Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:১৬
পুকুর নয়, সাগরচুরি হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুকুর নয়, সাগরচুরি হয়েছে

সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে অনিয়মের কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে লুটপাট হয়েছে। ফরাজী সাহেবের সঙ্গে আমিও বলতে চাই, পুকুরচুরি নয়, সাগরচুরি হয়েছে।

গতকাল ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। সকালে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে অধিবেশনে ব্যাংক খাতের জন্য ২৩৮ কোটি দুই লাখ ৪৪ হাজার টাকা বেশি বরাদ্দ দেওয়ার বিরোধিতা করেন স্বতন্ত্র সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাত থেকে ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ৩০ হাজার কোটি টাকা চুরি হয়েছে। এগুলোকে পুকুরচুরি না বলে সাগরচুরি বলা যায়। এ প্রসঙ্গ টেনেই অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে (ব্যাংকিং খাতে) অনেক দোষ-ত্রুটি হয়েছে বটে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লুটপাট হয়েছে। ফরাজী সাহেবের সঙ্গে আমিও বলতে চাই, পুকুরচুরি নয়, সাগরচুরি হয়েছে। তবে নিজ দাবির সপক্ষে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে যে দাবি উত্থাপন করেছি, তা প্রাক্কলিত ব্যয় থেকে বেশি করেছি। কম যখন হয় তখন দাবি বা প্রার্থনা করতে হয় না। আমি বলতে পারি বেশি খরচ হয়নি, কমই হয়েছে। দাবিটা ১৯ থেকে ২৫ হয়েছে।

তিন মাস পরেই জিডিপি প্রবৃদ্ধি মেনে নেবে : অর্থমন্ত্রী ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সমালোচনার বিষয়ে বলেন, বৈদেশিক সংস্থা জিডিপি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হিসাব দেয়, সেটা সব সময়ই একচুয়াল (প্রকৃত) থেকে কম হয়। সে জন্য কোনো প্রজেকশন (লক্ষ্যমাত্রা) ৭ দশমিক ৫-এর কম করা উচিত নয়। আমি নিশ্চিত ৭ দশমিক ৫ থেকে কম কখনো হবে না। আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরো অত্যন্ত উত্কৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। এ সময় স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনি তিন মাস পরেই দেখবেন অন্যান্য বিদেশি সংস্থা ৭ দশমিক ৫ গ্রহণ করবে। ওদের প্রজেকশন এর ধারণা আসলে স্টাডি করে হয় না। প্রজেকশন দেওয়ার দরকার হয়।

আমলাতন্ত্রকে ধন্যবাদ : আমলাতন্ত্রের কারণে বাজেট বাস্তবায়ন হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দোষ দেওয়া যায়, কিন্তু আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই এ জন্য, আমরা যে বাজেট দিয়েছি তা তাদের জীবনে এত বড় বাজেট দেখেননি। যা গত ৭ বছরে ৯১ হাজার কোটি থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়, সেটার সঙ্গে যে তারা চলতে পারছে এর জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।

রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে : রাজস্ব ঘাটতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে আমাদের রাজস্ব আদায় যথেষ্ট বৃদ্ধি  পেয়েছে। তার আগের বছরগুলোতে সব সময় কম হয়েছে। কিন্তু এ রকম ধরনের কম হয়নি। আমি এটা আমলে নিইনি, এই ঘটনা আমলে না নিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে হিসাব করেছি। কারণ, এই যে স্থবিরতা বা একটুখানি শৈথিল্য এটা সাময়িক। তবে এটার পরিবর্তনের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে এটা সত্যি কথা দুর্নীতি ‘কস্ট অব প্রজেক্ট’ বাড়িয়ে দেয়।

অগ্রগতির লক্ষ্যে মেগা প্রকল্প : মেগা প্রকল্প সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়ে গেছে। অনেক দেরিতে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছি। তবে আমাদের অগ্রগতির যে লক্ষ্য, আমার মনে হয়, মেগা প্রকল্প আমরা এখন গ্রহণ করতে পারি।

এরশাদ সাহেবের বাজেট দিয়েছি : অর্থমন্ত্রী : অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে বলা হয়েছে, আমি দুবার জাতীয় পার্টির বাজেট দিয়েছি। এটা সর্বৈব মিথ্যা। আমি যখন বাজেট দিয়েছি তখন জাতীয় পার্টির জন্ম হয়নি। আমি দিয়েছি এরশাদ সাহেবের বাজেট, যখন নির্দলীয় সরকার ছিল।   অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে দশমবার বাজেট উত্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে গিয়ে জাতীয় পার্টির এমপি ফখরুল ইমাম, নুরুল ইসলাম ওমর, সেলিম উদ্দিন জাতীয় পার্টির আমলসহ মোট ১০ বার সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরিসংখ্যান দেন। তার প্রতি-উত্তরে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

up-arrow