Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১১ জুন, ২০১৬ ২২:৫৩
ঢাকার সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনকে ক্ষমতা দিতে হবে
গোলাম রাব্বানী
ঢাকার সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনকে ক্ষমতা দিতে হবে
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেছেন, সিটি করপোরেশনসহ অন্য প্রতিষ্ঠানের কাজে সমন্বয় না থাকার কারণে জলাবদ্ধতাসহ সিটিতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকার সব সেবা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে দিলেই সব সমস্যার সমাধান দ্রুত হবে। এ ছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজেও সমন্বয় আসবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের অধীনে রাস্তা। তারাই রাস্তা মেরামত করেছে। অন্যদিকে একই সময় ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, টিঅ্যান্ডটিসহ অন্য সেবা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করেছে। কোন প্রতিষ্ঠান কখন খোঁড়াখুঁড়ি করে এর কোনো সমন্বয় নেই। সিটি করপোরেশনের পক্ষে এর সমন্বয় করাও কঠিন। তবে সিটি করপোরেশনকে ক্ষমতায়ন করে এসব কাজের দায়িত্ব দিলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। বর্ষাকালে শহরজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বাজেটের সময়কালে কিছুটা সমস্যা আছে। বাজেটের অর্থ এমন সময় আসে, যখন বর্ষাকাল থাকে । তাই অর্থবছরের শেষ দিকে টাকা খরচের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত কাজ করতে চায়। এতে কাজও ভালো হয় না। আর বর্ষার সময় এসব উন্নয়ন কাজ করতে হয়। এতে সমস্যার সৃষ্টি হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে করতে হলে বাজেটের সময়কাল পরিবর্তন করতে হবে। উন্নয়নের টাকা যদি সঠিক সময়ে আসে, তবে উন্নয়ন কাজও সুন্দর হবে।’ তিনি বলেন, বিশ্বে অনেক শহরে খোঁড়াখুঁড়ি হয়। কিন্তু তারা রাতে খোঁড়াখুঁড়ি করে ভোর হওয়ার আগে তা শেষ করে। যদি কাজ শেষ নাও হয়, তবে তাতে টিনশেড দিয়ে যাতায়াতের ব্যাবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, ঢাকায় রাস্তা কাটা হয় বিভিন্ন কাজে। কিন্তু সেই মাটি রাস্তার পাশেই রেখে দেওয়া হয়। এ মাটি বর্ষায় ধুয়ে যায়। তা আবার ড্রেন ভর্তি হয়। কিন্তু অন্য দেশে মাটি কেটে অন্য জায়গায় রাখা হয়। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটিতে এমন পদ্ধতি করা হয়েছে। রাস্তায় আর মাটি কেটে রাখা হচ্ছে না।

এই স্থপতি বলেন, সিটি করপোরেশন সরাসরি জনগণের প্রতিনিধি দ্বারা তৈরি ও পরিচালিত। মেয়র হচ্ছেন ‘নগরপিতা’। কিন্তু বাস্তবে ঢাকা শহরের পিতা রয়েছে ৫০ জনের বেশি তথা প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠান, যারা বিভিন্ন স্বাধীন মন্ত্রণালয়ের অধীনে। সন্তান এক (বর্তমানে দুই) পিতা অগণিত। স্বাধীন ক্ষমতাসহ নির্বাচিত ‘নগরপিতার’ কোনো কর্তৃত্বই নেই তাদের ওপর। বিশ্বের সবখানে মেয়রের আওতায় নগর পুলিশ, ট্রাফিক, পরিবহন, রাস্তাঘাট, হাউজিং, বিদ্যুৎ্, পয়ঃপ্রণালি, পানি সরবরাহ প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে মেয়র তথা নগরপিতা জবাবদিহিসহ দেখভাল করেন। কিন্তু বাংলাদেশে তার কাজটা করে সমন্বয়হীনভাবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাধীন কর্তৃপক্ষ। বহু পিতার এক সন্তানের করুণ অবস্থা ঢাকাবাসীর।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে হ-য-ব-র-ল অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া বিকল্প নেই। স্বাধীনতা আমাদের স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছে। শুধু সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দিতে পারি। স্বাধীনতা এনেছি ৯ মাসে। অবশ্যই ছয় মাসে উপযুক্ত নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বপ্নগুলোয় বাস্তবায়নের ছোঁয়া লাগাতে পারি আমরা।’

তিনি বলেন, একটার পর একটা ফুটওভারব্রিজ কিংবা ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে আইনের শাসন তথা এর প্রয়োগ না থাকায় ফুটওভারব্রিজের ব্যবহার নেই বললেই চলে। আর তথাকথিত ফ্লাইওভারগুলো ব্যবহার করছে মুষ্টিমেয় কিছু লোক! একটি শহরে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ জায়গায় রাস্তা থাকা প্রয়োজন। ঢাকায় আছে মাত্র ৮ শতাংশ। আর ৮ শতাংশের প্রায় ৪০ শতাংশ রাস্তাই বেআইনি দখলে। প্রতিদিন ৫০ লাখের ওপরে মানুষ ঢাকার রাস্তা ব্যবহার করে। যানজটের কারণে প্রতিদিন ২০ লাখের ওপরে বাণিজ্যিক ঘণ্টার অপচয় হয়। তেলের অপচয় হয় বছরে ১২ হাজার কোটি টাকার ওপরে। বার্ষিক সামগ্রিক অপচয় ২০ হাজার কোটি টাকার ওপরে শুধু এক ঢাকা শহরেই।




up-arrow