Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ জুন, ২০১৬ ২২:৫৩
জয় বাংলা ও হানিফের নামে স্লোগান দিয়ে কালের কণ্ঠ কার্যালয়ে হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘কুষ্টিয়ায় রাজত্ব হানিফ লীগের’ শিরোনামে মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে দৈনিক কালের কণ্ঠের কুষ্টিয়া কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া শহরে এক মানববন্ধন শেষে এ   হামলা চালানো হয়।

কালের কণ্ঠের কুষ্টিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদকের বাসায়ও হামলার চেষ্টা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে কালের কণ্ঠের ঢাকা অফিসের আওয়ামী লীগ বিটের নিজস্ব প্রতিবেদককে মোবাইলে নামে-বেনামে একের পর এক হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে গতকাল সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগের জেলা তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের নেতৃত্বে শহরের থানা মোড় এলাকায় প্রধান সড়ক বন্ধ করে এক মানববন্ধন করা হয়। এতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা লীগ ও আওয়ামী লীগের একাংশের কয়েকশ নেতা-কর্মী অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে মাহবুব-উল আলম হানিফের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। না হলে কুষ্টিয়ায় কালের কণ্ঠ উত্খাত করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর তারা কালের কণ্ঠ পত্রিকার একটি বান্ডিল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী কুষ্টিয়ার পত্রিকা বিক্রেতাদের কাছে কাল (আজ) থেকে কালের কণ্ঠ বিলি না করার হুমকি দিয়ে আসেন। মানববন্ধন শেষে যুবলীগ নেতা সম্রাটের নেতৃত্বে অর্ধশত নেতা-কর্মী কালের কণ্ঠের কুষ্টিয়া কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। হামলা ভাঙচুরের সময় জয় বাংলা ও হানিফের নামে স্লোগান দেওয়া হয়। এরপর ওই নেতা-কর্মীরা কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিকের বাসায় হামলার চেষ্টা চালালে পুলিশের বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি। এরপর সম্রাটের নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সাংবাদিক তারিককে হত্যার উদ্দেশ্যে হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে সাংবাদিক তারিক জীবনের ভয়ে কুষ্টিয়া থেকে পালিয়ে যান। এর আগে মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশের পর হানিফের অনুসারীরা শহরের বিভিন্ন পত্রিকার দোকান থেকে কালের কণ্ঠের সব কপি নিয়ে যায়। ফলে কুষ্টিয়ার পাঠক ওই দিনের পত্রিকা পড়তে পারেননি। পাঠকরা অনলাইনে সংবাদটি পড়েন এবং কালের কণ্ঠকে ধন্যবাদ জানান।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে হানিফের এপিএস টুটুল কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক তারিকুল হক তারিককে মোবাইলে ফোন করে হানিফের বিরুদ্ধে রিপোর্ট প্রকাশের জন্য তাকে দায়ী করেন এবং এর পরিণাম ভালো হবে না বলে হুমকি দেন। ফোনে টুটুল আরও বলেন, আমরা দেশ চালাচ্ছি এবং অনেক কিছু করতে পারি কিন্তু আপনাদেরকে সম্মান করি তার মানে এই না যে, যা খুশি তাই লিখবেন। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে ‘কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে হানিফ ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে নতুবা সাংবাদিককে শায়েস্তা করা হবে এবং ধোলাই করা হবে’ এমন স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসে আরও বলা হয়, ‘আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, সাবধান হয়ে যান, ছাত্রলীগ ধরলে আপনাদের ছাড়বে না। ’ এসব ঘটনার আগেই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে বুধবার সকাল থেকেই কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন ও পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম সাংবাদিক তারিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাকে আপাতত সাবধানে থাকতে বলেন এবং তার বাসার সমানে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। সদর মডেল থানার এসআই ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও জেলা বিশেষ শাখার সদস্যরা তারিকের বাড়ির আশপাশে দায়িত্বরত রয়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশের পর কালের কণ্ঠের আওয়ামী লীগ বিটের নিজস্ব প্রতিবেদক তৈমুর ফারুক তুষারকে ৩টি মোবাইল নম্বর (০১৭১২২৭১৭৮৮, ০১৭১৭৬১০৯৬১, ০১৯৫৯৩৭৭৪৬৪) থেকে নয়বার ফোন করে গালাগাল করা হয় ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে খোঁজ নিয়ে এই নম্বরগুলোর মধ্যে ০১৭১৭৬১০৯৬১ নম্বরটি পার্থ কুমার দে নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পার্থের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে তার সঙ্গে মাহবুব-উল আলম হানিফ ও তার ব্যক্তিগত সহকারী টুটুলের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করা আছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow