Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৬ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৫
রিজার্ভ চুরির তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন এজি অফিস
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস তদন্ত শুরু করেছে। এফবিআই, ফায়ারআইয়ের পর গতকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি এই ঘটনার তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্ক ফেডারেল ব্যাংকের সংশ্লিষ্টতা খুঁজে দেখতে এ তদন্ত শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি হওয়া পুরো ব্যাংকিং খাতে হুমকি হিসেবে দেখছে দেশটির অ্যাটর্নি অফিস। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন অ্যাটর্নি কার্যালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স রিজার্ভ চুরির বিষয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। ঘটনার পর প্রায় চার মাস কেটে গেলেও রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের সঙ্গে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। অর্থ চুরি করে নিয়ে যাওয়া ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তার চাকরি গেলেও বাংলাদেশ এখনো কোনো অর্থ ফেরত পায়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস রিজার্ভ চুরি নিয়ে তদন্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুই জানে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আমরা এখন অর্থ উদ্ধার করার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে এফবিআই তদন্ত করছে হ্যাকারদের চিহ্নিত করতে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশও তদন্ত করছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে আন্তর্জাতিক হ্যাকিং চক্র ৮১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়ে যায়। ফেড শুরু থেকে বিষয়টির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে আসছে। ফেডের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ডুডলি ঘটনার জন্য পুরোপুরি বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর দায় চাপান। তবে তিনি তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এ ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সাইবার গোয়েন্দা সংস্থা ফায়ারআইকে তদন্তের জন্য নিয়োগ দেয়। এ ছাড়া এফবিআইকেও তদন্তের জন্য অনুরোধ করা হয়। পৃথকভাবে বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার পর প্রায় চার মাস কেটে গেলেও হ্যাকিংয়ে সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক হ্যাংকিংয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা বা দুর্বলতার কথা অস্বীকার করে এলেও এখন পর্যন্ত তারা নিজেদের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটেও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এখন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস থেকে সাইবার হামলার বিষয়টি উদ্বেগজনক বিবেচনায় তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এফবিআইর সঙ্গে যৌথভাবে তারা ঘটনার তদন্ত করবে। ম্যানহাটন অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের প্রিত ভারারা গণমাধ্যমে বলেছেন, ভিন্ন দেশ থেকে এসে ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ চুরি হয়ে যায় এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এটি আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ ঘটনায় কারা দায়ী তার সঙ্গে যাদের দুর্বলতার কারণে ঘটেছে তা খুঁজে বের করা দরকার।




এই পাতার আরো খবর
up-arrow