Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুন, ২০১৬ ২২:৫৫
তদন্তে নতুন মোড়, কারাগার থেকে জঙ্গির চিরকুট
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
তদন্তে নতুন মোড়, কারাগার থেকে জঙ্গির চিরকুট

এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা তদন্ত নিয়েছে নতুন মোড়। কারাগার থেকে এক জঙ্গির পাঠানো চিরকুটের সূত্র ধরে নড়েচড়ে বসেছেন তদন্তকারীরা। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট খুলতে এখন অর্ধশত জঙ্গিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, জঙ্গিবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে বাবুল আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের জঙ্গিরা টার্গেট করেছে। পলাতক জঙ্গিদের কেউ মিতু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা গেলে খুলে যেতে পারে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যজট। তাই রহস্য উন্মোচনে পলাতক জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আনসার আল ইসলাম)-এর অর্ধশত সদস্যকে গ্রেফতারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিগত সময়ে মামলার তদন্তকালে জেএমবি ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (আনসার আল ইসলাম)-এর প্রায় ৭০ জন জঙ্গির নাম পাওয়া গিয়েছিল। তাদের প্রায় সবাই পলাতক। ধারণা করছি, পলাতক এ জঙ্গিদের কেউ মিতু হত্যার সঙ্গে জড়িত। তাই পলাতক ওই জঙ্গিদের গ্রেফতারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।’ সিএমপি সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় জঙ্গি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে প্রায় ৭০ জনের নাম আসে। তাদের অধিকাংশকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাই পলাতক ওই জঙ্গিদের গ্রেফতারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সিএমপির তালিকায় পলাতক থাকা জঙ্গিরা হলো— নোমান, বাবু, রবিউল, নাইমুর রহমান নয়ন, পিয়াস, শওকত রাসেল, নাফিজ, ফয়সাল মাহমুদ, মিজানুর রহমান প্রকাশ শাওন, জনি শেখ, আবুল হোসেন, বিপ্লব, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আবদুল হাফিজ, আবু নূর প্রকাশ আইয়ূব আলী, মো. ফরিদুজ্জামান স্বপন, সুমন, মো. ফেরদৌস, সাইফুল, মো. ইউসুফ, দেলোয়ার হোসেন, জাহিদ, আনিছ, আবুল কাশেম, জসিম, সালাউদ্দিন, তসলিম, শাহাদাৎ হোসেন, বাবুল, আরিফুর রহমান ওরফে আকাশ, জুয়েল খান, তরিকুল ইসলাম মিঠু, রকিবুল হাসান উজ্জ্বল, আবদুর রহমান, ফরহাদ নাছিম বাপ্পী, মো. ইব্রাহিম, মো. মালেক, মামুন, হাফেজ হাবিবুর রহমান, মাওলানা নোয়াব মিয়া, নূরুল আমিন প্রকাশ নাবিল প্রকাশ মিন্টু, মো. মনিরুল ইসলাম প্রকাশ সাইফুল্লাহ, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

সেই চিরকুটের তদন্ত : এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যাকাণ্ডের পর কারাবন্দী জেএমবি সদস্য ফুয়াদ ওরফে বুলবুলের একটি চিরকুট তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে পিবিআই। জেএমবির শীর্ষ নেতাদের কাছে বুলবুলের পাঠানো ওই চিরকুটে বাবুল আক্তারসহ খোয়াজনগর ও অক্সিজেন এলাকায় জেএমবিবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের হত্যার আহ্বান জানানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, বুলবুলের ওই চিরকুটের সঙ্গে মিতু হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই ওই চিরকুটের বিষয়টি তদন্ত করতে মাঠে নেমেছে পিবিআই। সংশ্লিষ্টরা জানান, গাইবান্ধার জেএমবি আস্তানা থেকে বুলবুলের লেখা ওই চিরকুট উদ্ধার করে পুলিশ। বিভিন্ন হাত ঘুরে চিরকুটটি পৌঁছেছে পিবিআইর কাছে। চিরকুটে বাবুল আক্তারসহ পুলিশ সদস্যদের হত্যার আহ্বান জানানো হয়। এতে বুলবুল লেখেন, ‘ভাই, আপনাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, আপনারা ওই জালেম দোসরদের হত্যা করতে থাকুন এবং তাদের অফিসে গিয়ে হলেও হামলা করুন। তারা যদি ছুটিতে যায় তখন হলেও তাদের হত্যা করুন এবং প্রতিশোধ নিন।’ তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাবুল আক্তারকে হত্যা করতে না পেরে তার স্ত্রীর ওপর হামলা করেছে জঙ্গিরা।

বুলবুল রিমান্ডে : কারাগারে আটক জেএমবি সদস্য ফুয়াদ ওরফে মো. বুলবুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল এ আদেশ দেন মহানগর হাকিম হারুনুর রশিদ। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, ২০১৫ সালের ২৫ মে বাকলিয়া থানার সৎসঙ্গ আশ্রম এলাকায় অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার ঘটনায় বুলবুলকে গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিন মঞ্জুর করে। সিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ অক্টোবর নগরীর খোয়াজনগরে অভিযান চালিয়ে বুলবুলসহ পাঁচ জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক প্রধান মো. জাবেদ ওরফে জায়েদ আরেকটি অভিযানে গ্রেনেড বিস্ফোরণে মারা যায়। ওই অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার জন্য জেএমবি শীর্ষ নেতাদের একটি চিরকুট দেয় বুলবুল। সম্প্রতি এ বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে তদন্তে নামে পিবিআই। মূলত এ বিষয়টি তদন্ত করতেই বুলবুলকে রিমান্ডে নিয়েছে পিবিআই। প্রসঙ্গত, ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার ক্লু উদ্ঘাটন এবং আসামিদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করেছে ডিবি, র?্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow