Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২৩:০৫
দেশজুড়ে পুলিশি অভিযান
তিন দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৯ • জিরো টলারেন্স আইন প্রয়োগকারী সংস্থার
বিশেষ প্রতিনিধি
দেশজুড়ে পুলিশি অভিযান

চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী খুন হওয়ার পর সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতি উত্তরণকে নেওয়া হয়েছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে। এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানমসহ সাম্প্রতিক অন্যান্য টার্গেট কিলিংয়ের সঙ্গে জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) ও জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)সহ বিভিন্ন নামে আত্মগোপনে থাকা জঙ্গিদের ধরতে এবার ঘোষণা দিয়ে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে পুলিশ। গতকাল পুলিশ সদর দফতরে শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক শেষে সাত দিনের এ সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়। এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ওপর করণীয় নির্ধারণ নিয়ে এ বৈঠক চলে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে কমপক্ষে ১০ জেলার পুলিশ সুপারসহ উচ্চপদস্থ সব কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, পুলিশপ্রধানদের কনফারেন্স উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে সফর শেষ করে বুধবার রাতে ঢাকায় ফেরেন আইজিপি। যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর এসপি ও সদর দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক ডাকেন তিনি। গতকাল সকালেই আইজিপি সস্ত্রীক যান নিহত মাহমুদা খানম মিতুর স্বামী এসপি বাবুল আক্তারের রাজধানীর বনশ্রীর বাসায়। আইজিপি বলেন, একজন পুলিশ সুপারের স্ত্রীর এভাবে খুন হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত কাপুরুষোচিত ও বর্বরোচিত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাসও দেন পুলিশপ্রধান। পরে সেখান থেকে সরাসরি সদর দফতরে গিয়ে বৈঠকে বসেন আইজিপি। সদর দফতরের কনফারেন্স কক্ষে সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি ফাতেমা বেগম, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, রেলওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজিপি মো. আবুল কাশেম, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, সব কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, বগুড়া, ঝিনাইদহ ও নাটোর জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি)। পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, সভার শুরুতে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। আইজিপি বাবুল আক্তারের স্ত্রীর খুনের ঘটনাকে অত্যন্ত নির্মম, বর্বরোচিত ও দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন। আইজিপি দৃঢ় মনোবল নিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, টিম স্পিড নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইজিপি বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী প্রচার জোরদার করতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং কাজে লাগাতে হবে। সভায় দেশব্যাপী জঙ্গিদের তালিকা হালনাগাদ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়ানো, ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকর, আগন্তুক ও ভাড়াটিয়াদের ওপর নজরদারি বাড়ানো, বিদেশিদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে সদর দফতর থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার থেকে সাত দিনের সাঁড়াশি অভিযানে নামার কথা জানানো হয়।

অবশ্য পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে সাঁড়াশি অভিযানের ঘোষণনা দেওয়া হলেও সারা দেশেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তত্পর রয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি জঙ্গি হামলায় সরাসরি সম্পৃক্তদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে এবং তাতে মৃত্যুও হয়েছে কয়েক জঙ্গির। গত তিন দিনে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়া নয়জনের মধ্যে সাতজনই ছিল জেএমবি সদস্য। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজনের মধ্যে জয়পুরহাটের জঙ্গি তারেক হোসেন মিলু ওরফে ইসমাইল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম খুনে ও অন্যজন দিনাজপুরের সুলতান মাহমুদ ওরফে রানা ওরফে কামাল বগুড়া শিয়া মসজিদে হামলার সঙ্গে জড়িত। রাজশাহীতে নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জঙ্গি জামাল উদ্দিনকে বাঘমারায় কাদিয়ানি মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারী এবং বগুড়ায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত কাউসার বগুড়া শিয়া মসজিদে হামলায় অংশ নিয়েছিল। গতকাল ঢাকা ও গাইবান্ধায় আরও তিনজন নিহত হয়েছে বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে।

গতকাল পুলিশ সদর দফতরের বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, দেশের ৬৪ জেলায় এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে। এতে প্রয়োজন অনুসারে পুলিশকে সহায়তা করতে অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যও অংশ নেবেন। সরাসরি যৌথ বাহিনীর নামে না হলেও অনেকটা সেই আদলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শনই হবে অভিযানের উদ্দেশ্য। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ জানান, পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে বিজিবি সদস্যরাও অংশ নেবে। এ জন্য সংস্থাটির সব সেক্টর কমান্ডারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী এই অভিযানে বিজিবি সদস্য থাকবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow