Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৬ ২২:৩৭
সরকারের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে পড়ার ভয়ে ক্রসফায়ার : খালেদা
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের দেওয়া তথ্যে অপরাধের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ কারণেই তাদের ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হচ্ছে। কোনো অপরাধী ধরা পড়লে দেখা যায় জেলে নিয়ে যায়। পরে রিমান্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু রিমান্ড থেকে আর সে জেলে বা মা-বাবার কাছে ফেরত যায় না। চলে যায় ক্রসফায়ারে। সে এমন তথ্য দেয় যে, এতে সরকার জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। সেজন্য ক্রসফায়ার। পবিত্র রমজান মাসেও এমন কাজ হচ্ছে। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে হোটেল পূর্বাণীতে জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি—জাগপার ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। চলমান সাঁড়াশি অভিযানে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের বিষয়ে আদালতের নির্দেশ মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি-প্রধান। মূল মঞ্চে খালেদা জিয়ার সঙ্গে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুত্ফর রহমান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি—এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মোস্তফা জামাল হায়দার, জেবেল রহমান গানি, আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মুজিবুর রহমান পেশোয়ারী, আবু তাহের চৌধুরী, গরীবে নেওয়াজ, সাঈদ আহমেদ প্রমুখ ইফতার করেন। বিএনপি নেতাদের মধ্যে লে. জে. মাহবুবুর রহমান (অব.), আ স ম হান্নান শাহ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ অংশ নেন।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, সত্যিকারের হত্যাকারীকে ধরলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে, তাই প্রকৃত অপরাধীদের ধরা হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক ঘটনা ঘটছে, কিন্তু বিচার হয়নি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার কয়েক বছর হলো। কিন্তু এখনো বিচার হয়নি। এর পেছনে বড় কারণ আছে। অপরাধী ধরা পড়ছে, অথচ রিমান্ডে থাকা অবস্থায় ক্রসফায়ারে দেওয়া হচ্ছে। কারণ আটককৃতরা এমন তথ্য দেয় যার সঙ্গে সরকার জড়িয়ে পড়ে। এ তথ্য গোপন করার জন্যই ধৃতদের তারা ক্রসফায়ারে দিয়ে দেয়। বিএনপি-প্রধান বলেন, কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে ধরা যাবে না। অথচ গণহারে নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। দেশে আজ কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। প্রধানমন্ত্রী যিনি আছেন— নামেই তিনি প্রধানমন্ত্রী। এ দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। খালেদা জিয়া বলেন, ‘এখন দেশ আছে কিনা, সেটাই সন্দেহ। একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সত্যিকার অর্থে কোনো অপরাধীর বিচার হয়নি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনিকে হত্যা করা হলো। তখন অনেক হৈচৈ হলো। বলল, চার দিনের মধ্যে হত্যাকারীদের ধরে বিচার করা হবে। আজ কয়েক বছর হয়ে গেল কিছুই হয়নি। এর পেছনে নিশ্চয় বড় কারণ আছে। কারণ, যদি হত্যাকারীদের ধরা হয় সত্য বেরিয়ে আসবে। তাদের কাছে (সাগর-রুনি) সরকারের অপকর্ম, চুরি-দুর্নীতির রেকর্ড ছিল। অনেক তথ্য ছিল। এসব যে কম্পিউটারে ছিল সেটি চুরি করে নিয়ে গেছে। আর কোনো জিনিস চুরি হয়নি। সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ সরকার জনগণের নির্বাচিত নয়। জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে ধরা যাবে না। কিন্তু তারা সে নির্দেশনা মানছে না। এরা আদালতের নির্দেশ মানে না, উল্টো আদেশ দেয় কী করতে হবে-না করতে হবে।’ সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজে দেশ চালাচ্ছেন, নাকি কারও নির্দেশ পালন করছেন— সেই প্রশ্নও তোলেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, দেশে আজ যিনি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে আছেন, তিনি কি প্রধানমন্ত্রী, না অন্য কোনো মন্ত্রী হিসেবে আছেন? দেশের মানুষ মনে করেন, তিনি নামে প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু তিনি নির্দেশ পালন করেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী বলা যায় না।

প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ফাহিমকে ‘হত্যা’: মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে বন্দুকযুদ্ধের নামে ‘হত্যা’ করে সরকার প্রকৃত ঘটনা আড়ালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ বিএনপির। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, ‘সরকার তাকে (ফাহিম) ক্রসফায়ারে হত্যা করল। হত্যা করার মানে হচ্ছে, একটা জিনিসকে সরকার আড়াল করল। প্রকৃত ঘটনাকে সামনে আসতে দেওয়া হলো না। এই যে (ফাহিমকে) রিমান্ডে নিয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে তাদের (জঙ্গি) নেটওয়ার্ক এবং আর কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটন করা যেত।’ গতকাল সকালে মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচরে ‘কথিত’ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন পুলিশের হাতে থাকা একমাত্র সূত্র ‘হিযবুত তাহরীর সদস্য’ ফাহিম। জঙ্গি কায়দায় শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার সময় বুধবার তাকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছিল জনতা। ফাহিম নিহত হওয়ার পর দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ। এ সময় দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সেলিমুজ্জামান  সেলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

up-arrow