Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২২ জুন, ২০১৬ ২৩:১৪
মূল পরিকল্পনায় কাইয়ুম সমন্বয়ে মতিন
ইতালির নাগরিক তাভেলা হত্যায় আগামী সপ্তাহে চার্জশিট
সাখাওয়াত কাওসার
মূল পরিকল্পনায় কাইয়ুম সমন্বয়ে মতিন

‘বড় ভাই’ খ্যাত বিএনপি নেতা ও বাড্ডার সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুমকে মূল পরিকল্পনাকারী এবং তার ভাই এম এ মতিনকে প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যা মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হচ্ছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেবেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। কাইয়ুম ও মতিন দুই ভাই ছাড়াও মামলায় আসামি দেখানো হচ্ছে মোট সাতজনকে। অন্যরা হলেন রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল ওরফে বিদ্যুৎ রাসেল, মিনহাজুল আরিফিন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল ওরফে কালা রাসেল, তামজিদ আহম্মেদ রুবেল ওরফে শুটার রুবেল ও শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফ এবং অস্ত্র সরবরাহকারী বাড্ডার ভাঙ্গারি সোহেল। গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর

গুলশানে ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আইসিসিও নামের একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ  কর্মসূচির প্রকল্প (প্রফিটেবল অপরচুনিটিজ  ফর ফুড সিকিউরিটি) ব্যবস্থাপক ছিলেন। পুলিশের হাত ঘুরে এ মামলার তদন্তভার যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের হাতে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার দিদার আহম্মদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগামী সপ্তাহেই চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হবে। দীর্ঘ এ তদন্তে দেখা গেছে, এর পরিকল্পনাকারী ছিলেন পলাতক বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম। তবে দেশে থেকে পুরো হত্যাকাণ্ডের সমন্বয়ে ছিলেন তার ভাই মতিন। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তাভেলা সিজার হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে ডিবি গ্রেফতার করে রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল ওরফে বিদ্যুৎ রাসেল, মিনহাজুল আরিফিন রাসেল ওরফে ভাগ্নে রাসেল ওরফে কালা রাসেল, তামজিদ আহম্মেদ রুবেল ওরফে শুটার রুবেল ও শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফকে। তারা চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সর্বশেষ এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার এম এ কাইয়ুমের ছোট ভাই মতিনকে। কাইয়ুম বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখান থেকেই কলকাঠি নেড়েছেন বলে দাবি করা হয়। আর অস্ত্র সরবরাহকারী ভাঙ্গারি সোহেল সীমান্ত পার হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে অবস্থান করছেন বলে ইতিমধ্যে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা বলেছিলেন, মতিনই তাদের ভাড়া করেছিলেন। পুলিশ তখন দাবি করেছিল, এদের মধ্যে শুটার রুবেল গুলি করে তাভেলাকে। হত্যার পর রাসেল, মিনহাজুল ও রুবেল মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল থেকে পালায়। কিলিং মিশনে ব্যবহৃত এফজেড ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। সেটির মালিক শরিফ।

তবে এ ব্যাপারে পলাতক এম এ কাইয়ুম মুঠোফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে অবস্থান করছি। এর পরও তদন্ত শুরুর আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হত্যাকারী হিসেবে আমার নাম বলছিলেন। এরপর তার অধীনস্থরা যা করার তা-ই করছেন। যদিও একটি জঙ্গি সংগঠন শুরুতেই এ হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে।’ কাইয়ুমের দাবি, বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে তাকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।




up-arrow