Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:১৯
ফাহিম ১০ দিনের রিমান্ডে
আরও কিলিং মিশন ছিল ওদের
বেলাল রিজভী, মাদারীপুর
আরও কিলিং মিশন ছিল ওদের

মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার সময় ধরা পড়া গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম পুলিশকে জানিয়েছে, ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করার জন্যই সে প্রভাষককে কুপিয়ে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছে। সারা পৃথিবীতে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়— এমন একটি সংগঠনের হয়ে সে কাজ করছে।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য দিয়েছে। এমনকি প্রভাষক রিপনকে হত্যার জন্য কারা কারা অংশ নিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর আরও কী কী করার পরিকল্পনা ছিল ইত্যাদিও জানিয়েছে।

ফাইজুল্লাহ জানিয়েছে, প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় দুটি গ্রুপ অংশগ্রহণ করে। এতে সরাসরি অংশ নেয় সে নিজে (গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম), তাকসিন সালমান ওরফে সালিম ও সালিমের আপন ভাই শাহরিয়ার হোসেন পলাশ। বাকিরা ব্যাকআপ টিম হিসেবে কাজ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মাদারীপুরের টার্গেট কিলিং শেষ করে অন্য জেলায় একই ধরনের মিশন সার্থক করা। তবে সে (গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম) জনতার হাতে আটক হওয়ায় এ মিশন ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, হামলাকারীদের টার্গেট নির্ধারণ ছিল দক্ষিণাঞ্চল। সেই মিশনের প্রথম ধাপ ছিল শিক্ষক রিপনের ওপর হামলা। এই মিশনটি বুধবার বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করে হামলাকারীদের বরিশালের উদ্দেশ্যে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জনতার হাতে আটক হওয়ায় ভেস্তে যায় পরবর্তী মিশন। তাদের (ফাহিমদের) কাছে উপরের নির্দেশ এসেছিল— সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ফাহিম। তবে নির্দেশদাতাদের বিস্তারিত তথ্য এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, প্রভাষকের ওপর হামলার ব্যাপারে ফাইজুল্লাহ ফাহিমসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মাদারীপুর সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় ফাইজুল্লাহকে গতকাল দুপুরে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। মাদারীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইদুর রহমান বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসামি গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন। অবশ্য আদালতে এ সময় ফাহিম নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে। এ মামলার অন্য আসামিরা হলো— সালমান তাকসিন ওরফে সালিম (২০), শাহরিয়ার হাসান (২০), মেজবাহ (১৯), রায়হান (২০), জাহিন (২০)। এ ছাড়াও অজ্ঞাতদেরও আসামি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে এসআই আউব আলী বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে ফাইজুল্লাহ ফাহিম জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ধৃত ফাইজুল্লাহ হিযবুত তাহ্রীরের সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অবশ্য পুলিশ বলছে, রিমান্ডে নিয়ে ফাইজুল্লাহকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। কারণ সে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে এক এক সময় এক এক ধরনের তথ্য দিচ্ছে। কখনো সে নিজেকে আইএস সদস্য দাবি করছে, আবার কখনো হিযবুত তাহ্রীর সদস্য দাবি করছে। মাদারীপুর সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ফাইজুল্লাহর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশের একাধিক ইউনিট দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। তবে তার অনেক তথ্যই বিভ্রান্তিমূলক। অভিযানের সময় প্রভাষকের ওপর হামলায় ব্যবহূত একটি চাপাতি ও একটি গ্লোভস উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ফাহিমের কাছে থাকা ব্যাগ এবং তার ব্যবহূত মোবাইল ফোনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, হামলার দিন বুধবার রাত ৩টা থেকে সদর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদের নেতৃত্বে ফাহিমের দেওয়া তথ্য ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে ১২ সদস্যের একটি দল দুই দিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। শেষে বৃহস্পতিবার রাতে ফাহিমকে মাদারীপুরে নিয়ে আসা হয়। এরপর রাত পৌনে ১১টার দিকে ফাহিমকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে পুলিশের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ভাড়া বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow