Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১০ জুন, ২০১৬ ২২:৩৩
হকার-দোকান মালিক সংঘর্ষ
গুলিস্তান রণক্ষেত্র, আহত ৩০ আটক দুই শতাধিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
হকার-দোকান মালিক সংঘর্ষ

রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনে দোকান বসানো নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হকারদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের সময় ব্যবসায়ী ও হকাররা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েছে। ফুটপাথের দোকান গুঁড়িয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে গুলিস্তান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও হকারকে আটক করে। এদিকে ঢাকা ট্রেড সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গুলিস্তান সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের বিপরীতে ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনের ফুটপাথে হকাররা দোকান বসাতে যায়। এ সময় মার্কেটের লোকজন বাধা দেয়। এ খবর ফুটপাথের হকার ও মার্কেটের লোকজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। একপর্যায়ে অনেকে লাঠি হাতে হামলা শুরু করে।

উভয় পক্ষই রাস্তায় গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। হকারদের পণ্যবিক্রির চৌকিসহ তাদের পণ্যে আগুন দেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে মার্কেটে ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করে হকাররা। তারা ইটপাটকেল ছুড়ে মার্কেটে ভাঙচুর করলে অবস্থা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে ফুলবাড়িয়া, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, নবাবপুর থেকে গুলিস্তান ও যাত্রাবাড়ী অভিমুখী রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারেও যান চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এক সময় মার্কেটের লোকজন গেট বন্ধ করে ছাদের ওপর থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেনসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন হকার আহত হন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ দিকের রাস্তায় হকারদের পণ্য বিক্রির চৌকিতে আগুন দেওয়া হয়েছে। পূর্ব দিকের রাস্তায় ইটের বড় বড় খোয়া ও লাঠিসোঁটা পড়ে আছে। ট্রেড সেন্টারের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে শতাধিক টিয়ার শেলের খোসা। পুলিশ পাহারায় ট্রেড সেন্টারের ভিতর থেকে দুই শতাধিক লোককে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসি মোহাম্মদ তারেক বিন রশিদ বলেন, মার্কেটের বাইরে ও ভিতরে তল্লাশি চালিয়ে ১৫০-২০০ জন ব্যবসায়ী ও হকারকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই চলছে। যারা নির্দোষ তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। আর বাকিদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ ও পুলিশকে জখম করার দায়ে দুটি মামলা করা হবে। মার্কেট সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির বলেন, পুলিশ রাস্তা থেকে হকার উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু তারা মার্কেটের সামনে ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। তাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। তারা কথা না শুনে আমাদের ওপর হামলা করেছে। তবে হকারদের নেতা বুলবুল বলেন, মার্কেটের জায়গা ছেড়ে তারা দোকান বসাতে যান। অথচ মার্কেট ব্যবসায়ীরা অহেতুক অভিযোগ তুলে হামলা করেছে। এতে হকারদের মালামালেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ওই এলাকা হকারমুক্ত করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। বিকালে তিনি চলে যাওয়ার পরপরই ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গতকাল দ্বিতীয় দফায় দোকান মালিক ও হকারদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে, গুলিস্তানে ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা ট্রেড সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। তারা বলছে, ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এ মার্কেটটি বন্ধ থাকবে।

১৯০ আসামি কারাগারে : গুলিস্তানে সংঘর্ষের ঘটনায় করা পল্টন থানার মামলায় ১৯০ আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মো. খুরশিদ আলম এ আদেশ দেন। এ বিষয়ে আদালত পুলিশের উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের এসআই ওবায়েদুর রহমান ১৯০ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ সময় আসামিদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাকিম আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে গতকাল সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের হাজতখানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. রুহুল আমিন জানান, নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে রাত পৌনে ১০টার দিকে ১৯০ আসামিকে বিশেষ ব্যবস্থায় পুলিশের পিকআপ ভ্যানে করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow