Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১০ জুন, ২০১৬ ২২:৪১
বন্দুকযুদ্ধ অব্যাহত সাতক্ষীরায় আরও একজন নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেই চলছে। গতকালও সাতক্ষীরায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক চরমপন্থি নেতা নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গত পাঁচ দিনে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল দশ-এ। এদের মধ্যে কয়েকজন সাম্প্রতিক কয়েকটি জঙ্গি হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গতকাল ভোরে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের চারাবটতলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিষিদ্ধ পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা মোজাফফর সানা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে গুলিসহ একটি অস্ত্র ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত মোজফফর সানা দোহার গ্রামের আবদুল গফফার সানার ছেলে। তিনি পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির মোজাফফর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা, ছয়টি ডাকাতিসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছগির মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাতে মাগুরা ইউনিয়নের চারাবটতলা এলাকায় টহলে ছিল। এ সময় মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী দ্রুত বেগে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের চ্যালেঞ্জ করে। সঙ্গে সঙ্গে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে এবং গুলি চালায়। এতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে মোটরসাইকেল চালক গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান। অন্যরা দ্রুত পালিয়ে যান। পুলিশ আহত ব্যক্তিকে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির মোজাফফর সানা হিসেবে চিহ্নিত করে। তাকে তালা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। মোজাফফর সানা তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হওয়ায় পুলিশ তাকে খুঁজছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, একটি দেশীয়  সাটার গান ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। তিনি আরও জানান, আহত পুলিশের দুই কনস্টেবলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পলাতক অপর দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্যানুযায়ী, গত পাঁচ দিনে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে সাতজনই জেএমবির সদস্য। গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুজনের মধ্যে জয়পুরহাটের জঙ্গি তারেক হোসেন মিলু ওরফে ইসমাইল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যায় ও অপরজন দিনাজপুরের সুলতান মাহমুদ ওরফে রানা ওরফে কামাল বগুড়া শিয়া মসজিদে হামলায় জড়িত। রাজশাহীতে নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের জঙ্গি জামাল উদ্দিন বাঘমারায় কাদিয়ানি মসজিদে আত্মঘাতী হামলাকারী এবং বগুড়ায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত কাউসার বগুড়া শিয়া মসজিদে হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। একইভাবে বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে বৃহস্পতিবার ঢাকা ও গাইবান্ধায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow