Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৬ ২২:৩৬
লন্ডনে বসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তারেক : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
লন্ডনে বসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তারেক : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সাংবাদিক ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে অংশ নেন —বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, লন্ডনে বসে এক কুলাঙ্গার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমার ভাগ্নি টিউলিপকে (ব্রিটিশ এমপি) হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হুমকি দিয়ে চিঠিতে  বলেছে, তোর নানাকে হত্যা করেছি। তোকে আর তোর মা-খালাকেও হত্যা করব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিউলিপকে দেওয়া হুমকি শুনে বিএনপি নেত্রীর সেই ‘হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চাই’ হুমকির কথা মনে পড়ে যায়। এর অর্থটা কী? জীবনের তরে শেষ করে দেবে আমাকে। গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা বিএনপি নেত্রীর বড় ছেলে তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে বলেন, তাকে আদর দিয়ে ব্রিটিশ সরকার বসিয়ে রেখেছে। ব্রিটিশ সরকার কেন তাকে আশ্রয় দিয়েছে জানি না। সে ওখানে যাওয়ার পর টিউলিপ হুমকি পাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের দায়িত্ব এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, টিউলিপকে হুমকির পর সেখানে এক ব্রিটিশ এমপিকে (জো কক্স) হত্যার ঘটনা ঘটল। শুধু টিউলিপ নয়, জয়কেও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই এক অফিসারকে কিনে ফেলেছিল জয়কে অপহরণ করে খতম করতে। আর এ ষড়যন্ত্র করেছিল বিএনপিরই নেতারা। এভাবেই দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে চলমান গুপ্তহত্যা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটই যে পরিকল্পিতভাবে এসব গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে মাদারীপুরের ঘটনায় তার প্রমাণ হয়েছে। সেখানে একজন শিক্ষককে হত্যার প্রচেষ্টা করতে গিয়ে এক শিবির কর্মী ধরা পড়ে। জনগণই তাকে ধরেছে, আগামীতেও ধরবে। তাই যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত, হুমকি-ধমকি দেওয়া হোক না কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউই রুখতে পারবে না। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। প্রেসক্লাবে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও সাংবাদিক নেতারা। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে এসেই সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের টেবিলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর ওয়াজেদ, মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বর্তমানের উপদেষ্টা সম্পাদক রাহাত খান, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন প্রমুখ। সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মনজুরুল আহসান বুলবুল, ফরিদা ইয়াসমিন, আবদুল জলিল ভুইয়া, কাজী রফিক, কুদ্দুস আফ্রাদ, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী প্রমুখ। ইফতার শেষে প্রধানমন্ত্রী নামাজ আদায়ের পর সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন, গোলাম সারওয়ার, ফরিদা ইয়াসমিন, শাবান মাহমুদ, আবদুল জলিল ভুইয়া, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, মধূ সুদন মণ্ডল প্রমুখ। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, নেত্রী আপনি নিজে একজন নারী, দেশের শীর্ষ স্থানে নারীর অবস্থান। কিন্তু জাতীয় প্রেসক্লাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ নেই। ফরিদা ইয়াসমিনের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এখানে ক্লাব পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ নেই! আগামীতে যেন প্রেসক্লাবে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়, সেজন্য পদক্ষেপ নিতে নেতাদের নির্দেশনা দেন তিনি। সাংবাদিকদের আবাসন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হলে প্রধানমন্ত্রী ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদকে জায়গা খোঁজার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আপনারা জায়গা খুঁজে বের করেন, আমি আবাসনের ব্যবস্থা করব। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে ঢাকার বাইরে থেকে প্রতিনিধি রাখার দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী আগামীতে কল্যাণ ট্রাস্টে ঢাকার বাইরে প্রতিনিধি রাখার পরামর্শ দেন। জাতীয় প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণের জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের মালিকদের সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী। নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের জন্য মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান শেখ হাসিনা। এর আগে ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। স্বাধীনতা ভোগ করা ভালো, কিন্তু সাংবাদিক সমাজেরও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে যা কিছু করা হয়েছে তা আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের গ্রেফতার না করতে ফৌজদারি আইন সংশোধন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, দুস্থ সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের কোনো সরকার বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিতে সাহস পায়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই আমরা টিভি চ্যানেলকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি, এতে করে বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকসহ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেখ নিলুর বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে গতকাল সকাল ১০টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

up-arrow