Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ০১:১৪
ছুটির সময় ব্যাংকিং নিয়ে উৎকণ্ঠা
নগদ টাকা রাখা নিয়ে ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত, ছিনতাই ও ডাকাতি বাড়তে পারে
আলী রিয়াজ
ছুটির সময় ব্যাংকিং নিয়ে উৎকণ্ঠা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা নয় দিনের ছুটি থাকবে দেশের সব ব্যাংক। সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় ওই সময় ব্যাংক লেনদেনে নগদ টাকা জমা রাখা নিয়ে ব্যবসায়ীরা শঙ্কিত।

ঈদ মৌসুমে আর্থিক কর্মকাণ্ড অনেক বেশি হওয়ায় তা ব্যাংকে জমা না রাখতে পারলে ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে ছিনতাই ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঈদের বেতন ও বোনাস ঈদের আগে দিয়ে থাকে। ব্যাংক বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীদের বেতন বোনাস দিতে পারবে কিনা সেটা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা ছুটির সময় ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। দেশের শিল্প এলাকা বিশেষ করে গার্মেন্ট সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাংক লেনদেন নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা হলেও বিভিন্ন বিপণি বিতানগুলোর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত দীর্ঘ সময় ব্যাংক ছুটি থাকলে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। প্রতিদিনের নগদ অর্থ জমা করতে না পারলে জীবনের ঝুঁকি থাকে। কারণ এই সময় ছিনতাই, ডাকাতিও বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ীরা ঋণের কিস্তি জমা দিতে পারবে না। ফলে অতিরিক্ত সুদ গুনতে হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এত দীর্ঘ সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে ব্যবসারীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ঈদের মৌসুমে বিভিন্ন খাতের বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। এই বাণিজ্যের নগদ টাকা ব্যবসায়ীরা কোথায় রাখবেন। ব্যাংকে জমা না রাখতে পারলে সেটা নিজের কাছে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ ছাড়া নগদ অর্থ বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাখলে তাতে ডাকাতির ঘটনাও বাড়তে পারে। টাকা নিয়ে বাইরে কোথাও বের হলে ছিনতাইয়ের শিকার হতে পারেন অনেকে। তিনি বলেন, এ ছাড়াও এত দীর্ঘ সময় ব্যাংক বন্ধ থাকায় যারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন তারা কিস্তিও জমা দিতে পারবে না। অনেকে প্রতি সপ্তাহে কিস্তি জমা দেন। সাধারণ ঋণের ক্ষেত্রে ১৬/১৭ শতাংশ সুদ হারে টাকা দিতে হয়। নয় দিন বন্ধ থাকলে অনেকে তা দিতে পারবে না। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হবেন। এ জন্য আমাদের দাবি প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা হলেও সব ব্যাংক শাখা খোলা রাখা হোক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ১ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত দেশের সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। সরকারি ছুটির ঘোষণায় সব ব্যাংকে শাখাগুলোও এ জন্য বন্ধ থাকবে। তবে ছুটির মধ্যে শুধু শিল্প এলাকায় অবস্থিত বিশেষ করে গার্মেন্ট এলাকায় ব্যাংকের শাখাগুলো ২ ও ৩ জুলাই খোলা থাকবে। এ ছাড়া এডি শাখা (বৈদেশিক বাণিজ্য) শাখাগুলোও ওই সময় খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গার্মেন্ট এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় ব্যাংকিং সেবা দেওয়া হবে। তবে দেশের অন্যান্য স্থানের শাখাগুলো বন্ধ থাকবে। ঈদের মৌসুমে সাধারণ বিকিকিনি অনেক বেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন বিপণি বিতান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন করেন ঈদকে ঘিরে। কিন্তু এ বছর ঈদের আগে টানা চার দিন সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকায় উৎকণ্ঠিত। এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত প্রতিদিনের বিকিকিনির অর্থ পর দিন সকালে ব্যাংকে জমা করেন। অনেক প্রতিষ্ঠান সকালে টাকা উত্তোলন করে পণ্য ক্রয় করেন। এ বছর সেটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যে বাণিজ্য করবে সেই টাকা নিজের কাছে রাখতে হবে। এই টাকা হয় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অথবা বাসায় রাখলে ডাকাতির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন। ঈদের দিন বড় বড় মার্কেটগুলো বন্ধ থাকবে। সেই সুযোগে ডাকাতির ঘটনা অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন অনেকে। এ ছাড়া প্রতিদিনের বিকিকিন অর্থ বহন করে নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাইয়ে শিকার হতে পারেন অনেকে। ঈদকে ঘিরে ছিনতাইয়ের ঘটনাও বৃদ্ধি পায় প্রতি বছর। এ বছর আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন অনেকে। গতকালও রাজধানীর হাজারীবাগে দিনদুপুরে এক এনজিও কর্মীকে গুলি করে পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে ছিনতাইকারীরা। অন্যদিকে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ঈদের এক/দুই দিন আগে বেতন-বোনাস প্রদান করেন তাদের কর্মীদের। কিন্তু সেই সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে এ বছর কর্মীদের বেতন-বোনাস দেওয়া সম্ভব হবে কিনা সেটা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান যদি এখন নগদ টাকা উত্তোলন করে নিজের কাছে রাখেন তার নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, আমরা চাইলেও সব ব্যাংক শাখা খোলা রাখতে পারব না। সরকারি ছুটির মধ্যে ব্যাংকও ছুটি থাকবে। তবে আমরা শিল্প এলাকার ও এডি ব্যাংক শাখা আগামী ২ ও ৩ জুলাই খোলা রাখতে নির্দেশ দিয়েছি। আগামী ৪ জুলাইও খোলা রাখা যায় কিনা সেটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তা করছে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলো নিজেদের ব্যবস্থাপনায় কোনো শাখা খোলা রাখতে পারে। অন্যান্য এলাকায় ব্যবসায়ীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বৃহৎ বাণিজ্যিক এলাকায় অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় খোলা রাখবে। এ ছাড়া অনেক ব্যাংকের ফার্স্ট ট্র্যাক সব সময় খোলা থাকে। ফলে আমরা মনে করি, নগদ টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা হবে না। ব্যক্তিগত টাকা উত্তোলনের জন্য এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা রাখা ও নিরাপত্তার জন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow