Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ জুন, ২০১৬ ২৩:২৪
বন্দুকযুদ্ধ-পিটুনিতে ছয়জন নিহত
প্রতিদিন ডেস্ক

যশোরে পৃথক দুটি ঘটনায় গণপিটুনির শিকার ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন চারজন। পুলিশ দাবি করেছে, নিহতদের একজন বন্দুকযুদ্ধের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে এবং অপর তিনজন ডাকাতি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

তাদের কারও পরিচয় পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পুলিশের গুলিতে রুবেল মিয়া (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, জীবন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অন্যদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রুবেল হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর— যশোর : গতকাল সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে রক্তাক্ত তিনটি লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। সকাল ৮টার দিকে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্যা খবির আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর এলাকায় ডাকাতের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। ডাকাতদের মধ্যে তিনজনকে স্থানীয় লোকেরা ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম বলেন, সকালে লোকমুখে তিনজনের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। মঙ্গলবার রাতে তার এলাকায় কোনো বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা বা গণপিটুনির কথা শোনেননি বলেও তিনি জানান। সকালে ঘটনাস্থল থেকে ঝিকরগাছা থানার এসআই আকরাম হোসেন চৌধুরী জানান, তিনি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন। নিহতদের তিনজনের মাথার সামনে, পেছনে ও কানের পাশে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতদের একজনের বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। অপর দুজনের বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। তারা বলেন, কৃষ্ণনগর এলাকার কাটাখাল ও কপোতাক্ষ নদের সংযোগস্থলে ঝিকরগাছা পৌরসভার উদ্যোগে একটি পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। সকালে এ পার্ক থেকে সামান্য দূরে মরদেহগুলো পড়ে থাকতে দেখেন তারা। সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ মরদেহগুলো দেখলেও কেউ তাদের পরিচয় জানাতে পারেনি। উল্লেখ্য, সোমবার মধ্যরাতে কৃষ্ণনগর গ্রামে ডাকাতদের ছুরিকাঘাতে ঝিকরগাছা থানার এএসআই তৌহিদ গুরুতর আহত হন। তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ ঝিকরগাছা শহরের ওয়াপদাপাড়া জেলেপল্লীতে দফায় দফায় অভিযান চালায়। এরই মধ্যে ওই এলাকায় তিনজন নিহতের ঘটনা ঘটল। এদিকে একই রাতে সদর উপজেলার যশোর-মণিরামপুর সড়কে সুতিঘাটা কামালপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন এক যুবক। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, রাত আড়াইটার দিকে কামালপুরে রাস্তার দুপাশে গাছে দড়ি বেঁধে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল একদল ডাকাত। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে গেলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ৮/১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা চার রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় এক ডাকাত মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে গেলে অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ব্যক্তির নাম জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে চারটি গাছিদা, একটি রামদা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহার্য কিছু দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে সরাইলে পুলিশের গুলিতে রুবেল মিয়া (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের দাবি, জীবন বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের তিন কনস্টেবল আহত হন। সরাইল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাড়িউরা ব্রিজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রুবেল সরাইল উপজেলার শাহ্বাজপুর গ্রামের মহরম আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে জেলার সরাইল ও হবিগঞ্জের মাধবপুর থানায় ৯টি মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে একদল সশস্ত্র ডাকাত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের বাড়িউরা ব্রিজের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতির চেষ্টা করছিল। এ খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয়পক্ষে বন্দুকযুদ্ধ হয়। ডাকাতরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ রাউন্ড ও পুলিশ ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। জীবন গুলিবিদ্ধ হয়ে মহাসড়কের পাশের একটি ঝোপে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঝোপ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশের কনস্টেবল আজিজ, রবিউল ও মেহেদী আহত হয়। তাদেরকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান, দুই রাউন্ড গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, ২৬ মে জেলার বিজয়নগরে শশই নামক স্থানে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মহব্বত আলী (২৮) নামে এক যুবক নিহত হন। পুলিশের দাবি, নিহত যুবক আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য। একইভাবে ৭ জুন জেলার নাসিরনগরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রুবেল মিয়া (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত রুবেল ডাকাত দলের সর্দার। পাবনা : ঈশ্বরদীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রুবেল হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত রুবেল পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই সুজাউল ইসলাম সুজা হত্যা মামলার প্রধান আসামি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান, ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ বিমান কুমার দাশ। নিহত রুবেল উপজেলার দিয়ার বাঘইল গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। বিমান কুমার দাশ জানান, আসামি রুবেল হোসেনকে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার দিয়ার বাঘইল রেললাইনের পাশ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরেক আসামি ইবরা হোসেনকে গ্রেফতারের জন্য রুবেলকে নিয়ে পদ্মার চরে অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে পৌঁছানোর পর পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে অপর আসামিরা। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে রুবেল পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে গুলিবিদ্ধ রুবেলকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

up-arrow