Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:২৫
ভারতে সেই গুলবার্গ গণহত্যায় ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দীপক দেবনাথ, কলকাতা

গুজরাটের গুলবার্গ হাউসিং সোসাইটি গণহত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ২৪ জনের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছে আহমেদাবাদের বিশেষ আদালত। এদের মধ্যে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার জন্য ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া একজনকে দশ বছর এবং ১২ জনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত ২ জুন এই অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। গতকাল সাজা ঘোষণা করা হয়। ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি ট্রেনে আগুন লেগে ৬০ জন হিন্দু তীর্থযাত্রীর প্রাণহানিকে কেন্দ্র করে দাঙ্গার সূচনা হয়েছিল। ট্রেনে আগুন লাগার জন্য মুসলমানদের দায়ী করা হচ্ছিল।

মুসলমানদের নির্বিচারে খোলা তরবারি দিয়ে কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। ওই সময় আহমেদাবাদের গুলবার্গ হাউসিং সোসাইটিতে হামলা চালায় একদল উন্মত্ত জনতা। হামলা চালানো হয় ওই হাউসিংয়ে বসবাসকারী ২০ হাজার মুসলমানের ওপর। অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয় ওই আবাসনের বেশিরভাগ বাসাতেই। গণহত্যায় নিহত হন সাবেক কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরিসহ ৬৯ জন মুসলমান। তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগ এক কিলোমিটারের মধ্যে থানা থাকলেও ঘটনার সময় দেখা যায়নি পুলিশের। পরে অবশ্য এর মধ্যে পুলিশ ৩৯টি লাশ উদ্ধার করলেও নিখোঁজ ছিল ৩০ জন। ওই ঘটনায় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মুসলমানদের ওপর হামলার সময় তিনি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। আহমেদাবাদের বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা, পুলিস অফিসার ও সচিবের বিরুদ্ধেও সেসময় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। জাকিয়ার আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তদন্তে নামে গুজরাট দাঙ্গার বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে নেমে ৬৬ জনকে অভিযুক্ত করে সিট। অবশেষে ১৪ বছর পর গত ২ জুন এই হত্যাকাণ্ডে ২৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে আহমেদাবাদের বিশেষ আদালত। অন্যদিকে ৩৬ জনকে এই মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। এর মধ্যে আছেন বিজেপি নেতা ও স্থানীয় আসারবা’র কাউন্সিলর বিপিন পাল, আহমেদাবাদ পুরসভার সাবেক কাউন্সিলর মেঘসিং চৌধুরী এবং পুলিশ ইন্সপেক্টর কে জি এর্দা। এদিন সাজা ঘোষণার পর হতাশা প্রকাশ করে জাকিয়া জাফরি বলেন ‘আমি সন্তুষ্ট নই, আমি খুশিও নই। এটা কোনো বিচারই হয়নি, বিষয়টি নিয়ে আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে ফের আলোচনা করব।’




এই পাতার আরো খবর
up-arrow