Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:১৭
দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ বিএনপি
মাহমুদ আজহার
দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ বিএনপি

সম্প্রতি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতে এখন তাদের শোডাউন-পাল্টা শোডাউন দেখা যায়। বিএনপিতে আলোচনা আছে, শিগগিরই এ দুই সংগঠনের কমিটি দেবেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ নিয়ে সম্প্রতি তিনি দু-এক জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথাও বলেছেন। এ কারণে গুলশান কিংবা নয়াপল্টন দুই কার্যালয়েই যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। তবে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কোনো নড়াচড়া নেই। দলের দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতেই তাদের কিছুটা উপস্থিতি দেখা যায়। বছরজুড়েই থাকেন নিষ্ক্রিয়। কমিটি হওয়ার আগে শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘একসময় বিএনপির প্রাণ ছিল যুবদল, ছাত্রদল ও শ্রমিক দল। আন্দোলনে সংগ্রামে রাজপথে সর্বত্রই তাদের সরব ভূমিকা ছিল। ’৯০-এর দশকে ছাত্রদলের ভূমিকাই ছিল সর্বাগ্রে। এখন পুরো বিপরীত। ক্যাম্পাস কাঁপানো সেই ছাত্রদল এখন নেতিয়ে পড়েছে। যুবদল আছে নামেই। কোনো কার্যক্রম নেই। শ্রমিক দল শুধু গুটিকয় নেতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। এগুলো হলো— ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, জাসাস, কৃষক দল, তাঁতী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, ওলামা দল ও মত্স্যজীবী দল। এ ছাড়া জিয়া পরিষদকেও অঙ্গসংগঠনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পাশাপাশি যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দেওয়ার চিন্তা করছেন বেগম জিয়া। এ নিয়ে তিনি কয়েক নেতার সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সম্প্রতি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন। স্বেচ্ছায় তিনি যুবদল থেকে সরে গেছেন। যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ ও নূরুল ইসলাম নয়নের নাম শোনা যাচ্ছে। আবার শীর্ষ পদে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের নামও আছে। যুবদলের আংশিক কমিটি যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলেরও নতুন কমিটির আলোচনা সর্বত্রই। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবুর মধ্য থেকে একজন সংগঠনের শীর্ষপদ পেতে পারেন। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলীমের নাম বেশ শোনা যাচ্ছে। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূইয়া জুয়েলও রয়েছেন আলোচনায়। তবে বাবু-আলীমের নেতৃত্বে কমিটি হচ্ছে— এমন আলোচনাই এখন নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

জানা যায়, শুধু এ দুই অঙ্গসংগঠনই নয়, ঈদুল ফিতরের পর সব অঙ্গসংগঠনই ঢেলে সাজাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর আগে বিএনপির নির্বাহী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন। মধ্য রমজানের পর যে কোনো সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সেই সঙ্গে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক কমিটিও আসতে পারে যে কোনো সময়।

জানা গেছে, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নেতৃত্বাধীন কমিটি মাঠে কিছুটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিএনপির বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে কমবেশি এ সংগঠনের ভূমিকা ছিল। জানা যায়, কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ না হলেও শ্রমিক দলে এখনো কোন্দল বিরাজ করছে। সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নুরুল ইসলাম খান নাসিমকে শ্রমিক দলের একটি অংশ এখনো মেনে নিতে পারেনি। তবে তাদের সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নেই কৃষক দলের কমিটি। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এখন বিএনপির মহাসচিব। সারা দেশে কৃষক তাদের কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। এ সংগঠনের নেই কোনো কর্মসূচি। মহিলা দলে শিরিন সুলতানাসহ কয়েকজন নেত্রীকে মাঠে সক্রিয় দেখা যায়। মেয়াদোত্তীর্ণ এ সংগঠনটি গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত। জাসাসকেও শুধু দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতেই দেখা যায়। নতুন নতুন শিল্পী বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের আনার কোনো কার্যক্রম নেই। এ সংগঠনের কেন্দ্র ও মহানগর নেতৃত্ব গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত। ছয় বছর আগের কমিটি দিয়েই চলছে এ সংগঠনটি। সূত্রমতে, মুক্তিযোদ্ধা দলও কোন্দলের কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিএনপির কর্মসূচিতেই শুধু এ দলের শীর্ষ দু-এক জন নেতাকে দেখা যায়। মিলাদ মাহফিলেই শুধু দেখা যায় ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হকসহ গুটিকয় নেতাকে। তাদেরও সাংগঠনিক কোনো কর্মকাণ্ড নেই। তাঁতী দল শুধু নামেই। দেশের তাঁতশিল্প ধ্বংসের মুখোমুখি হলেও তাদের কোনো কর্মকাণ্ড নেই। মত্স্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আওয়াল খান এখন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। সংগঠনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহতাব ও সাধারণ সম্পাদক মিলন মেহেদী নামে থাকলেও কোনো কার্যক্রম নেই তাদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল মাহবুবুর রহমান (অব.) বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সবাই এখন তাকিয়ে আছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির দিকে। আশা করছি, শিগগিরই বিএনপির কমিটি হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি দেওয়া হবে। তবে আগামীতে যোগ্যরাই নেতৃত্বে আসবেন বলে আমি মনে করি।’




এই পাতার আরো খবর
up-arrow