Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১০ জুন, ২০১৬ ২২:৩৬
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে বাবুলের আলোচিত অভিযানগুলোও
এসপিপত্নী খুন : মানববন্ধনে ছোরাসহ যুবক আটক
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে জঙ্গিসংশ্লিষ্টতার পাশাপাশি তার চালানো বিগত সময়ের আলোচিত অভিযানগুলোকেও গুরুত্বসহকারে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মামলার এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘মিতু হত্যার তদন্তের ক্ষেত্রে জঙ্গিদের পাশাপাশি বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত আলোচিত অভিযানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনও হতে পারে বাবুল আক্তারের অভিযানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মাফিয়া কিংবা সন্ত্রাসী গ্রুপ এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তাই সব বিষয় সামনে রেখে মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।’ সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘সম্ভাব্য সব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে মামলার তদন্ত করা হচ্ছে।’ তদন্তসংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসপি বাবুল আক্তার কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনের সময় ইয়াবা এবং মানব পাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন অভিযানে অসংখ্য ইয়াবা ও মানব পাচার চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেন। তার সিরিজ অভিযানের কারণে পাচারকারীদের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ে। তাই তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, ক্ষুব্ধ হয়ে কক্সবাজারের ইয়াবা ও মানব পাচারকারীরা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে পারে। এ ছাড়া এ বছরের শুরুর দিকে চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালিয়ে বিপুল সোনার বার উদ্ধার ও নগদ অর্থ আটক করে বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সোনা চোরাচালান ও হুন্ডির ব্যবসার কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটেরও সন্ধান পান তিনি। তাই হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্ত কর্মকর্তারা। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময় বাবুল আক্তারের অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে প্রাণ হারায় খলিল ডাকাত, কাদের ডাকাত, শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার ওসমান, শেয়াখতসহ আরও কয়েকজন অপরাধী। নগরীতে বাবুল আক্তারের টানা অভিযানের কারণে হামাকা গ্রুপ, গামছা পার্টি, মলম পার্টির সদস্যরা একসময় কোণঠাসা হয়ে পড়ে। তদন্ত কর্মকর্তারা বন্দুকযুদ্ধে নিহত অপরাধীর অনুসারী কিংবা ছিনতাইকারী চক্রের কোনো সদস্য এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন। ২০০৭ সালে বাবুল আক্তারের উন্মোচিত নরসিংদীর ভেলানগরের আলোচিত ‘সিক্স মার্ডারের’ আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম নগরীতে বিগত সময়ে নাশকতাবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাবুল আক্তার। তাই নাশকতাকারীরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মানববন্ধন থেকে অস্ত্রসহ যুবক আটক : মিতু হত্যার বিচার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে জঙ্গি সন্দেহে মো. ইব্রাহিম নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি ছোরা, একটি দামি মোবাইল, একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়। গতকাল বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

এদিকে গ্রেফতার হওয়া ইব্রাহিমের দেওয়া নাম-ঠিকানা ভুল বলে প্রাথমিক নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, প্রেসক্লাব থেকে আটক হওয়া যুবক পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, আটক হওয়া যুবকের কাছে হত্যার ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যাবে। তাই তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow