীকে গ্রেফতার করা হয়। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাইব্যুনালে শুরু হয় তার বিচার। ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেয়। একই বছরের ৩০ নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন আলবদর কমান্ডার মীর কাসেম আলী। চলতি বছরের (২০১৬) ৮ মার্চ দেওয়া রায়ে আপিল বিভাগও তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। সোমবার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আসামিপক্ষ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবে। রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার আগে দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। আসামিপক্ষ রায়ের সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার পর সেই দিন গণনা শুরু হবে। এই ১৫ দিনের ভিতরে তাকে রিভিউ পিটিশন দায়ের করতে হবে। রিভিউ পিটিশনের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে দণ্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী কার্যক্রম। উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর ৪০ নম্বর কনডেম সেলে বন্দী রয়েছেন। মীর কাসেম আলী গ্রেফতারের পর থেকে এ কারাগারে রয়েছেন। তিনি ২০১৪ সালের আগে হাজতবাসকালে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীর মর্যাদায় ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্তির পর তাকে ফাঁসির (কনডেম) সেলে পাঠানো হয়।




up-arrow