Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ২৩:২৮
বাংলাদেশ ও প্রবাসী ব্রিটিশদের ওপর কী প্রভাব পড়বে
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও প্রবাসী ব্রিটিশদের ওপর কী প্রভাব পড়বে
ডেভিড ক্যামেরন

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়া প্রক্রিয়া বাংলাদেশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন এমপি ভবিষ্যতে শঙ্কার কথা বললেও বেশির ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশি একে অধিকার আদায়ের পথ মনে করেন। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলছেন, এর মাধ্যমে তাদের মালিকানার রেস্টুরেন্টে চাকরি নিয়ে বাংলাদেশিদের যাওয়ার বন্ধ পথ খুলে যাবে। তবে ঢাকার কূটনীতিক ও বাণিজ্যিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে নতুন করে চ্যালেঞ্জে পড়বে। সেই সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত যে বাজার-সুবিধা পায়, তার জন্য এবং অন্যান্য বিষয়াদিতে নতুন করে দর-কষাকষি শুরু করতে হবে। জানা যায়, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন এমপি— রুশনারা আলী, রুপা হক ও টিউলিপ সিদ্দিকও যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাখার পক্ষে। বাঙালি প্রবাসীদের বেশির ভাগই ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে। ঢাকার একটি বার্তা সংস্থার তথ্যানুসারে, ব্রিটেনজুড়ে ৫২ শতাংশ ভোটার ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রাধান্য থাকা টাওয়ার হ্যামলেট এলাকার ভোটাররা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৭.৪৬% নাগরিক ইউনিয়নে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে। আর ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩২.৫৪ শতাংশ। ইউরোপ থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে শক্ত প্রচারণা চালানো ব্রিটেনে বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠন ক্যাটারার্স অ্যাসেসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট পাশা খন্দকার বলেছেন, ব্রিটেনের ইতালিয়ান কিংবা স্প্যানিশ রেন্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা তাদের নিজ দেশ থেকে কর্মী নেওয়ার সুযোগ থাকলেও কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছিলেন। বৈষম্যমূলক ইমিগ্রেশন নীতির কারণে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শেফ নিয়োগ দিতে পারছিলেন না রেস্টুরেন্ট মালিকরা। ফলে অনেককে রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিতে হয়েছে। এখন ব্রিটেনে পয়েন্ট বেইজড ইমিগ্রেশন পদ্ধতি চালু হলে কর্মী সংকট মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি আরও সহজ হবে। এ ছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত নাগরিকদের জন্য ব্রিটেনের এথনিক মাইনরিটি কমিউনিটি কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। অপেক্ষাকৃত কম দক্ষতাসম্পন্ন ইইউ নাগরিকরা কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকদের তুলনায় বেশি সুযোগ পেয়ে আসছে। ব্রিটেনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম এমপি রুশনারা আলী বলেছেন, যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে দক্ষ অভিবাসী আনার আইনগত কড়াকড়ি ইইউতে থাকা বা না থাকার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এটি ক্ষমতাসীন দলের ইমিগ্রেশন নীতির একটি ভুল পলিসি। ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক চেয়ারম্যান শাহগীর বখত ফারুক মনে করেন, ইউরোপে থাকলে বাংলাদেশি কমিউনিটি ইমিগ্রেশন ইস্যুতে আরও বেশি সুবিধা পেত। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের রায়ের কারণে বাংলাদেশি নাগরিকরা এসাইলামসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে ব্রিটেনে থাকার সুযোগ পেতেন। এখন সেই সুযোগ তারা আর পাবেন না। পিতৃত্বকালীন ছুটি থেকেও তারা এখন বঞ্চিত হবেন। রেস্টুরেন্ট কর্মী সংকট প্রসঙ্গে শাহগীর বখত ফারুক বলেন, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের দ্বারাই রেস্টুরেন্টের সংকট মোকাবিলা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের ব্রিটিশ সমাজের সঙ্গে আরও বেশি একাত্ম হতে হবে। ঢাকার কূটনৈতিক ও বাণিজ্যের সূত্রের খবর, বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে গণরায় এলেও আরও কমপক্ষে দুই বছর ইইউয়ে থাকছে ব্রিটেন। সেই হিসাবে এই সময়কালে বাজার সুবিধার ক্ষেত্রে ইইউর সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। তবে দুই বছর পর ইবিএ কর্মসূচির আওতায় ইউরোপের দেশগুলোতে পাওয়া শুল্কমুক্ত সুবিধার অনুরূপ কোনো সুবিধা ব্রিটেনে পেতে নতুন করে দর-কষাকষি শুরু করতে হবে। তা না হলে প্রায় আড়াইশ কোটি পাউন্ডের রপ্তানির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে। প্রভাব পড়বে বৈদেশিক সাহায্য, মুদ্রা বিনিময় ও পরিবহন সেবাসহ নানা ক্ষেত্রে। ব্রিটেনের কারণে ইউরোর পতন ঘটলে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাতে পারে।

up-arrow