Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ জুন, ২০১৬ ২৩:২২
ক্রসফায়ারে সমস্যা সমাধান হবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্রসফায়ারে সমস্যা সমাধান হবে না

ক্রসফায়ার জঙ্গি সমস্যার সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি  বলেন, প্রতিদিনই দেখছি ক্রসফায়ারে জঙ্গি নিহত হচ্ছে। ক্রসফায়ার জঙ্গি সমস্যার সমাধান নয়, বরং আমরা লক্ষ্য করি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এর মধ্য দিয়ে তাদের দুর্বলতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। সংসদে বাজেট অধিবেশনে গতকাল প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। জঙ্গিবাদের উত্থান সম্পর্কে ক্ষমতাসীন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বাংলাদেশে মৌলবাদী অর্থনীতির নিট মুনাফা ২ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। দেশের মূল অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ হলেও মৌলবাদী অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৯ থেকে ১০ শতাংশ। আর এই অর্থেই তারা ধর্মের নামে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য পূর্ণ স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মী টেনে তুলছে। আধুনিক অস্ত্রাগার গড়ে তুলছে। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি অস্ত্রের সাহায্যে এই জঙ্গি গ্রুপ তৈরি হয়েছে। এই জঙ্গি গ্রুপগুলো বর্তমানে গুপ্তহত্যায় মেতে উঠেছে। এরই অজুহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ আমাদের ওপর ‘অ্যাডভাইজরি’ (উপদেশ) চাপিয়ে দিচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে আইএস নেই, তবে তাদের অনুগামী রয়েছে। এই জঙ্গিগোষ্ঠী গত কয়েক মাস ধরে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। তাদের হত্যার শিকার হয়েছে পুরোহিত, যাজক, ভিক্ষু, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোক, গবেষক, শিক্ষক, সমাজের সংখ্যালঘু দুর্বল শ্রেণির মানুষ। জঙ্গিবাদ নিয়ে বিএনপিসহ অন্যদের বিভিন্ন উক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপিসহ কেউ দাবি করছে গণতন্ত্র অনুপস্থিতির কারণে এই জঙ্গিবাদের সৃষ্টি। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই এ দেশে হুজির জন্ম হয়েছিল বিএনপি সংসদের আমলে। নিজামী-মুজাহিদ সাহেবরা সেদিন বাংলাভাই-এর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। এখনো বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এই গুপ্তহত্যার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করছেন। এর অর্থ তারা জঙ্গি থেকে দৃষ্টি অন্যত্র সরিয়ে নিতে চান। তাদের পুরনো রাজনীতি একইভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আমি নবম সংসদেই সব জঙ্গিবাদী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি করেছিলাম। এই সংসদে তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু কোন মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করবে এই অজুহাতে সেটা হিমাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী তত্পরতা কত বাস্তব সেটা আজকে সবাই অনুধাবন করছি। প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বিগত ৪০ বছরে মাত্র কিছু লোকের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে। অর্থনৈতিক সমিতির ভাষ্য অনুযায়ী, ধনীদের মধ্যে একদল সুপার ধনী সৃষ্টি হয়েছে, যারা নিজেরা ধন উৎপাদন করে না, যারা লুটপাট করে জবর-দখল করে সম্পদ আহরণ করছে। এর ফলে অর্থনীতিতে ভারস?াম্য নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আয় বৈষম্য বাড়ছে। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে  বৈষম্য বাড়ছে। অর্থমন্ত্রী বাজেটে সমতার কথা বলেছেন কিন্তু সেটা আমি খুঁজে পাইনি। দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৪ কোটি ৫৫ লাখ। এত সংখ্যক দরিদ্র মানুষ রেখে সমতাভিত্তিক সমাজ কীভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে? তিনি বলেন, রাজস্ব আদায়ের হিসাবে দেখলাম সাধারণ মানুষ ছাড় পায়নি। প্রত্যক্ষ করের চেয়ে পরোক্ষ করের পরিমাণ বেশি। ৩৬ ভাগ প্রত্যক্ষ কর, বাকি অংশ পরোক্ষ কর, এর পুরোটাই সাধারণ মানুষের ওপর এসে বর্তাবে। এ দেশের সোয়া কোটি মানুষের বার্ষিক আয় ৪ লাখ কিন্তু ট্যাক্স দেন মাত্র ১২ লাখ লোক। ১২ লাখের মধ্যে আড়াই লাখের ওপর সাধারণ মানুষ, তারাই বৃহৎ অংশ। ফলে বোঝা যাচ্ছে করের পরিধি বৃদ্ধি না করে যারা কর দিচ্ছে তাদের ওপরই কর চাপানো হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow