Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৬ জুন, ২০১৬ ২৩:২৯
টুটুলের ঘাড়ে একাই তিন কোপ দিয়েছি
সুমনের স্বীকারোক্তি হ রামকৃষ্ণ মিশনের ধর্মগুরুকে হত্যার হুমকি
বিশেষ প্রতিনিধি
টুটুলের ঘাড়ে একাই তিন কোপ দিয়েছি
সুমন

রাজধানীর মোহাম্মদপুর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুমন হোসেন পাটোয়ারি ওরফে সাকিব ওরফে সিহাব ওরফে সাইফুল নামে এক জঙ্গি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।  বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দরের সামনে ফুটওভার ব্রিজের পাশের বাসস্ট্যান্ড থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। সুমন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম। এ সময় গ্রেফতার হওয়া সুমনের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, শুদ্ধস্বর প্রকাশনায় হামলায় অংশ নেয় ৫ দুর্বৃত্ত। এরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা  টিমের (এবিটি) সদস্য। শুদ্ধস্বরে অপারেশন সফল করতে ঘটনার দুই মাস আগে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে ঢাকায় আনা হয়। সে নিজেই চাপাতি দিয়ে টুটুলের ঘাড়ে তিনটি কোপ দেয়। গত ১৯ মে ঢাকা মহানগর পুলিশের অফিসিয়াল সাইটে ২০ বছরের যুবক সুমনসহ ছয় জঙ্গির ছবি দিয়ে তাদের ধরিয়ে দিতে ১৮ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে সুমনকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল দুই লাখ টাকা। গত বছরের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর লালমাটিয়ায় প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে টুটুলসহ তিনজনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তরা গুলিও করে। ওই হামলায় টুটুল ছাড়া আহত হন কবি তারেক রহিম ও লেখক রণদীপম বসু। একই দিন আজিজ সুপার মার্কেটের জাগৃতি প্রকাশনার অফিসে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় একদিন পরে অর্থাৎ ২ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন শুদ্ধস্বরের মালিক টুটুল। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। এ ছাড়া শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, দুটি হামলাই ঘটিয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা। শুদ্ধস্বরের হামলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল শরিফের ওপর। যাকে ধরতে ডিএমপির পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া জাগৃতির হামলার নেতৃত্বে ছিল সেলিম নামে একজন। এ দুজনই এবিটির তৃতীয় পর্যায়ের নেতা। তিনি বলেন, সুমন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তার বাড়ি চাঁদপুরে হলেও সে বড় হয়েছে চট্টগ্রামের হালিশহরে। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়া করা এই তরুণ আন্দরকিল্লায় একটি মেডিকেল ইকুইপমেন্টের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করে আসছিলেন। সেখান থেকে গত বছরের শুরুর দিকে তাকে এবিটিতে আনা হয়। প্রাথমিক ট্রেনিং তাকে চট্টগ্রামেই দেওয়া হয়। এরপর যখন সে বড় অপারেশনের জন্য দক্ষ হয় তখন শুদ্ধস্বরে হামলা চালানোর জন্য ঢাকায় অনা হয়। তাদের পাঁচজনকে মহাখালীতে একটি বাসায় দেড় মাস রেখে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শুদ্ধস্বরে হামলার দিন পাঁচজনের হাতেই চাপাতি ছিল এবং দুজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। সুমন নিজের চাপাতি দিয়ে শুদ্ধস্বরের মালিক টুটুলেল ঘাড়ে তিনটি আঘাত করে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, সুমন জাগৃতি প্রকাশক দীপন হত্যার ব্যাপারে কিছু জানত না। তবে তার অপারেশন লিডার শরিফ বলেছে তোমরা হত্যা করতে পারলে না। সেলিমের গ্রুপ ঠিকই তাদের অপারেশন সাকসেস করেছে। এ নিয়ে আমাকে সমস্যায় পড়তে হবে। মনিরুল ইসলাম বলেন, দীপন হত্যার ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে অংশ গ্রহণকারী কারও কারও পরিচয় ও ঠিকানা পাওয়া গেছে। তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সুমনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

রামকৃষ্ণ মিশনের ধর্মগুরুকে হত্যার হুমকি : জঙ্গি কায়দায় দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলার মধ্যেই আইএসের নামে চিঠি পাঠিয়ে ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ধর্মগুরুকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ধর্মপ্রচার বন্ধ না করলে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হবে। গত বুধবার দুপুরে হুমকি সংবলিত চিঠিটি রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে আসে। নিরাপত্তা চেয়ে রাতেই মিশনের ওই ধর্মগুরু ওয়ারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এ ঘটনায় মিশনের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাঁড়াশি অভিযানে আরও জঙ্গি গ্রেফতার : দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযানে আরও ১৩ জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন জেএমবি এবং একজন হিযবুত তাহ্রীরের সদস্য। গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এদের গ্রেফতার করা হয়। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর— সাভার : বৃহস্পতিবার ভোররাতে সাভারের হেমায়েতপুর ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছে— পলাশ, সাজ্জাদ ও সেলিম। এদের মধ্যে পলাশ সাভারের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী এ কে এম মুনছুর মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে সাভারের হেমায়েতপুর ও সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে জঙ্গি সন্দেহ ওই তিন যুবককে আটক করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। আটককৃত ব্যক্তিরা সাভারে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা করতে পারে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুরে খ্রিস্টান ধর্মবলম্বীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান। বদরগঞ্জ (রংপুর) : বদরগঞ্জে রাকিবুল ইসলাম রাকিব (৩০) নামে সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বগুড়া : লিফলেট ও জিহাদি বই বিতরণের সময় বগুড়ায় সানাউল ইসলাম ইয়ামিন (২৫) নামে ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সানাউল শিবগঞ্জ উপজেলার চালুঞ্জাহাট এলাকার বাবর আলীর ছেলে এবং বগুড়া শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি। মুন্সীগঞ্জ : পুলিশের বিশেষ অভিযানে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রিগ্যানসহ ৩৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। নোয়াখালী : নোয়াখালীতে জামায়াত-শিবিরের দুজনসহ ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ : নাশকতাবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলায় পুলিশ ৫৯ জনকে আটক করেছে। দিনাজপুর : পুলিশ এক জঙ্গিসহ ৪৯ জনকে আটক করেছে। এ নিয়ে দিনাজপুরে গত এক সপ্তাহে ৪৯১ জনকে আটক করা হলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া : গতকাল ভোরে শহরের মধ্যপাড়া ক্রিয়েটিভ স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক কাজী সিরাজুল ইসলামকে (৫০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার কাছে জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহে ৩৪ জন, গাইবান্ধায় ২৯ জন, পঞ্চগড়ে ২১ জন, নওগাঁয় একজন ও নাটোরে ৪৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow