Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ জুন, ২০১৬ ২২:৪৬
পুরোহিতের বাড়িতে ভারতীয় হাইকমিশনের দুই কর্মকর্তা
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ সদরে পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল, তার বাড়ি ও কর্মস্থল নলডাঙ্গা সিদ্ধেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তারা হলেন রাজেশ উকাই (রাজনৈতিক) ও রমাকান্ত গুপ্ত (কনস্যুলার)। এদিকে নিহতের বড় ছেলে অরুণ গোপাল গাঙ্গুলী গতকাল বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সোনাখালী গ্রামের মহিষা ভাগাড় নামক স্থানে পুরোহিত অনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী নিহত হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাজেশ উকাই ও রমাকান্ত গুপ্ত। এরপর বেলা ১১টার দিকে তারা নিহতের বাড়ি করাতিপাড়া গ্রামে যান। সেখানে তারা নিহতের স্ত্রী শেফালী রানী, ছেলে দীনবন্ধু অধিকারীসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। একই সঙ্গে নিহতের পরিবার যাতে এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার পায় সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে তারা অনুরোধ করবেন বলে জানান। ভারতীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলে হিন্দু নেতৃবৃন্দসহ এলাকার উত্সুক মানুষ ভিড় করে। এ সময় বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও জেলার সাধারণ সম্পাদক বাবু কনককান্তি দাস, পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বৈঠকে মিলিত হন। এদিকে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীর ব্যক্তিগতভাবে কারও সঙ্গে বিরোধ ছিল না। তার হত্যাকাণ্ডে এলাকার লোকজন হতবাক হয়ে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার জানান, যারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তারা কোনোভাবেই পার পাবে না। পুলিশ তদন্ত করছে। অপরাধীরা অচিরেই গ্রেফতার হবে। পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানান, এ হত্যার ঘটনায় ঝিনাইদহ সদর থানায় নিহতের ছেলে অরুণ দেবনাথ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে যারা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছে তারাই এ কাজ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। কেন্দ্রীয় পূজা উদ্যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ও ঝিনাইদহ জেলা সাধারণ সম্পাদক কনককান্তি দাস জানান, ‘অপরাধী যারাই হোক তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ ঘটনায় কোনো নিরীহ লোক যেন হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’ উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঝিনাইদহ সদরের সোনাইখালী গ্রামের মহিষের ভাগাড় মাঠে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী (৭০) নামের এক বর্ষীয়ান পুরোহিতকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনসহ সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow