Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ২৩:৩২
ইতেকাফ
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ
ইতেকাফ

মাহে রমজানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতেকাফ। ইতেকাফের শাব্দিক অর্থ অবস্থান করা।

শরিয়াতের পরিভাষায় ‘ইতেকাফ’ বলা হয়— পুরুষের জন্য নিয়তসহ এমন মসজিদে অবস্থান করা যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আর মহিলাদের রমজানের শেষ ১০ দিনের জন্য ইতেকাফ হলো— নিয়তসহ ঘরের ভিতর নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অবস্থান করা। রসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিনে ইতেকাফ করতেন। ইতেকাফ করা সুন্নাতে কিফায়া। সবার পক্ষ থেকে একজন আদায় করলে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। আর একজনও না করলে মহল্লার সবাই গুনাগার হবে। রমজানের ২০ তারিখ আসরের নামাজের পর থেকে মসজিদে প্রবেশ করতে হয়, যা সুন্নাতে মোয়াক্কাদা। ২৯ বা ৩০ তারিখ শাওয়ালের চাঁদ দেখার পর মাগরিবের আগে ইতেকাফ শেষ করতে হয়। ১০ দিন ইতিকাফ করা সম্ভব না হলে শেষের এক দিন ইতেকাফ করা যায়। ইতেকাফ সহি হওয়ার শর্ত হলো— মুসলমান হওয়া, জ্ঞানবান হওয়া, জানাবাত এবং হায়িজ ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়া। ইতেকাফের অবস্থায় নেকের কথা ছাড়া অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা। ইতিকাফের অবস্থায় কোরআন মজিদ তিলাওয়াত করা, হাদিস পাঠ করা, ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া, রসুলুল্লাহ (সা.) ও অন্যান্য নবীর সিরাত পাঠ করা ও ধর্মীয় গ্রন্থাদি লেখা সিদ্ধ। ইতেকাফকারী আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিমিত্ত নিজেকে সম্পূর্ণরূপে তার ইবাদতে নিয়োজিত রাখবে এবং দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে দূরে থাকবে। এ সময় স্ত্রীসংস্রবও নিষিদ্ধ। আল্লাহ রব্বুল আলামিনের নির্দেশ : ‘আর তোমরা যখন মসজিদে ইতেকাফ করবে তখন স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৭)। সৈয়দ কুতুব শহীদ তার তাফসির ‘ফি জিলালিল কোরআন’-এ এ নির্দেশনা সম্পর্কে ব্যাখ্যায় বলেছেন, (ইতিকাফের) সময়টি একান্তভাবে আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের জন্যই নির্দিষ্ট, আর এ কারণে রোজার মাসে অন্য সময়ে রাতে স্ত্রীসম্ভোগ বৈধ হলেও ইতেকাফের সময় স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে; যাতে পরিপূর্ণভাবে এই সময়ে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করা যায়। ইতেকাফের জন্য নিয়ত করা ইতেকাফের শর্ত। বিনা নিয়তে ইতেকাফ করলে সহি হবে না। এমন মসজিদে ইতেকাফ করা উচিত যেখানে নামাজের জামাত হয়। ইতেকাফের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান হলো মসজিদুল হারাম, এরপর মসজিদে নববী (সা.), তারপর বায়তুল মুকাদ্দাস, তারপর জামে মসজিদ এবং এরপর যে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বেশি। মসজিদে ইতেকাফের নিয়তের সঙ্গে অবস্থান করাই উত্তম। বিনা কারণে মসজিদ থেকে বের হলে ইতেকাফ ভঙ্গ হবে। বিনা ওজরে দিনে বা রাতে সামান্য সময়ের জন্য মসজিদ থেকে বের হলেও, ইচ্ছা কিংবা ভুল করে, ইতেকাফ ভঙ্গ হবে। একইভাবে মহিলা তার ঘরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের হবে না। তবে প্রস্রাব, পায়খানা ও জুমার নামাজ আদায় ইত্যাদি ওজরের কারণে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। ইতেকাফের স্থানেই ঘুম ও পানাহার বিধেয়। এর জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। মসজিদ ভেঙে যাওয়ার কারণে কিংবা জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার কারণে ইতেকাফকারী ব্যক্তি যদি মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য মসজিদে সঙ্গে সঙ্গে চলে যায়, তবে এর ফলে ইতেকাফ ফাসিদ বা ভঙ্গ হবে না। জান বা মালের ক্ষতির আশঙ্কা হলে একই বিধান প্রযোজ্য হবে। অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করার জন্য, কোনো মৃত ব্যক্তিকে দেখার উদ্দেশ্যে কিংবা তার জানাজা আদায়ের জন্য ইতেকাফ থেকে বের হলে ইতেকাফ ফাসিদ হয়ে যাবে। তবে কেউ ইতেকাফের নিয়তের সময় যদি রোগীর সেবা, জানাজা নামাজ ও ইলমের মজলিসে যাওয়ার মানত করা হয় তাহলে এসব তার জন্য জায়িজ হবে। ইতেকাফকারী ব্যক্তি মুয়াজ্জিন হোক বা অন্য কেউ— মিনারে, এমনকি মিনার মসজিদের বাইরে হলেও, আরোহণ করলে ইতেকাফ ফাসিদ হবে না।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow