Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২৩:০৬
হত্যাকাণ্ড দেখেছেন মাইক্রোবাস চালক!
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
হত্যাকাণ্ড দেখেছেন মাইক্রোবাস চালক!

প্রশাসনের সর্বশক্তি প্রয়োগের পরও ‘সফলতা’ নেই এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যারহস্য উন্মোচনে। এ হত্যারহস্য উন্মোচনে ডিবি, র‌্যাব, পুলিশ, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ (সিটিআই) দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব সংস্থা একযোগে কাজ করলেও সাফল্যের খাতা কার্যত ‘শূন্য’। সব মিলিয়ে বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে প্রশাসনের মধ্যেই। হত্যায় জড়িত অভিযোগে আবু নছর নামে শিবিরের সাবেক ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হলেও এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘আমাদের তদন্ত সঠিক পথে রয়েছে। সব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মামলার তদন্ত করা হচ্ছে। দেশের সব সংস্থাকে সমন্বয় করে এ হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা চলছে।’ জানা যায়, ঘটনার দিনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সিএমপি কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন ভারপ্রাপ্ত আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী। বৈঠকে সব সংস্থাকে সমন্বয় করে বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যার রহস্য উন্মোচন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মামলার এক দিন পর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে। তদন্তের সহায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে র‌্যাব, পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই, সিটিআইসহ দেশের অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। সব সংস্থাকে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা থাকলেও বর্তমানে এ মামলার চলছে দায়সারা তদন্ত। তদন্তের ক্ষেত্রে পিবিআই কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও আর কোনো সংস্থা সাফল্য দেখাতে পারেনি। যদিও পুলিশ আবু নছর নামে সাবেক এক শিবির ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু এ গ্রেফতার নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে। এ হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে খোদ সিএমপি থেকেই অভিযোগ উঠেছে। সিএমপির কয়েকজন পুলিশ কর্তকর্তার দাবি, আলোচিত মামলার রহস্য উন্মোচন করেছেন এমন কর্মকর্তাদের কাজে লাগানো হয়নি এ হত্যা মামলায়। আর যেসব কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে, তাদের অতীতে এ ধরনের মামলা তদন্ত করার অভিজ্ঞতা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে কী হচ্ছে তা নিজেই বুঝতে পারছি না। অভিজ্ঞ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের মামলার তদন্তভার না দিলে যা হয়, এ মামলার ক্ষেত্রে তা-ই হচ্ছে।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তের দায়িত্ব দিল কিনা তা বড় কথা নয়। দায়িত্ববোধ থেকেই নিজ উদ্যোগে তদন্ত করছি। আশা করছি সাফল্য পাব।’

মিতু হত্যাকাণ্ড দেখেছেন মাইক্রোবাসচালক : এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ড দেখার কথা স্বীকার করেছেন আটক কালো মাইক্রোবাসচালক জানে আলম। বুধবার রাতে পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর এ হত্যার বিষয়ে জানে আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানে আলম পুলিশকে জানান, তিনি এ ঘটনায় জড়িত নন। তবে তিনি এ হত্যাকাণ্ড দেখেছেন। এ বিষয়ে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি নিজ চোখে দেখলেও চালক জানে আলম হত্যায় জড়িত কিনা সে বিষয়ে আরও তদন্ত করা হবে। এ ব্যাপারে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ মিতু হত্যাকাণ্ডের পরপরই সিসিটিভির ফুটেজে তিনজন মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি কালো মাইক্রোবাসকে চলে যেতে দেখা যায়। নগরীর আরও বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভিতেও মাইক্রোবাসটির সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে পুলিশের। এর পর থেকে তাই গাড়িটিকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। বুধবার রাতে কালো মাইক্রোবাসটি জব্দ করে পুলিশ। এ সময় আটক করা হয় মাইক্রোবাসের চালক জানে আলমকে।

নছরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন : মিতু হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সাবেক ‘শিবির ক্যাডার’ আবু নছর গুন্নুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ। রিমান্ড শুনানিকালে কোন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নছরকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগামী রবিবারের মধ্যে জমা দিতে আদেশ দেয় আদালত। একই সঙ্গে ওই দিনই রিমান্ডের পুনঃশুনানির দিন ধার্য করা হয়। গতকাল বিকালে এসব আদেশ দেয় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবদুল কাদেরের আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মিতু হত্যায় করা মামলাটি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আবদুল কাদের। এ সময় মামলাটি তদন্তে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আরও সতর্ক হওয়ার কথাও বলে আদালত। শুনানিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের যৌক্তিকতা তুলে ধরলে আদালত তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে বলে, কোন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আবু নছরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তা আগামী রবিবার আদালতে উপস্থাপন করা হোক। ওই দিনই রিমান্ড শুনানি হবে। হাটহাজারী থেকে গ্রেফতার ‘শিবির ক্যাডার’ আবু নছর গুন্নু ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেছে দরবারে মুসাবিয়া এন্তেজামিয়া। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান মুসাবিয়া দরবার শরিফ পীরের নাতনি খায়রুন নুর সিদ্দিকা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যায় নিরপরাধ গুন্নুকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে নিয়ে যদি পুলিশ গ্রেফতার-বাণিজ্য করতে পারে তাহলে আমরা কোন দেশে বসবাস করছি! একশ্রেণির লোভী পুলিশ কর্মকর্তার কারণে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। পুলিশের ধারণা, বাবুল আক্তারের জঙ্গিবিরোধী তত্পরতার কারণে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হন তার স্ত্রী মিতু। মামলা তদন্তের মূল দায়িত্বে আছে নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে র‌্যাব, পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও সিটিআই তদন্তে সহায়তা করছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow