Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৫ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৫
মাগফিরাতের ১০ দিন
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক শুরু হবে। হাদিসে উল্লিখিত হয়েছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনার জন্য এ ১০ দিন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, মাহে রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাতের এবং শেষ ১০ দিন নাজাতের অর্থাৎ দোজখের আগুন তথা যাবতীয় ঐহিক-পারলৌকিক দাবদাহ বা যন্ত্রণা থেকে মুক্তিপ্রার্থনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুত রমজান মাসে চারটি কাজ গুরুত্বসহকারে করা আবশ্যক— আল্লাহর একাত্ম ও তাঁর বান্দা হওয়ার কথা বার বার আন্তরিকতার সঙ্গে স্বীকার ও ঘোষণা করা অর্থাৎ কালেমা তাইয়েবা ও কালেমা শাহাদাত বেশি বেশি পাঠ করা, তাঁর কাছে ক্ষমা ও মাগফিরাতের প্রার্থনা করা; ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনে পরিত্রাণ লাভের জন্য দোয়া করা এবং উভয় জীবনে যাবতীয় দাবদাহ-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি প্রার্থনা। আল্লাহ রব্বুল আলামিন তার বান্দার কাছ থেকে প্রার্থনা বা মোনাজাত শোনা এবং কবুল করা পছন্দ করেন। সুরা আল আনয়ামের ৬৩-৬৪ আয়াতে উল্লেখ হয়েছে : ‘বলুন, কে তোমাদের ত্রাণ করেন যখন তোমরা স্থলভাগের ও সমুদ্রের বিপদে কাতরভাবে এবং গোপনে তাঁর কাছে অনুনয় কর এভাবে— আমাদের এই বিপদ থেকে ত্রাণ করলে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। বলুন, আল্লাহই তোমাদের বিপদ থেকে ও সব দুঃখকষ্ট থেকে পরিত্রাণ করেন। এতদসত্ত্বেও তোমরা তাঁর শরিক কর।’ বিপদে পড়লে মানুষ বিপদ থেকে মুক্তির প্রার্থনা করে কাতরস্বরে কিন্তু বিপদ থেকে মুক্তিলাভের পর প্রায়ই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না বরং বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কারও সাহায্যের কথা কখনো কখনো স্মরণ করে। এটা চরম অকৃতজ্ঞতা এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে শরিক করার মতো গর্হিত অপরাধ। বস্তুত যাবতীয় সাহায্য আসে আল্লাহর তরফ থেকেই। তিনি তাঁর কোনো বান্দার অসিলায় বা মাধ্যমে তা সম্পাদন করান। আল্লাহ যাকে অন্যের উপকার করার ক্ষমতা দেন তারও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। উপকারী ব্যক্তির অন্যের প্রশংসা বা কৃতজ্ঞতা বা প্রতিদান প্রত্যাশা না করা উত্তম। তবে বিপদ থেকে পরিত্রাণ লাভকারী বা উপকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি আল্লাহকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে এবং সেই সঙ্গে উপকারীর প্রতি বিনয় ও কৃতজ্ঞ প্রকাশ করবে তাও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কোনো অবস্থাতেই উপকারী ব্যক্তিকে আল্লাহর শরিক বা বিকল্প সাব্যস্ত করা যাবে না। সুরা আন নিসার ৪৮ ও ১১৬ নম্বর আয়াতে স্পষ্টতই উল্লিখিত হয়েছে : ‘আল্লাহ তাঁর শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেউ আল্লাহকে শরিক করে সে এক মহাপাপ করে।’

লেখক : সরকারের সাবেক সচিব ও এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।




up-arrow