Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুন, ২০১৬ ২৩:০০
নোয়াখালীতে এমপি একরামের চমক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নোয়াখালীতে এমপি একরামের চমক

নোয়াখালীর রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করলেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য।

১২ বছর আগে ২০০৪ সালের ২৩ জুলাই গোপন ব্যালটে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এই সপ্রতিভ ও গণমুখী তরুণ নেতা একরাম চৌধুরী। সেবারই প্রথমবারের মতো এই পদে গোপন ব্যালটে নির্বাচন হয়। অচিরেই নেতা-কর্মীরা তার ক্যারিশমেটিক ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে সংগঠনের কাজে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সংগঠনকে ধীরে ধীরে একটি দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি। ফলে ‘বিএনপির দুর্গ’ নামে পরিচিত নোয়াখালী এখন আওয়ামী লীগের দুর্গ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি সমাপ্ত জেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮ পৌরসভার মেয়র পদের সবগুলোয় এবং ইউনিয়ন পরিষদের এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সবকটিতে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। এই জয়ের নেপথ্য নায়ক একরাম চৌধুরী। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের এরকম অর্জন আগে কখনো দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের ধারণা, ওবায়দুল কাদেরের দিক-নির্দেশনায় একরাম চৌধুরীর গতিশীল নেতৃত্বের ফলেই এ সাফল্য ধরা দিয়েছে। ২০০৪ সালে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বগ্রহণের পর প্রতিটি গ্রাম, পাড়া, মহল্লাসহ দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে গিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন তিনি। একই সঙ্গে চালাতে থাকেন দল পুনর্গঠনের কাজ। এতে নেতা-কর্মীরা উদ্দীপ্ত হন, তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয় প্রাণচাঞ্চল্য। জননেতা আবদুল মালেক উকিলের মৃত্যুর পর নোয়াখালী হয়ে ওঠে বিএনপির ঘাঁটি। সেই ঘাঁটিতে একরাম চৌধুরী হানা দিলেন, ধীরে ধীরে দলকে করলেন সক্রিয় ও সতেজ। নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার নেতৃত্বে কাজ করায় এখানে কোনো রকম গ্রুপিং সৃষ্টি হতে পারেনি। এরই পরিণতিতে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে দেখা গেল ২৪ বছর আগে নোয়াখালীতে আবদুল মালেক উকিলের হারানো সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধার হয়েছে। ওই আসনেই নির্বাচিত হলেন একরাম চৌধুরী। এটাও তার এক চমক। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে একরামুল করিম চৌধুরী নোয়াখালী জেলা শহরসহ পুরো নোয়াখালীকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করে অনন্য নজির গড়লেন। রোজ সকালে নিজের মোটরবাইক হাঁকিয়ে তিনি ছুটে যেতেন দুর্গম চরাঞ্চলে, গ্রামের হতদরিদ্রদের খোঁজখবর নিতেন। তাদের দুর্দশা মোচনে যথাসাধ্য করতেন। কোথায় কার কী সমস্যা, কোথায় রাস্তা নেই, কোথায় কালভার্ট নেই তা খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্ট দফতরে সঙ্গে সঙ্গে টেলিফোন করে ব্যবস্থা নিতেন। নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চলে এমন কোনো সড়ক নেই যেটি পাকা হয়নি, তার ঐকান্তিক চেষ্টায় শুধু চরাঞ্চল নয়, পুরো জেলা উন্নয়নের জোয়ার বইছে। এতে অল্প কয়দিনে তিনি হয়ে ওঠেন সবার প্রিয়। এ ছাড়া দলীয় কর্মকাণ্ডে তার সশরীর উপস্থিতি সবার নজর কাড়ে। বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যখন জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখনও তিনি রাস্তায় ওইসব সহিংসতা প্রতিরোধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ওই সময়ে অনেক সংসদ সদস্যকে মাঠে খুঁজে পাওয়া না গেলেও একরামুল করিম চৌধুরী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন মাঠে-ময়দানে থেকেছেন। সন্ত্রাসবিরোধী কার্যকলাপে সহায়তা হিসেবে নিজের টাকায় পুলিশকে ২টি গাড়ি কিনে দিয়েছেন। ওই সময়ে দলের জেলা অফিস জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা জ্বালিয়ে দেয়। পরে, নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে দলীয় অফিসের জন্য দৃষ্টিনন্দন তিনতলা ভবন নির্মাণ করে দেন একরাম চৌধুরী। ২০১৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন উদ্যমে আবার কাজ শুরু করেন। তার প্রতিশ্রুত অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে থাকেন। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে তাকে আবারও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর তিনি তার সব উপজেলা পর্যায়ে দলকে চাঙ্গা করতে থাকেন। তার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে এবারে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা জেলার ৮ পৌরসভার প্রত্যেকটিতে এবং ১১০ ইউনিয়নের মধ্যে এখন পর্যন্ত সমাপ্ত হওয়া সবকটিতে জয়লাভ করেন। তার অনুরাগীরা মনে করেন, এই সাফল্যের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যথাসময়ে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দেবেন। একরাম চৌধুরীর ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম সেলিম বলেন, ‘এটা একটা মিরাকল। তার জাদুর কারণে আওয়ামী লীগ এখানে শুধু সুসংগঠিত নয়, আমরা বিএনপির দুর্গকেও ভেঙে দিয়েছি যা এতদিন সম্ভব হয়নি। এ জন্য তার মতো নেতার প্রয়োজন। তার নেতৃত্বে কাজ করতে আমরা স্বস্তিবোধ করি। ’ জানতে চাইলে একরাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সন্তান। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জনগণের নেতা ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে ও নেতৃত্বে আমরা কাজ করি। আমি আমার এলাকাকে টুঙ্গিপাড়ার চেয়েও শক্তিশালী করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, সবাই মিলে কাজ করলে সাফল্য অর্জন কোনো কঠিন সমস্যা নয়। সম্মিলিত চেষ্টায় নিশ্চয়ই একদিন আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পারব। ’

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow