Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ২৩:২৭
ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন যুক্তরাজ্য
প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরনের পদত্যাগ, শেয়ারবাজার ও পাউন্ডের দরপতন, ইউরোপীয় দেশগুলোতে হতাশা, থাকার পক্ষে স্কটল্যান্ড আয়ারল্যান্ড
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ইউরোপের ২৮ দেশের জোট ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে চার দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। ঐতিহাসিক এক গণভোটে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছে দেশটির অর্ধেকের বেশি নাগরিক। ব্রিটেনের রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল এই সিদ্ধান্ত আসার পর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। চার দেশের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তরাজ্যে দেখা দিয়েছে ভাঙনের সুর। রেকর্ড দরপতন হয়েছে ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের। পড়ে গেছে জ্বালানি তেলের দাম। ব্রিটেনসহ বিশ্ব শেয়ারবাজার হয়েছে অস্থির। চিন্তায় ফেলেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য ২৭ দেশের রাষ্ট্রনায়কদের। ইতিমধ্যেই ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসে দাবি উঠেছে ইইউ ছাড়ার। ব্রিটেনের এ গণরায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পুরো বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশির ভাগ দেশই হয়েছে মর্মাহত। তবে জনরায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যতদ্রুত সম্ভব সম্পর্কচ্ছেদের প্রক্রিয়া শেষ করতে বলেছে ইইউ। অবশ্য প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হওয়া গণভোটের ফলাফল হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। ইইউ ছাড়ার পক্ষে ‘লিভ’ ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ৫১ দশমিক ৯০ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে ইইউতে থাকার পক্ষে ‘রিমেইন’ ব্যালটে ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক ১০ শতাংশ। সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনের চেয়েও বেশি ভোট পড়েছে এবার। মোট ভোটের হার ৭২ দশমিক ২ শতাংশ।    ‘লিভ’ ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ১ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৭৪২ জন। ‘রিমেইন’ অর্থাৎ থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ কোটি ৬১ লাখ ৪১ হাজার ২৪১ জন। ৪১ বছর আগে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটিতে (ইইসি) যোগ দেওয়ার প্রশ্নে গণভোট দিয়েছিল যুক্তরাজ্যবাসী। তাতে ৬৭ শতাংশ ইইসির পক্ষে ভোট দিয়েছিল। ওই ইইসিই পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন—ইইউতে রূপ নেয়। এবার দ্বিধাবিভক্তির মধ্যেই ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রায় এলো গণভোটে।

‘ব্রেক্সিট’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই গণভোটের রায় অনুসারে, ইইউ গঠনের পর প্রথমবারের মতো কোনো দেশ এ জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে, এ গণভোটের ফল কেবল যুক্তরাজ্যের ভাগ্য বদলাবে না, বদলে দেবে ইউরোপকে এবং আগামী প্রজন্মের রাজনীতি। প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়েই। অবশ্য গণভোটের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদ হচ্ছে না যুক্তরাজ্যের। ২০০৯ সালের ১ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়া লিসবন চুক্তিকে বলা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম সাংবিধানিক ভিত্তি। তারই আর্টিক্যাল-ফিফটিতে বলা হয়েছে : কোনো দেশ জোট ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তারপর অন্তত দুই বছর বিচ্ছেদসংক্রান্ত আলোচনা চলতে পারে। অর্থাৎ এই সময়ে ঠিক হবে, যুক্তরাজ্য কোন প্রক্রিয়ায় ইইউ ছাড়বে। অবশ্য বিবিসি বলছে, ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া শেষ হবে না। অবশ্য গণভোটের রায় মানার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। গার্ডিয়ান লিখেছে, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট যেহেতু সার্বভৌম, সেহেতু সরকার গণভোটের রায় বিচারের সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টের হাতে দিতে পারে। আর পার্লামেন্ট চাইলে আর্টিক্যাল-ফিফটি চালু না করার সিদ্ধান্ত দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিচ্ছেদও ঘটবে না। কিন্তু তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ গণভোটের আগেই রায় ঘোষণার পরপরই বিচ্ছেদের আর্টিক্যালে স্বাক্ষর করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন।

পদত্যাগের ঘোষণা ক্যামেরনের : গণভোটের ফল প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে স্ত্রী সামান্থাকে নিয়ে এসে এক টেলিভিশন ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরন। এ সময় কান্না ভেজানো কণ্ঠে তিনি বলেন, কখনো কখনো সময় আসে জনগণকে জিজ্ঞেস করার, তারা কী চায়? ব্রিটিশ জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। তাদের মতামতকে অবশ্যই শ্রদ্ধা জানানো উচিত। ব্রিটেনের জনগণের ইচ্ছা একটি নির্দেশনা, যা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে। যুক্তরাজ্যের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনকে গৌরবের মন্তব্য করে আবেগাক্রান্ত ক্যামেরন বলেন, এই জাহাজের এখন একজন নতুন ক্যাপ্টেন লাগবে। অক্টোবরে রক্ষণশীল দলের সম্মেলনে দায়িত্ব নতুন কারও কাছে হস্তান্তর করবেন বলে ঘোষণা দেন ক্যামেরন। পরে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করতে যান প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর খবর : মূলত ইউকে ইনডিপেনডেন্স পার্টির চাপের মুখেই ইউরোপের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোট ছাড়ার গণভোটের দিকে যেতে হয় ক্যামেরনকে। যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় জোট থেকে বের করে আনার লক্ষ্যে কিছু ডানপন্থি রাজনীতিবিদের উদ্যোগে ১৯৯১ সালে গঠিত হয় ইউকে ইনডিপেনডেন্স পার্টি। ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ে এই দল বেশ পরিচিতিও পায়। ২০১৩ সালে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বে দলটি স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে সাফল্য পায় এবং প্রতিনিধিত্বের বিচারে যুক্তরাজ্যের চতুর্থ শক্তিশালী দলে পরিণত হয়। ইনডিপেনডেন্স পার্টির এ উত্থান ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। কনজারভেটিভ সমর্থকদের অনেকেই ইনডিপেনডেন্স পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এমনকি একজন এমপিও এক পর্যায়ে দল বদলে ইনডিপেনডেন্স পার্টিতে যোগ দেন। এরপর ইনডিপেনডেন্স পার্টির ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী পচার আরও জোর পায়। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কনজারভেটিভদের প্রতি সমর্থনের ঘাটতি দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে অনেকটা চাপের মুখেই ইইউ প্রশ্নে গণভোটের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হন কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরন। গণভোটের ঘোষণা দিয়েই গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসেছিলেন ৪৯ বছর বয়সী ক্যামেরন। ক্যামেরন গণভোটে ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নিলেও তার দলের অনেক নেতা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৮৪ জন এমপি ভোটে হারলেও ক্যামেরনকে প্রধানমন্ত্রিত্ব না ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। বিরোধী লেবার পার্টির অনেকে ক্যামেরনের পদত্যাগ চাইলেও দলটির প্রধান জেরমি করবিন বলেছিলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একান্তই প্রধানমন্ত্রীর। এখন নিজেই সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন ক্যামেরন।

বিশ্ববাজারে ধাক্কা : ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়াটা গণভোটে নিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থবাজার বড় ধরনের ঝাঁকুনি খেয়েছে। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের নাটকীয় দরপতন হয়েছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে এটা সবচেয়ে বড় ঝাঁকুনি। কারণ পাউন্ডের ইতিহাসে ডলারের বিপরীতে এক দিনে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে এদিন। পাউন্ডের দর ১০ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩৩০৫ ডলারে নেমে এসেছে এক দিনেই। পাউন্ডের এই আকস্মিক দরপতনে লন্ডনের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক এফটিএসই ১০০ দরপতন নিয়ে দিন শুরু করবে, যাতে ৭ শতাংশ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। শুধু লন্ডন নয়, ইউরোপজুড়ে শেয়ারবাজারগুলো ব্যাপক দরপতন নিয়েই চালু হবে। ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের এফটিএসই ফিউচার্স ও জার্মানির ড্যাক্স ফিউচার্স প্রায় ৯ শতাংশ দর হারিয়েছে। পাউন্ডের দর কমায় বিদেশ থেকে আমদানিতে বেশি পাউন্ড গুনতে হবে ব্রিটেনকে; অন্যদিকে পণ্যের দাম সস্তা হওয়ায় লাভবান হবেন দেশটির রপ্তানিকারকরা। পাউন্ডের দরপতনের চাপে ইউরোর দরও ডলারের বিপরীতে কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ইউরো চালুর পর এক দিনে সর্বোচ্চ দরপতন। ধাক্কা খেয়েছে এশিয়াও। জাপানের শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। সুনামির দিনের পর এটাই সর্বোচ্চ পতন। দক্ষিণ কোরিয়ায় কমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ, চীনে ১ দশমিক ২ শতাংশ, হংকংয়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভারতের মুম্বাইয়ে কমেছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বড় পরিবর্তনের পথে যুক্তরাজ্য : শেষ পর্যন্ত ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংবিধানিক ও কূটনৈতিকভাবে দীর্ঘ সময়জুড়ে বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে যুক্তরাজ্যকে। বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রে যুক্তরাজ্যকে আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এক করে দেখানো হবে না। একইভাবে ব্রিটিশ রাজনীতির দাবার ছকেও নতুন করে সাজাতে হবে ঘুঁটি। ডাউনিং স্ট্রিট, ব্যবসা, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ এবং পররাষ্ট্রনীতির কাঠামোতেও ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসবে। যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ইইউ বাজারে সব ধরনের ব্রিটিশ পণ্যের ওপর শুল্ক বসবে। যুক্তরাজ্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে কোন শুল্ক কাঠামোয় বাণিজ্য করবে, তাও নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে, কেননা এতদিন তারা ইইউর নিয়মই অনুসরণ করে আসছিল। বিচ্ছেদের পর ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকরা আর যুক্তরাজ্যে এসে অবাধে বসবাস বা কাজের সুযোগ পাবেন না। এখন যে ইইউ নাগরিকরা ব্রিটেনে কাজ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে।

স্বাধীনতা চাইতে পারে স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ড : গণভোটের পর এখন ইউনাইটেড কিংডম অব গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যও টিকে থাকবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিভেদ তৈরির শঙ্কা হয়েছে স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের মধ্যে। কারণ ভোটের মানচিত্রে দেখা যায়, গোটা যুক্তরাজ্যের উত্তরাংশ ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, বিপরীতে দেশের দক্ষিণের প্রায় পুরো অংশ এ জোট ছাড়ার পক্ষে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিচ্ছেদপন্থিরা জয়ী হলেও স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এর মধ্যে স্কটল্যান্ড দুই বছর আগেই স্বাধীনতা প্রশ্নে এক গণভোটে ১০ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে যুক্তরাজ্যে থাকার পক্ষের অংশ জয়ী হয়েছিল। এখন স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোটের সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে বহু দশক ধরে স্বাধীন আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার দাবিতে সশস্ত্র সংগ্রাম চলেছে। যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অংশ হওয়ার পর এ ব্যাপারটা অনেক কমে এসেছিল। সেই পুরনো দাবিগুলো এবার আবারও উঠবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ স্কটল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিকোলা স্টারজন বলেছেন, দুই বছর আগে যে পরিস্থিতিতে প্রথম গণভোট হয়েছিল তা এখন পুরো পাল্টে গেছে। তাই যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে গিয়ে স্বাধীন হওয়ার জন্য আরও একটি গণভোট করতে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছি। উত্তর আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী দল শিন ফেইনও বলেছে, আইরিশ প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রশ্নে একটি গণভোট করার পক্ষে এখন শক্ত যুক্তি রয়েছে।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া : গণভোটের ফলাফল প্রকাশের পর পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ বলেছেন, আমরা এ ফলাফলকে সম্মান জানাই। আমরা পরিষ্কার হলাম যুক্তরাজ্য তার নিজের পথে যাবে। এখন আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করার সময়। ডেভিড ক্যামেরনের নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে, ইইউর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের ফ্রিডম পার্টির নেতা গ্রিট ওয়াইল্ডার বলেন, হুররে ব্রিটিশ! এখন আমাদের পালা। এখন সময় ডাচ গণভোটের। ফ্রান্সের ডানপন্থি ফ্রন্টের (এফএন) নেতা ম্যারিন লি পেন বলেন, স্বাধীনতার জয়! অনেক বছর ধরেই আমি যেমনটা দাবি করে এসেছি, এখন ফ্রান্সেও একই গণভোটের প্রয়োজন এবং যেমনটা প্রয়োজন ইইউভুক্ত সব দেশেই। ইতালির অভিবাসনবিরোধী নর্দান লিগের নেতা মাত্তেও সালভিনি উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, হুররে মুক্ত নাগরিক হওয়ার সাহস! হৃদয়, মগজ এবং গৌরব পরাজিত করল মিথ্যা, হুমকি এবং ব্ল্যাকমেইলকে। ধন্যবাদ ইউকে, এবার আমাদের পালা। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল বলেন, ইইউ সদস্যদের অগ্রাধিকার এবং ইউরোপের নয়া ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আলোচনা করা প্রয়োজন। আইরিশ সরকার জানিয়েছে, এ ফলাফল আয়ারল্যান্ড, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলাফল বিষয়ে সরকার বৈঠক করবে। ওই বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে বিবৃতি দেবেন। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টেইনমেয়ার বলেন, ইউরোপ এবং ব্রিটেনের জন্য দিনটি শোকের বলেই মনে হচ্ছে। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইটোল্ড ওয়াসজিকক্সি বলেন, ব্রেক্সিট ব্রিটেন এবং ইউরোপের জন্য খারাপ খবর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, এটা বিশ্বের জন্য বড় ধাক্কা। রাশিয়ার সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, ইউরোপের জোটের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করে রাশিয়া। এ কারণে আমরা সবার ঐক্য দেখার আশার করি।

পরবর্তী সম্ভাব্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন : ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লন্ডনের সাবেক মেয়র ও কনজারভেটিভ পার্টির নেতা বরিস জনসন। তালিকায় আরও আছেন ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী জর্জ অসবর্ন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে ও বিচারবিষয়কমন্ত্রী মাইকেল গোভ।

up-arrow